ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ২০, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : আসাদের আত্মত্যাগে স্বাধীনতা আন্দোলন আরো গতিশীল হয় : প্রধানমন্ত্রী * মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র : প্রধানমন্ত্রী * সাস্থ্যবান প্রজন্ম গড়তে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম : শেখ হাসিনা   |   রাষ্ট্রপতি : শহীদ আসাদের সর্বোচ্চ অবদান তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে : রাষ্ট্রপতি * প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে ২০৩০ সালে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে : রাষ্ট্রপতি * মধুসূদন দত্ত বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন : রাষ্ট্রপতি   |    জাতীয় সংবাদ : শহীদ আসাদ দিবস কাল * বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে : আসাদুজ্জামান খাঁন * এমপিও ভূক্তির জন্য শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রয়োজন নেই : আইনমন্ত্রী   |    বিভাগীয় সংবাদ : যশোরের সাগরদাঁড়িতে আগামীকাল শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা * মাগুরায় ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে চার লেনের কাজ এগিয়ে চলছে   |   শিক্ষা : ঢাবি সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে ঢাকা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ আগামীকাল   |    জাতীয় সংবাদ : বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্ব শুরু, লাখো মুসুল্লির জুমার নামাজ আদায় * নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি জনপ্রিয়তা যাচাই করতে পারে : হানিফ * তারুণ প্রজন্মকেই আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : শিরীন শারমিন * আইভীকে দেখতে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদের   |   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারে উড়োজাহাজ তৈরি করেছে গোপালগঞ্জের কিশোর আরমানুল ইসলাম   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : দ.কোরিয়ায় অগ্রবর্তী বাদকদল পাঠাবে উ.কোরিয়া * আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৮ জঙ্গি নিহত * ইরানের পারমাণু চুক্তির শর্ত কঠিন করাই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের লক্ষ্য   |   আবহাওয়া : আবহাওয়া শুষ্ক এবং রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে   |   খেলাধুলার সংবাদ : রেকর্ড ব্যবধানে শ্রীলংকাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ *তামিমের ১১, সাকিবের ১০ ও সাব্বিরের ১ হাজার রান *৩শ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মুশফিকুর রহিম   |   

মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৭ (বাসস) : মানব দেহের অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন ২০১৭র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন এবং মানব অঙ্গ পাচার বন্ধ ও এর অবৈধ ব্যবসা রোধের লক্ষ্যে খসড়া আইনটি প্রণীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, সরকার চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন এবং মানব অঙ্গ পাচার বন্ধ ও এর অবৈধ ব্যবসা রোধে আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কোন ব্যক্তি অঙ্গদাতা ও গ্রহিতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে বা এতে কাউকে উৎসাহিত বা প্ররোচিত বা ভীতি প্রদর্শন করলে তার সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা সর্বাধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডই হতে পারে। এছাড়া এ আইনের অন্যান্য ধারা অমান্যে বা এ ব্যাপারে কাউকে সহায়তার অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও সর্বাধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডই হতে পারে। কোন চিকিৎসক এই আইনে অপরাধী সাব্যস্ত হলে তার বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এই আইন লংঘিত হলে এর মালিক, পরিচালক ও ম্যানেজার বা অন্য কোন পদবীধারী যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে তাদের জ্ঞাতসারে এ অপরাধ হয়নি এবং তারা এটা রোধে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন, তবে তারাও এই আইনে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সম্পর্কিত ১৯৯৯ সালের বিদ্যমান আইনে এর কোন ধারা লংঘনে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদন্ড বা সর্বাধিক ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। আইনটি কার্যকরভারে যাত্রা শুরু করলে অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য কাউকে আর দেশের বাইরে যেতে হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনে ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজন বলতে বাবা মা, সন্তান, ভাই, বোন, নাতি নাতনি, স্বামী স্ত্রী এবং রক্তের সম্পর্কীয় দাদা, নানা, মামা, চাচা, খালু, ফুফা, মামি, চাচি ও ফুপুর মতো আত্বীয়-স্বজনদেরকে সঙ্গায়িত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়া আইন অনুযায়ী প্রতিস্থাপনের জন্য লাইফ সাপোর্টে থাকা কোন মানব দেহ থেকে সংগৃহীত কিডনি, লিভার, হাড়, চক্ষু, হার্ট, লাং এবং টিস্যুসহ মানব দেহের যে কোন অঙ্গপ্রতঙ্গ মানব দেহে প্রতি স্থাপন করা যাবে। কোন হাসপাতাল সরকারের অনুমোদন ব্যাতিত মানবদেহের কোন অঙ্গপ্রতঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। তবে সরকারি হাসপাতালগুলো সরকারের কোন অনুমোদন ছাড়াই মানব দেহের অঙ্গপ্রতঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব বলেন, একজন নিউরোলজিস্ট, এনেস্থেসিয়োলজিস্ট এবং একজন মেডিসিন অথবা ক্রিটিক্যাল বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে প্রতিটি হাসপাতালে তিন সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে এবং তারা অধ্যাপক অথবা কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপক হবেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে অঙ্গপ্রতঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘোষণাদানকারি কোন ব্যাক্তির কোন আত্মীয়-স্বজনের এই কমিটির অন্তর্ভুক্ত হবাব ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি কারডিয়াক কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গোটা বিষয়টি দেখভাল করবেন এবং পরামর্শ দেবেন।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে সার্জারী বিভাগের একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠিত হবে। বোর্ডে সদস্য হিসেবে এক বা একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে কো-অপট করা যাবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে আইনটি কার্যকরের ৬০ দিনের মধ্যে বোর্ডের সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হবে।
সভায় মন্ত্রীবর্গ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীগণ ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।