উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে : সরকারি দল

249

সংসদ ভবন, ২৪ জুন, ২০১৯ (বাসস) : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে গত ১০ বছর বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়নের ফলে উন্নয়নে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন এক অনন্য বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন শেষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ,হ.ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার ষষ্ঠ দিনে আজ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, সরকারি দলের আব্দুল মতিন খসরু, সাবের হোসেন চৌধুরী, ইউনুস আলী সরকার, ধীরেন্দ্র দেব নাথ সম্ভু, শাহে আলম, মনোরঞ্জনশীল গোপাল, মাহফুজুর রহমান, মমতাজ বেগম, জাসদের হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, বিএপির আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, বিকল্প ধারা বাংলাদেশর এর মাহি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা সরকারের উদ্দেশ্য। সম্পদ সীমিত হওয়া সত্ত্বেও যোগ্য বিবেচিত ৪টি নীতিমালার ভিত্তিতে সকল প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তেৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।
তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে মানোন্নয়নের জন্য ভাষা, গণিত, আইসিটি, কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সাথে দেশপ্রেম, মানবতা, সততা, নৈতিকতা, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সচেতনতার বিষয়গুলোকে অন্তর্ভূক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকার ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মনিটরিংয়েরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বিএনপি’র একজন সদস্য বাংলাদেশকে বলেন মৃত্যু উপত্যকা, এটি ঠিক নয়। যখন তারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, এই বাংলাদেশকে মৃত্যু উপত্যকা বানানোর অপচেষ্টা করেছিল, তখন দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সরকার তা রুখে দিয়েছিল। তাই তাদের এতো আপত্তি।’
২০০১ এর নির্বাচন পরবর্তী ফাহিমা, মহিমা, পূর্ণিমা ধর্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সারাদেশে নারী ধর্ষিত হয়েছিল।
ঋণ খেলাপী সম্পর্কে বিএনপি’র বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপীর সংস্কৃতি এদেশে বিএনপি চালু করেছিল। তাদের নেতা জিয়াউর রহমান বলেছিলেন-‘মানি ইজ নো প্রোবলেম’।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিএনপি’র আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় প্রত্যেকটি আদালতের বিচারক বিব্রতবোধ করেছিলেন। এরা প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছিল। বন্দুকের খোঁচায় যারা সংবিধানকে বারবার ক্ষত-বিক্ষত করেছে, এদের মুখে আইনের শাসনের কথা মানায় না।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার রহিত করতে বিএনপি ইন্ডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল। তারা হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় আওয়ামী লীগের শতশত নেতাকর্মী হত্যা ও নির্যাতন করেছে, ইন্ডেমনিটি দিয়ে এদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। অথচ তারা এখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের কথা বলছেন।
তিনি বলেন, বাজেটের টাকায় কাজ হয় বলেই আজ বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হচ্ছে। বাজেটের টাকা হাওয়া ভবন বা খোয়াব ভবন অথবা লন্ডনে যায় না।
ডা. দীপু মনি বলেন, ভোটার তালিকায় ১ কোটি ৩০ লাখ ভূয়া ভোটার অন্তর্ভূক্তি, হাঁ-না ভোট, মাগুরা, বগুড়া, ঢাকা-১০ এর নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশনের কথা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। অতএব তাদের মুখে নির্বাচনের কারচুপির কথা মানায় না। ৫টি হোন্ডা আর ১০ জন গুন্ডার নির্বাচনের দিন আর এখন নেই। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এসবই শেখ হাসিনার আন্দোলন সংগ্রামের ফসল।
নারীর প্রতি সহিংসতার আইন সংশোধন করে বিএনপি সরকার শাস্তি লঘু করে দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যুব সমাজের কথা বলেন, অথচ তাদের নেতা জিয়াউর রহমান তরুনদের প্রমোদ ভ্রমণে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। তারেক-কোকো মাদক, অর্থপাচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের লালন-পালনকর্তা। আর আমরা আমাদের তরুনদের সামনে কাদের দেখি, সজিব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। যারা মানবতার জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্যে কাজ করে এই দেশের উন্নতিতে অবদান রাখছেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জাসদের হাসানুল হক ইনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এ সরকার বিগত ১০ বছর ধরে বড় আকারের বাজেট পেশ ও সফলভাবে বাস্তবায়নের দক্ষতা দেখিয়ে এবারো আগামী অর্থবছরের জন্য বিশাল আকারের বাজেট দিয়েছে। এ বাজেটও সরকার সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, জঙ্গীবাদের ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে এবার যে বাজেট দেয়া হয়েছে তা ২০২১ সালের লক্ষ্য অর্জন ও ’৪১ সালের লক্ষ্য অর্জনের পথকে আরো সম্প্রসারিত করবে। তবে এ জন্য জঙ্গীবাদের ফাঁক-ফোকড় বন্ধ করে শান্তির রাজনৈতিক ধারা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আটকে থাকা বিশাল অংকের খেলাপী ঋণ আদায়, কর ফাঁকি রোধ, দুর্নিিতর মুলোৎপাটন করতে হবে।
তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিমহ জনসম্পৃক্ত খাতগুলোর বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি মোবইল সিম, কলরেটে , স্মার্ট ফোন সেটে এবং সঞ্চয় পত্রের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রস্তাব প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। সাথে সাথে আয়করযোগ্য ব্যক্তি আয়ের সিলিং আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ করার সুপারিশ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সূচিত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ে উন্নত-সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রস্তাবিত বাজেট দেয়া হয়েছে। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, গ্রাম-শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সর্বোপরি দেশের সব মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে সব খাতে সঠিকভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তারা বলেন, বর্তমান সরকার বিগত ১০ বছরে দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। উন্নয়নে বিশ্বে এখন অনন্য বিস্ময় হিসাবে আর্বিভূত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়ন করে এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছে।
তারা বলেন, আর এ জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অতি সম্প্রতি বলেছে এশিয়া প্যাসিফিক এলাকার ৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে, যা আগামী দিনেও এটা অব্যাহত থাকবে।
তারা বলেন, খেলাপী ঋণের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বিএনপির আমলে। ২০০৩ সালে খেলাপী ঋণ ছিল ২৮ শতাংশ। বর্তমানে এর পরিমান ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার খেলাপী ঋণ আদায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আশা করা যায় খেলাপী ঋণের পরিমান কমে আসবে।

image_printPrint