জনগণের মুক্তির প্রশ্নে আপোসহীন থেকে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন বঙ্গবন্ধু : স্পিকার

370

ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০১৯ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, জনগণের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপোসহীন থেকে আমৃত্যু লড়াই-সংগ্রাম করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত না করে তিনি অসীম সাহসিতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন স্বাধীনতা।
তিনি আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত মহান স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৯-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু জনগণের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপোষহীন থেকে আমৃত্যু লড়াই সংগ্রাম করেছেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে স্পষ্টতই প্রতীয়মান স্বাধীন বাংলার ইতিহাসের প্রাণ পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতার ভিত রচনার মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
স্পিকার বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিকৃষ্টতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল । এই নিকৃষ্টতম হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি কালো অধ্যায় থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। যাদের বিচারের রায় কার্যকর করা যায়নি, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। বাঙালির প্রতি তাঁর ছিল অক্ষয় ভালবাসা। জনগণকে শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতেই আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও বাঙালির অধিকার আদায়ে সোচ্চার থেকেছেন।
স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল সূচকে উন্নয়নের রোল মডেল।
ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস এমপি বলেন, অসীম সাহস, জাতির প্রতি অঘাধ ভালোবাস ও বিশ্বাস এবং দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু বাংলার স্বাধীনতা এনে দিতে পেরেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং লক্ষ্যে অর্জণের ক্ষেত্রে এমন বিশ্বাস ছিল যে তিনি বার বার বলেছিলেন ,‘ আমি মরে গেলেও এ দেশ স্বাধীন হবে।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্রে কুশীলবদের মধ্যে জিয়াউর রহমান অন্যতম ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি এজন্য জিয়াউর রহমানের মরনোত্তর বিচার দাবি করছি।’
পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিচারপতি এএফএম মেসবাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এটর্ণী জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস এমপি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সনাল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল , জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব ওমর ফারুক এবং সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন বক্তব্য রাখেন।