ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

আবহাওয়া : সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : নাইজেরিয়ায় ত্রয়ী আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত *জাপানে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ২ জনের প্রাণহানি   |    জাতীয় সংবাদ : জামায়াত নেতা আজিজসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রায় যে কোন দিন *সৈয়দ আশরাফের স্ত্রীর ইন্তেকাল   |   

শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধে জাতীয় প্রচারাভিযান শুরু

ঢাকা, ২৩ মার্চ, ২০১৭ (বাসস) : শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধে জাতীয় প্রচারাভিযান আজ রাজধানীতে শুরু হয়েছে। আমিই পারি শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধ করতে এই শ্লোগান নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)র মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর ফ্রেড উইটেভেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্থায়ী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাসুক মিয়া, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুস শহীদ মাহমুদ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ, উপ-পরিচালক সাবিরা সুলতানা নুপুর এবং ঘাসফুল শিশু ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সায়মা আক্তার দিপ্তী।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং চাইল্ড রাইটস এডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারা যৌথভাবে এ প্রচারাভিযান বাস্তবায়ন করবে।
এসডিজির মুখ্য সমন্বয়কারী মো: আবুল কালাম আজাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিশুর প্রতি শারিরিক সহিংসতা বন্ধে অধিক গুরুত্ব দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে শিশুর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন কর্মসূচিতে শিশুদের অধিকার রক্ষায় মনিটরিং জোরদার করা হবে। তিনি বাংলাদেশকে উন্নত আয়ের দেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুর প্রতি শারিরিক সহিংসতা বন্ধ করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
মো. আবুল কালাম আজাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুব শীঘ্রই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে।
শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের পরিচালিত উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করা- বিশেষ করে এসডিজির ১৬.২ (শিশুর প্রতি অনাচার, দুর্ব্যবহার, পাচার, এবং সব ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধ করা) প্রতিষ্ঠিত করাই এ প্রচারাভিযানের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে যে বয়সসীমা দেয়া হয়েছে তা হতাশাজনক এবং স্পষ্টভাবেই শিশু তথা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি এই আইনের অধীনে যে বিধান হবে, তা যেন শিশু অধিকারের পরিপন্থী না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবিরা সুলতানা নুপুর তার উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিশু-সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর সফলতা সত্ত্বেও শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতার হার কমেনি। সম্প্রতি ইউনিসেফ পরিচালিত জরিপের তথ্যমতে, ১-১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশই বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার।
তিনি জানান, নতুন এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য এসডিজির সাথে সঙ্গতি রেখে ২০২১ সালের মধ্যে বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধে অবদান রাখা। সেইসাথে দেশের ৫০ লাখ শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। এই প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে ওয়ার্ল্ড ভিশন দেশের ৩৪টি জেলার ৮০০টি শিশু ফোরামের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ শিশু প্রতিনিধির সাথে কাজ করবে।

সম্পর্কিত সংবাদ