ঢাকা, বুধবার, মে ২৩, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

শিক্ষা : চুয়েটে পিএইচডি এমফিল ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি শুরু   |    জাতীয় সংবাদ : এসডিজি অর্জনে দেশকে জঙ্গি, মাদক ও জলদস্যু-বনদস্যু মুক্ত করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * সাংবাদিক কামাল উদ্দিনের ইন্তেকাল *বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত   |   প্রধানমন্ত্রী : বিচারপতি এবং কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার * ছাত্র বৃত্তি সঠিকভাবে বিতরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী   |   খেলাধুলার সংবাদ : লিভারপুলের আক্রমণভাগকে সমীহ করলেও নিজেদেরই সেরা ভাবছেন রোনাল্ডো * ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেন কেন * আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন মেসি   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : বিতর্কিত ভোটে নির্বাচিত মাদুরোকে এরদোগানের অভিনন্দন * ইরানের সরকার পরিবর্তেনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র * স্কুলে বন্দুক হামলা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে টেক্সাস গভর্নরের বৈঠক   |    বিভাগীয় সংবাদ : সাতক্ষীরার মুক্তামণি আর নেই * কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে পৃথক বন্দুুকযুদ্ধে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত * জয়পুরহাটে বোরো ধান কাটা-মাড়াই উৎসব চলছে   |   

অশুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বৈষম্য হ্রাস পায়নি

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : ভারত বাংলাদেশকে ২৫টি ব্যতীত সকল পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধকতা, অপ্রতুল অবকাঠামো এবং অশুল্ক বাধার কারণে বাণিজ্য বৈষম্য হ্রাস পায়নি।
আজ বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে শেষে এই কথা জানানো হয়।
গত দুইদিন ব্যাপী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারতের বাণিজ্য সচিব রীতা তিওতিয়ার নেতৃত্বে দশ সদস্য বিশিষ্ট ভারতীয় প্রতিনিধিদল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসুর নেতৃত্বে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ভারসাম্য ব্যাপকভাবে ভারতের অনুকূলে রয়েছে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভারত মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৭২ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যার মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা এক বছর পরপর নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের পূর্ববর্তী সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের নয়া দিল্লীতে গত ২০১৬ সালের ১৫-১৬ নভেম্বর।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের অনুষ্ঠিত এই সভায় গত সভার সিদ্ধান্ত সমূহের বান্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং নিম্নলিখিত উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহের উপর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বর্তমান বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্বর ভিত্তিতে সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত স্থল শুল্ক বন্দরসমূহে পণ্য খালাস দ্রুততর করা এবং ক্রমান্বয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্থল শুল্ক বন্দর সমূহের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক পণ্য রপ্তানির সুযোগ প্রদানের জন্য ভারত অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জানায় যে বিষয়টি পরীক্ষাধীন রয়েছে ।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সিইওজ ফোরাম গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে ।
সভায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ইতিমধ্যে চালুকৃত ৪টি বর্ডার হাটের কার্যক্রমে উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে। ইতিপূর্বে আরও ৬টি বর্ডার হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাস্তবায়নাধীন বর্ডার হাট সমূহ আগামী ৬ মাসের মধ্যে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও নতুন বর্ডার হাট স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ।
সভায় ভারত ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিএসটিআই-কে ২১টি খাদ্য পণ্যের সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি প্রদান করায় বাংলাদেশ ভারতকে ধন্যবাদ জানায় এবং অবশিষ্ট ৬টি পণ্যের সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানায়।
সভায় ভারত বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পাটজাত পণ্য এবং হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের উপর এন্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। আরোপিত এন্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার করার জন্য বংলাদেশ ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং এন্টিডাম্পিং শুল্ক বিষয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারতের সহায়তা কামনা করা হয় ।
সভায় বাংলাদেশ ভারতের বিমান বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোন দেশে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানি সুবিধা প্রদানের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়। বাংলাদেশে ভারতীয় চিনি রপ্তানির ক্ষেত্রে এবং মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্পের জন্য যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা প্রদানের জন্য ভারত বাংলাদেশকে অনুরোধ করে।
দুই দিনের বৈঠক শেষে ভারতের প্রতিনিধিদল আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ত্যাগ করবেন।