ঢাকা, রবিবার, মে ২০, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

রাষ্ট্রপতি : ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা ও এতিমদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ইফতার   |   প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা `মুক্তিযোদ্ধা' চিত্রকর্ম এঁকেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খুলনার মেয়রের সাক্ষাত   |    জাতীয় সংবাদ : বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে : সেতুমন্ত্রী   |    জাতীয় সংবাদ : শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় সরকার কারিগরি শিক্ষা প্রসারে বদ্ধপরিকর : শিক্ষামন্ত্রী * বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৭১ তম সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামীকাল * বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে : টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ফ্রান্সে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিসহ ১ চেচেন গ্রেফতার * চীনে অগ্নিকাণ্ডে ৫ জনের মৃত্যু * বসনিয়ায় বসবাসরত তুর্কীদের সমাবেশে যোগ দেবেন এরদোগান   |   

২১ আগস্ট মামলায় আসামীপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ অব্যাহত

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় আসামীপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। আজ ছিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক পেশ করার ৪০তম দিন। মামলার আসামী মাওলানা মো সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফরের পক্ষে টানা চার কার্যদিবসে আজ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। এরপর এ আইনজীবী আসামী উজ্জল ওরফে রতনের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন। এ যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম কাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে এ মামলায় পলাতক আসামী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়ের, মুফতি সফিকুর রহমান, মো. ইকবাল, মাওলানা তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গির আলম বদর, রাতুল আহমদ বাবু, মহিবুল মোত্তাকিন, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মো. খলিল, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, আনিসুল মোরসালিন ও মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এ মামলায় আটক আসামী মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভি, আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়ার পক্ষে তাদের নিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন।
মামলার সকল আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের দ্বারা দেয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১ জানুয়ারি মামলার সব আসামীদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কোঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুলাহ ভূঞা, আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এডভোকেট ফারহানা রেজা, এডভোকেট মো. আমিনুর রহমান, এডভোকেট আবুল হাসনাত, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ। অপরদিকে আসামিপক্ষে আবদুস সোবহান তরফদারসহ বিভিন্ন আইনজীবী আদালতে আজ উপস্থিত ছিলেন।
২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডির সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক।
৫২ আসামীর মধ্যে ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২২ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবনশক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ