ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

আবহাওয়া : সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : নাইজেরিয়ায় ত্রয়ী আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত *জাপানে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ২ জনের প্রাণহানি   |    জাতীয় সংবাদ : জামায়াত নেতা আজিজসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রায় যে কোন দিন *সৈয়দ আশরাফের স্ত্রীর ইন্তেকাল   |   

প্রধানমন্ত্রীর ভিশন উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এ বাজেট : সরকারি দল

সংসদ ভবন, ১৯ জুন, ২০১৭ (বাসস) : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে সঙ্গতি রেখে এ বাজেট দেয়া হয়েছে।
তারা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে এর চেয়েও বড় আকারের বাজেট দিতে হবে। তারা এ বাজেটকে সরকারের ৯ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দলিল বলে উল্লেখ করেন।
আজও বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক আরোপসহ সঞ্চয় পত্রের সুদ হ্রাস, ভ্যাট বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন। তারা এসব প্রত্যাহারের আহবান জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ দুপুর ১২টা ১০মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন শেষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার ৯ম দিনে আজ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, এডভোকেট সাহারা খাতুন, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, এইচ এন আশিকুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, মাহবুব আলী, মোসলেম উদ্দিন, নুরুন্নবী চৌধুরী, ইসরাফিল আলম, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রতা, সেলিম উদ্দিন, বেগম মাহজাবীন মোরশেদ ও বিএনএফর এস এম আবুল কালাম আজাদ আলোচনায় অংশ নেন।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজুলল করিম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ হাওয়া ভবন বা খোয়াব ভবন বানিয়ে দুর্নীতি, লুটপাট করে না। লুটপাট করলে দেশ নিম্ন মধ্যম আয়ে পৌঁছতে পারতো না। তারা হাওয়া ভবন বানিয়ে দুর্নীতির আখড়া খুলেছিল। খালেদা জিয়া আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তার এবং তার সন্তানের দুর্নীতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রতিটি সূচক এখন উর্ধ্বমুখী। প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, রিজার্ভসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিএনপি আমল থেকে অনেক অনেক বেশি।
শেখ ফজুলল করিম সেলিম বলেন, দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল জিয়াউর রহমানের সময়ে। সে স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর, আল-শামসদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় স্থান করে দেয়। জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে থাকে। নিজামী, মুজাহিদদের মন্ত্রী বানায় এবং দেশকে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে গিয়ে একটি অকার্যকর ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার জঙ্গি দমন করে বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করে। দেশের অর্থনীতি উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
ব্যাংক হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে বাজেট পেশ করা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব । জনগণের কল্যাণে প্রস্তাবিত বাজেটের কোনটা থাকবে আর কোনটা থাকবে না, তা ঠিক করবে সংসদের ৩৫০ জন সদস্য।
ঢালাওভাবে ভ্যাট আরোপ না করে তিনি ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি ব্যাংক হিসাবের ওপর আরোপ করা আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এবারের বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য যা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে তা অবশ্যই বাড়াতে হবে, যদি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হয়।
বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে জনগণ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করতো, এখন ৪০৭ কিলোওয়াট ব্যবহার করে। একটি মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে আমাদেরকে ১৭শ কিলোওয়াট ব্যবহারে যেতে হবে। যেখানে মাত্র দেড় লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ছিল সেখানে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে ৩ লাখ ৪১ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান লোডশেডিং থেকে বেরিয়ে এসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে হলে ৬ লাখ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ৪১ শতাংশ কভারেজ ছিল ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুতায়ন ঘটেছে। এখন গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৪৪ লাখে উন্নীত হয়েছে। এই গ্রাহক সংখ্যা যাবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মতো।
তিনি বলেন, বিদ্যু ক্ষেত্রে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট টার্গেট করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ হাজার মেগাওয়াটে আমরা চলে এসেছি। ১২ হাজার ক্যাপাসিটি করা হয়েছে। এখন গ্রিডে যেকোন সময় ১০ হাজার মেগাওয়াট দেয়া সম্ভব। কিন্তু এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে। দেশের অনেক স্থানে বিদ্যুৎ বিতরণে সমস্যা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
জ্বালানী খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন প্রায় ৩শ কেভির মতো তেল ব্যবহার হচ্ছে প্রতি ইউনিটে। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকায় এখন এলপিজি পৌঁছে গেছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মাহবুব-উল আলম হানিফ বাজেট সমালোচনার জবাবে বলেন, সিপিডিসহ অনেকে বাজেট সম্পর্কে গতানুগতিক সমালোচনা করেছেন। কিন্তু গত ৯ বছরে সফলভাবে বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার তার সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। আর এ কারণেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।
তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ কে জাতির সাথে ধোঁকাবাজি উল্লেখ করে বলেন, বেগম জিয়া তার ভিশনে বলেছেন সবাইকে সংশ্লিষ্ট করে দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাবেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে অবৈধভাবে দখলকৃত বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর বেগম জিয়া বলেছেন, আমাদেরকে নাকি এক কাপড়ে বের করে দেবেন। এতেই প্রমাণ হয় বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি।
তিনি বাজেটে ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদ হ্রাসের প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে থধরে বলেন, একটি উচ্চ আয়ের দেশে পরিনত করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার বিগত ৮ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আর সে অনুযায়ি বাজেট প্রদান করে তা সাফল্যের সাথে বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, এ আট বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে গত ২০ বছরে তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্যের গল্প নেই। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত আট বছরে বাংলাদেশের সফলতার গল্প রয়েছে।
সরকারি দলের অন্য সদস্যরা দ্রব্যমূল্য থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, ব্যাংক আমানতের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাসিক সম্মানি বাড়ানোর দাবি জানান।
তারা আর্থিক বছর জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব করেন।
জাসদের সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, দেশের প্রধান দুই শহর ঢাকা এবং চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।