ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

আবহাওয়া : সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : নাইজেরিয়ায় ত্রয়ী আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত *জাপানে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ২ জনের প্রাণহানি   |    জাতীয় সংবাদ : জামায়াত নেতা আজিজসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রায় যে কোন দিন *সৈয়দ আশরাফের স্ত্রীর ইন্তেকাল   |   

জাতীয় শিশু কমিশন গঠনের আহবান মানবাধিকার কমিশনের

ঢাকা, ১৬ মার্চ, ২০১৭ (বাসস) : দেশের মোট জনংখ্যার শতকরা ৪৫ ভাগ শিশুর সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে জাতীয় শিশু কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি ২০১৬ : সংবাদ পত্রের পাতা থেকে শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কাজী রিয়াজুল হক প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহবান জানান।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান মোট জনংখ্যার শতকরা ৪৫ ভাগ শিশু। শিশুর সার্বিক কল্যাণের জন্য অবিলম্বে জাতীয় শিশু কমিশন গঠন করতে হবে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এবিষয়ে আলোচনা করেছি। সরকারের কাছে এবিষয়ে উপস্থাপিত হয়েছে। এখন এই শিশু কমিশন গঠনের কাজটাকে আমাদের ত্বরান্বিত করতে হবে।
শিশু পরিস্থিতি প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর আবদুল্লা আল মামুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিউনিটি পার্টিসিপেশন এন্ড ডেভলপমেন্টের প্রধান নির্বাহি মোসলেমা বারী।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর (মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন) শাহানা হুদা রঞ্জনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এমজেএফ শিশু অধিকার ও সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিবছর শিশু সম্পর্কিত সংবাদ নিয়ে বার্ষিক একটি পর্যালোচনা জাতির সামনে তুলে ধরে। এই প্রেক্ষপটে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬টি জাতীয় দৈনিক, যথা: প্রথম আলো, যুগান্তর, সমকাল, ইত্তেফাক, দি নিউ এইজ ও দি ডেইলি স্টারে প্রকাশিত শিশু সম্পর্কিত খবর সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরী করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবদেনে উল্লেখ করা হয় যে, আগের দুইবছর ২০১৪ ও ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে শিশু সম্পর্কিত ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুধরণের সংবাদই কম প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ও ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যা কমেছে। বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনায় ২০১৬ সালে ১১৫০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, ২০১৫ সালে যার সংখ্যা ছিল ১৮৬০জন। ক্ষতিগ্রস্থ শিশুর সংখ্যা ২০১৫ সালে যেখানে ছিল ৯১ হাজার ৮৯২ জন, সেখানে ২০১৬ সালে তা কমে হয়েছে ৬৯ হাজার ৬১৪ জন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর আবদুল্লা আল মামুন প্রতিবেদনে বলেন, সার্বিক শিশু পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর, যা শিশুর জন্য ইতিবাচক সেগুলোকে ইতিবাচক সংবাদ এবং নেতিবাচক সংবাদগুলোকে নেতিবাচক সংবাদ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে শিশু সম্পর্কিত ইতিবাচক ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয় ১১০৩টি, যা ২০১৫ সালে ছিল ১৬০৪টি। আর নেতবাচক ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয় ১৮৭৬টি, যা ২০১৫ সালে ছিল ২৮২০টি।
প্রতিবেদনে ২০১৫ সালের চেয়ে ২০১৬ সালে বাল্যবিয়ে, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনার সংবাদ, শিশুদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা, নির্যাতন, অপরাধে জড়িয়ে পড়া, নিখোঁজ, পাচার, শৈত্যপ্রবাহ ও অনিশ্চিত আগামির ঘটনার সংবাদ বেড়েছে।
২০১৬ সালে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ২৮২টি সংবাদে ৩০৪ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মদ্যে মারা গেছে ২২ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৬৯জন।
প্রবিদনে আরও জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনা, শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও হত্যার চেষ্টা, আত্মহত্যা, দায়িত্বে অবহেলা, এসিড নিক্ষেপ ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় শিশুর মৃত্যু হতাহত হওয়ার ঘটনা কমেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ