ঢাকা, শনিবার, মে ২৬, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : ভারতীয় বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায় : প্রধানমন্ত্রী * প্রধানমন্ত্রীর রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন   |   রাষ্ট্রপতি : নজরুলের আদর্শে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির   |    জাতীয় সংবাদ : বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দৃঢ় ও অব্যাহত থাকবে : মমতা * বাংলাদেশ ভবন উভয় দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক : মোদি * মাদকের ডন বা গডফাদার যে দলের হোক না কেউই ছাড় পাবে না : ওবায়দুল কাদের * ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপিত   |   প্রধানমন্ত্রী : ঢাকা-দিল্লী সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী * শান্তি নিকেতনের সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী * শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠক অনুষ্ঠিত   |    বিভাগীয় সংবাদ : খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন রাঙ্গামাটির সাড়ে ১৯ হাজার জেলে *চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপভ্যান চালকসহ নিহত ২   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : নাজিব রাজাকের বাসভবন থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার * লিবিয়ার বেনগাজিতে গাড়ি বোমা হামলায় ৭ জন নিহত   |   

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে : সরকারি দল

সংসদ ভবন, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে।
গত ৯ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন সমর্থন করেন।
গত ৭ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে এ ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২৭তম দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সরকারি দলের মাহবুব-উল-আলম হানিফ, বি এম মোজাম্মেল হক, নূরুল ইসলাম সুজন, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, নাহিম রাজ্জাক, গোলাম রাব্বানী, স্বপন ভট্টাচার্য্য ও জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরে বিনিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই খাতের উন্নয়নে ইতোমধ্যে ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন এবং তা বিদ্যুৎ সেক্টরে সরকার গৃহীত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সরকারি দলের সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ গড়ার বিবরণ তুলে ধরেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ বিশ্ব দরবারে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশকে সাহায্য নির্ভর দেশ থেকে কৃষিতে প্রণোদনা দিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করে দেশের শিল্প বিকাশে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সরকার বিগত ৯ বছরে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জন করেছে। বিগত সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে রেল খাতে এখন ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দেশের রপ্তানি আয় ৩৫ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬শ ডলার ছাড়িয়েছে। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।
হানিফ বলেন, সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্বস্তিও রয়েছে। তিনি ব্যাংক ও শিক্ষা খাতে অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়ম দূরীকরণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। ২০১৪ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত তথাকথিত আন্দোলনের নামে এদেশে জ্বালাও-পোড়াও করে দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এখন আবারো বেগম খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির দায়ে সাজা হয়েছে, প্রমাণিত হয়েছে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দুর্নীতি করেছেন, তিনি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলায় সাজা হয়েছে এটি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলার সাথে বর্তমান সরকারের কোন সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াই শুধু নয়, তার ছেলে দুর্নীতিবাজ, তার স্বামীও ছিলেন দুর্নীতিবাজ। জিয়া বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করে দেশের সম্পদ লুটপাট করে এ টাকা যত্রতত্র বিলি করে রাজনীতিবিদদের চরিত্র নষ্ট করেছেন।
সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেন, বিএনপি আবার দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু দুর্নীতির দায়ে সাজার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে জিয়া পরিবার দুর্নীতবাজ পরিবার। এ পরিবারকে দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী নির্বাচনেও তাদের প্রত্যাখ্যান করে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারো জনগণ শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় আনবে।
তারা বর্তমান সরকারের বিগত ৯ বছরের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে তা বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন।
বিরোধীদলের সদস্যরা বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে ৩২টি খাতের বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেছেন।
তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতে এখন নৈতিকতার সংকট চলছে। ব্যাংক ঋণ যারা পাচ্ছে তারা ঋণ পাওয়ার পর পরই খেলাপী হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক থেকে এক শ্রেণীর লোক কোটি কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
বিরোধী দলের অন্য সদস্যরা বলেন, শিক্ষার পদে পদে এখন ঘুষ বাণিজ্য। বাস ভর্তি প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, এর ওপর এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তারা বলেন, সরকার ১৬ হাজার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বললেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এখনো জনগণ পাচ্ছে না।