ঢাকা, বুধবার, মে ২৩, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

রাষ্ট্রপতি : শিল্প প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে দেশী বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি   |    অর্থনীতি : রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পদক পেলেন রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান   |    অর্থনীতি : রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পদক পেলেন রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান   |   প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার কলকাতা যাচ্ছেন * একনেকে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অনুমোদন   |   আবহাওয়া : ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরও ২ থেকে ৩ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে    |    বিভাগীয় সংবাদ : লোহাগড়া ইতনা গণহত্যা দিবস আগামীকাল * নাটোরে দুই জেএমবি সদস্য গ্রেফতার   |    জাতীয় সংবাদ : বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরিত * রাজীবের ভাইদের ক্ষতিপূরণে আদেশ স্থগিত, তদন্তের নির্দেশ * স্থায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : করাচিতে হিটস্ট্রোকে ৬৫ জনের মৃত্যু * পুতিন ও মোদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন : লাভরভ *রাশিয়ায় দাবানলে ২৩ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল ধ্বংস   |   

বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন কমিশন তৈরির সুপারিশ টিআইবির

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা নিশ্চিত এবং এখাতে অনিময়-অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ বুধবার টিআইবির উদ্যোগে আয়োজিত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তোরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সুপারিশ করেছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবির ধানমন্ডির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার ও মো. জুলকারনাইন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এডভোকেট সুলতানা কামাল এবং টিআইবির অ্যাডভাইজার (এক্সিকিউটিভ ম্যানেজমেন্ট) ড. সুমাইয়া খায়ের।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করে আইন হিসেবে প্রণয়ন করতে হবে। যেখানে- নার্সিং হোম, ক্লিনিক, জেনারেল হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোর সজ্ঞা নির্ধারণ এবং প্রতিষ্ঠানের সেবার ধরণ ও শয্যা অনুযায়ি ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিকরণ করতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি অনুযায়ি নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (তথ্য প্রাপ্তি ও প্রকাশের ক্ষেত্রে) তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ি, গত চার দশকে নিবন্ধিত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৩টি এবং বর্তমানে এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৯৮টি। সারাদেশে নিবন্ধিত ১১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তোরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি হাসপাতাল ও ৫০টি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর মধ্য হতে ২৬টি প্রতিষ্ঠান ও ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকা থেকে ৯০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। টিআইবি ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বেসরকারি চিকিৎসাসেবার নানান দুরাবস্থা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের অনুমোদন না নিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করে, অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কর্র্তৃপক্ষের কাছে নেই। গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭টি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। নির্বাচিত এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। আর ২২টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একইভবনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গবেষণার আওতাভূক্ত অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে কমিশন ভিত্তিক বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। যেখানে চিকিৎসা ব্যয়ের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, রিসিপশনিস্ট ও দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে। সি সেকশনের জন্য পাঠালেও কমিশন দেওয়া হয়, যার পরিমাণ সর্বনি ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সেবাগ্রহিতারা কোন কোন ক্ষেত্রে পেশাদার দালাল কর্তৃক হয়রানীর অভিযোগ তুলেছেন, যেমন- ভুল তথ্য দিয়ে জোর করে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উচ্চ মুনাফার জন্য বেসরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসা চলছে, সেবা গ্রহিতাকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় হচ্ছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিধিমালা না থাকা এবং আইনের হালনাগাদ না হওয়াকেই স্বাস্থ্যখাতের এ সমস্যার জন্য দায়ী করা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গবেষণার আওতাভূক্ত ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দৃশ্যমান স্থানে টানানো নেই এবং ২৮টিতে আংশিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ফি সম্পর্কে তথ্য প্রদর্শিত রয়েছে। নির্বাচিত ৫০টি রোগ নির্নয় কেন্দ্রের মধ্যে ২১টিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্য সম্পর্কে তথ্য প্রদর্শন করা নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ