ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মে ২৪, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

শিক্ষা : জয়পুরহাটে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা উপবৃত্তি বিতরণ   |   খেলাধুলার সংবাদ : নেইমারের মাদ্রিদে আসার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন রোনাল্ডো *রোমেরোর ইনজুরি নিয়ে হতাশ মাশচেরানো   |   শিক্ষা : রোমেরোর ইনজুরি নিয়ে হতাশ মাশচেরানো *নেইমারের মাদ্রিদে আসার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন রোনাল্ডো   |    বিভাগীয় সংবাদ : মেহেরপুরে এবার ১০ কোটি টাকার লিচু কেনা-বেচা হবে *সুনামগঞ্জে জুলাই মাসেই টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ শুরু * নাটোরে আম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু আগামীকাল *কাজ করে যাচ্ছে কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস   |   

আম বয়ানের মধ্য দিয়ে তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ শুরু

গাজীপুর, ১২ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : জেলার টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানে মধ্যদিয়ে তাবলিগ জামাতের বৃহত্তম সম্মিলন ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে।
ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জুম্মার নামাজের ইমামতি করেন কাকরাইলের মুরব্বি হাফেজ মাওলানা মো. জুবায়ের।
জুম্মার নামাজে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. এমপি জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সর্বস্তরের মুসল্লিসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণ করেন।
ফজরের নামাজের পর জর্দানের মাওলানা শায়েখ ওমর খতিবের আম বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। তিনি আরবিতে ঈমানের গুরুত্ব বিষয়ে বয়ান করেন। এবারই প্রথমবারের মতো ইজতেমার আম বয়ান আরবিতে দেওয়া হলো। বয়ানের বাংলা তরজমা করেন মাওলানা সালেহ। বাদ জুম্মা বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন। বাদ আসর বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল বারী ও বাদ মাগরিব বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ রবিউল হক।
আগামী রোববার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বীরা আখলাক, ঈমান ও আমলের ওপর বয়ান করবেন।
ইজতেমার প্রথম ধাপে কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে ২৮টি খিত্তায় লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে বন্দেগীতে কাটাচ্ছেন। তবে তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে খুব একটা যেতে দেখা যায়নি।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বুধবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানে এসে চটের তৈরি সুবিশাল ছামিয়ানার নিচে অবস্থান নেন। এবার বিদেশিসহ দেশের ১৬ জেলা থেকে আসা মুসল্লিরা অংশ নিয়েছে ইজতেমায়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে পুড়ো ইজতেমা ময়দান। জুম্মার নামাজে অংশ নিতে ভোর থেকে গাজীপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে মুসল্লিরা হেঁটে, বিভিন্ন যানবাহনে, লঞ্চ ও ট্রেনে করে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নিয়েছিলেন।
বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন বাসসকে জানান, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় দুই পর্বে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রথম ধাপে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় দফায় ১৬ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার মুসল্লিরা দুই দফায়ই অংশ নেবেন। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা (এবছর) নিজ নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমায় অংশ নেবেন।
প্রথম দফায় ১৬ জেলার মুসল্লিরা ৩২ খিত্তায়:
বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রতি জেলার মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারিত থাকে। এ স্থানকে খিত্তা বলে। প্রথম দফায় অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোর মধ্যে হল- ঢাকা (১-৮নং, ১৬নং, ১৮নং, ২০নং ও ২১নং খিত্তা), নারায়ণগঞ্জ (১২নং ও ১৯নং খিত্তা), মাদারীপুর (১৫নং খিত্তা), গাইবান্ধা (১৩নং খিত্তা), শেরপুর (১১নং খিত্তা), লক্ষীপুর (২২-২৩নং খিত্তা), ভোলা (২৫-২৬নং খিত্তা), ঝালকাঠি (২৪নং খিত্তা), পটুয়াখালী (২৮নং খিত্তা), নড়াইল (১৭নং খিত্তা), মাগুরা (২৭নং খিত্তা), পঞ্চগড় (৯নং খিত্তা), নীলফামারী (১০নং খিত্তা) ও নাটোর (১৪নং খিত্তা)।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বাসসকে জানান, ইজতেমা এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অশ্লীল পোস্টার অপসারণ এবং হোটেল রেস্তোরাঁয় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মুসল্লিদের যাতায়তের জন্য তুরাগে ৭টি ভাসমান ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। তুরাগে নৌটহল ছাড়াও ডুবুরীদল মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরো জানান, তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে প্রথম দিন ৭৯টি দেশের ৩ হাজার ৯১৯ জন মুসল্লি ইজতেমা মাঠে পৌঁছেছেন। ইজতেমার পরিবেশ রক্ষায় প্রতিদিন ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই পর্বে পরিচালিত হচ্ছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ বাসসকে জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘতার জন্য টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা এলাকায় ৭ হাজার পুলিশ নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা ৮ ভাগে ভাগ হয়ে পাঁচ স্তরে মুসল্লিদের নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশ পথে সন্দেহভাজনদের মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার ও ৪১টি সিসি ক্যামেরা থেকে পুরো ইজতেমাস্থল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাদা পোশাকে প্রতি খিত্তায় ৬ জন করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদেরও নজরদারি করা হবে। বিশ্বইজতেমা এলাকায় হকার ও ভিক্ষুক মুক্ত রাখা হচ্ছে। এজন্য গত রোববার থেকে ইজতেমার শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজীপুরের পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইজতেমা ময়দানগামী সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের ১৮ শ সদস্য দায়িত্বপালন করছেন। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আলাদাভাবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, ও ফায়ার সার্ভিসের কন্টোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. গাউস আল মুনির জানান, ইজতেমা চলাকালে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেন টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রা বিরতি করছে।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইজতেমা এলাকায় পাঁচটি ফিডারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজীপুর সিভিল সার্জন মঞ্জুরুল হক জানান, টঙ্গী হাসপাতালে বার্ণ ইউনিট, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, চর্ম-যৌন, সার্জারী, অ্যাজমা, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞসহ ছাড়াও তাদের তিনটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে শতাধিক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অফিস সহায়ক ২৪ ঘন্টা ডিউটি করছেন। মুসল্লিদের সেবা দিতে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ৪৫টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
ইজতেমা শুরুর আগের রাতে কাজী আজিজুল হক (৬৫) নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা থানার খরিশপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাতে দিকে আজিজুল হক ২৯ নং খিত্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে দুই ধাপে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার পাশাপাশি জেলা জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ