বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) : দুর্বল অর্থনীতির মূল উদ্বেগ নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব

233

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি)
প্রধানমন্ত্রী-প্যানেল আলোচনা
দুর্বল অর্থনীতির মূল উদ্বেগ নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব

এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে চীনের ঋণ প্রদান বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বৈদেশিক ঋণ মোট জিডিপি’র ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এটা শক্তিশালী অর্থনীতির একটি লক্ষণ। চীন আমাদের অবকাঠামোগত কিছু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ নদীর উপর ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার সেতু নির্মাণে চীনা কোম্পানি নিয়োগ করা হয়েছে।
এবং এর সম্পূর্ণ তহবিল যোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। অনেক মানুষ ‘ঋণের ফাঁদ’ নিয়ে কথা বলেন। আমার সোজা কথা। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মেগা প্রকল্পগুলোয় জনগণের স্বার্থ রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ এবং সঠিকভাবে এতদসংক্রান্ত আলোচনার অধিকার রয়েছে এবং এ নিয়ে আমাদের দুঃশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের গত ১০ বছরে আমি চেষ্টা করেছি, আমাদের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন আকাক্সক্ষাকে বিশ্বময় আমাদের বন্ধুদের কাছে এক ভারসাম্যময় ও লক্ষ্যভিত্তিক উপায়ে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য। আমি সবসময় এটা পরিষ্কার করে রেখেছি যে, বাংলাদেশ সামরিক কোন উচ্চাকাক্সক্ষার প্রশ্রয় দেয় না। এটি আমাদের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিরোধী।
এর আগে আমাদের সরকারের গত টার্মে (২০১৪-১৮) আমরা সাবলিলভাবে ভারত-চীন-জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছি।
তিনি বলেন, একটি দ্রুত বিকাশমান অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রত্যেক বন্ধু রাষ্ট্রকেই প্রয়োজন এবং অবশ্যই কাউকে বাদ দিয়ে নয়।
আমাদের প্রতিটি বন্ধুর মাঝেই দক্ষতা ও আগ্রহ রয়েছে। আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হওয়ায় আমরা যা কিছু অর্জন করবো, সবটুকুই জনগণের কল্যাণে আসবে।
যেমন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক শুধু মাত্র কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের প্রাণের সম্পর্ক। তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার জন্য আমরা একসঙ্গে রক্ত দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও ভালো। আমাদের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে চীন আমাদের সঙ্গী। শুধুমাত্র ওডিএ অংশিদার ছাড়াও, জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক।
রাশিয়াও আমাদের সঙ্গী যারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, এখন তারা আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে সহায়তা করছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশের আরসিইপি-এ (রিজিওনাল কমপ্রেহেন্সিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ) অথবা সিপিটিপিপি (কমপ্রেহেন্সিভ এন্ড প্রগ্রেসিভ এগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) যোগদান সম্ভাব্য সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, মধ্য ৯০-এর দশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছিল অন্যতম দ্রুত অর্থনীতি উদারিকরণের দেশ।
আমরা তখন এলডিসি এবং ছোট অর্থনীতি রাষ্ট্র ছিলাম। ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা সত্ব্যেও আমরা উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছি। আমরা উপলব্ধি করেছি যে, ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্য আশেপাশের দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বের সাথে দ্রুত যোগাযোগ রক্ষাটা জরুরি।
এখন থেকে দশ বছর পর বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হবে। এর জন্য আমাদের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা আমরা সংশোধন করতে প্রস্তুত। সুতরাং উন্মুক্ত আঞ্চলিকতার পক্ষে আমরা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে ভারত, জাপান, চীন এবং আরো অনেকের সঙ্গে কাজ করছে। এ কারণে আমরা লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বিসিআইএম-ইসি এর পাশাপাশি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথে এগোচ্ছি।
মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটির জন্য কিছু দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এফটিএ’র লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।
আমাদের আয়তন-অবস্থান-প্রকৃতি-কাঠামোগতভাবে বাংলাদেশ আরসিইপি এ যোগ দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরো বলেন, আমরা আশিয়ানের অংশিদারিত্বের জন্যও যোগাযোগ করছি।
বাসস/এসএইচ/এসই/২২৩০/কেএমকে