ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : নাগরিক সমাবেশে বক্তারা   |   রাষ্ট্রপতি : জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান   |   প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংলাপে সহায়তা করতে আগ্রহী চীন * জাতির গর্ব সমুন্নত রাখতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান   |   খেলাধুলার সংবাদ : গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতার দিনে কুমিল্লার কাছে হারলো রংপুর * তিন বিদেশীর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে রাজশাহীকে উড়িয়ে দিলো ঢাকা * ব্যালন ডিঅর জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী রোনাল্ডো * দ্বিতীয়বারের মত লেন্ডলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন মারে    |    জাতীয় সংবাদ : রোহিঙ্গা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ফোরামে সহায়তার জন্য তুরস্ক ও নাইজেরিয়াকে ধন্যবাদ জানালেন শিল্পমন্ত্রী * মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরো সচেতন হতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী   |   আবহাওয়া : খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দুএক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে    |    বিভাগীয় সংবাদ : রাজশাহী চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু * জয়পুরহাটে ৮ শ ১৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা *হাইব্রিড মরিচ চাষে বগুড়ার সারিয়াকান্দির চাষিদের মুখে হাসি   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : তিব্বতে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূকম্পন *ফ্রান্সের উদ্দেশে রিয়াদ ত্যাগ হারিরির * মার্কিন নাগরিক অধিকার নেতা জেসি জ্যাকসন পার্কিনসনস রোগে আক্রান্ত   |    জাতীয় সংবাদ : যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা * আগামীকাল থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু * আঞ্চলিক সহযোগিতা তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বে দেশকে এগিয়ে নেবে : তথ্যমন্ত্রী * বাংলাদেশকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য হতে দেয়া হবে না : ভূমি মন্ত্রী   |   

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার কালপঞ্জি

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর (বাসস) : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে নিহত হন৷ এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ পর্যন্ত এই হত্যা মামলার কালপঞ্জি তুলে ধরা হলো :
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট_ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে শেষ রাতে এক অভু্যত্থানে নিহত হন৷ এই অভু্যত্থান স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামী লীগ সরকারকেও উত্‍খাত করে৷
১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর_ স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন৷ পরবতর্ী বিএনপি সরকার ১৯৭০ সালে ইনডেমনিটি আইন হিসেবে একে অনুমোদন করে৷
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন_ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে৷
১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট_ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামী বরখাস্তকৃত লেঃ কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়৷
১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর_ রাষ্ট্রপতির আবাসিক একান্ত সহকারি (পিএ) এএফএম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন৷
১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর_ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তারা এ মামলার তদন্ত শুরু করে৷
১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর_ খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমিনিটি আইন বাতিল৷
১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারী_ সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করে৷
১৯৯৭ সালের ১ মার্চ_ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিচার কার্যের জন্য মামলাটি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান৷
১৯৯৭ সালের ১২ মার্চ_ ছয় আসামীর উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়৷
১৯৯৭ সালের ২০ মার্চ_ সরকার ১৪ জন পলাতক আসামীর পক্ষে মামলা পরিচালনায় ১৪ জন আইনজীবি নিয়োগ করে৷ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করায় ওই ১৪ আসামী বিদেশে পালিয়ে যায়৷
১৯৯৭ সালের ৬ এপ্রিল_ বিচারিক আদালতে অভিযোগের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়৷
১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিল_ অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়৷
১৯৯৭ সালের ২১ এপ্রিল_ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক আসামী কর্ণেল রশিদের স্ত্রী জোবাইদা রশিদের আইনজীবী হাইকোর্টে বিচারিক আদালতের বিরুদ্ধে অনাস্থা পেশ করলে শুনানীর প্রথম দিনেই আকস্মিকভাবে বিচারকার্য মুলতবী হয়ে যায়৷
১৯৯৭ সালের ২৯ এপ্রিল_ আসামী পক্ষের আপীল হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর পুনরায় মামলার কার্যক্রম শুরু৷
১৯৯৭ সালের ২৯ এপ্রিল_ এই মামলার অপর এক আসামীর কৌসুলি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগোরের কাছে অস্থায়ী বিচারিক আদালত গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করায় মামলাটি পুনরায় শুরু হওয়ার পরপরই আবারও স্থগিত হয়ে যায়৷
১৯৯৭ সালের ৩০ এপ্রিল_ হাইকোর্ট অস্থায়ী বিচারিক আদালত গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদনটি নাকচ করে৷
১৯৯৭ সালের ৪ মে_ এই মামলার আসামী জোবাইদা রশিদের আইনজীবী মামলার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সময়ের আবেদন করলে হাই কোর্ট এক মাসের জন্য বিচারকার্য স্থগিত ঘোষণা করে৷
১৯৯৭ সালের ১৯ জুন_ মামলাটি পুনরায় শুরু হওয়ার পরপরই আসামী জোবাইদার আইনজীবী মামলায় তার মক্কেলকে জড়িত করার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে তৃতীয়বারের মতো এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়৷
১৯৯৭ সালের ৬ জুলাই_ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি পুনরায় শুরু হয়৷ জোবাইদাকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়া হয়৷
১৯৯৭ সালের ৬ জুলাই_ প্রধান স্বাক্ষী মোহিতুল ইসলাম আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন৷
১৯৯৮ সালের ২ মার্চ_ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ইনডেমনিটি আইন বাতিলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি আপিল সুদীর্ঘ ১৫ দিনের শুনানীর পর খারিজ করে৷ এর ফলে খুনিদের বিচার করার ক্ষেত্রে সকল বাধা অপসারিত হয়৷
১৯৯৮ সালের ৯ জুলাই_ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক আসামী মেজর বজলুল হুদাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করে৷ যে দু'জন আসামীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে মেজর বজলুল হুদা তাদের অন্যতম৷
১৯৯৮ সালের ২১ জুলাই_ তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কাহার আকন্দের স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যদিয়ে আদালতে ৭৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৬১ জনকে জেরা সম্পন্ন হয়৷
১৯৯৮ সালের ৫ আগস্ট_ স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে অভিযুক্তরা নিজেদের নিরপরাধ দাবি করেন৷
১৯৯৮ সালের ১২ আগস্ট_ প্রধান সরকারি কৌঁসুলি সিরাজুল হকের বক্তব্যের পর রাষ্ট্র ও আসামী পক্ষের আইনজীবিদের মধ্যে যুক্তিতর্ক শুরু হয়৷
২০০০ সালের ২৪ আগস্ট_ হাই কোর্টে একই সঙ্গে ডেথ রেফারেন্স ও আপীল শুনানী শুরু হয়৷
১৯৯৮ সালের ১৩ অক্টোবর_ দু'পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে ১৪৬তম কার্য দিবসে ১৭ মাসের বিচার কার্যক্রম শেষ হয়৷
১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর_ মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করেন৷
১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর_ বরখাস্তকৃত মেজর বজলুল হুদাকে বিমান বাহিনীর একটি বিমানযোগে থাইল্যাণ্ডের কারাগার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়৷
২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর_ হাই কোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করেন৷ বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামীর মাঝে ১০ জনের মৃতু্যদণ্ডাদেশ বজায় রাখেন৷ কিন্তু অপর বিচারক এবিএম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সবের্াচ্চ শাস্তি প্রদান করেন৷
২০০১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী_ বিভক্ত রায় প্রদানের ফলে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপীল শুনানী দ্বিতীয় বেঞ্চের তৃতীয় বিচারকের কাছে স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেয়ায় এর শুনানী আরেকটি উচ্চ আদালতে শুরু হয়৷
২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল_ তৃতীয় বিচারক মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২৫ দিন শুনানীর পর অভিযুক্ত ১২ জনের মৃতু্যদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করেন৷
২০০৭ সালের ১৮ জুন_ যুক্তরাষ্ট্র সাবেক লেঃ কর্নেল একেএম মহিউদ্দিনকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে ৩বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়৷
২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট_ রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন৷
২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর_ আপীল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানী শেষে ৫ আসামীকে নিয়মিত আপীল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপীল মঞ্জুর করেন৷
২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট_ আপিল বিভাগ ৫ অক্টোবর আপীল শুনানী শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেন৷
২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর_ মামলার চুড়ান্ত শুনানী আপীল বিভাগে শুরু শুরু হয়৷
২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর_ ২৯ দিনের শুনানীর পর চূড়ান্ত আপীল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন৷
২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর_ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃতু্যদন্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামীর দায়ের করা আপীল আবেদন খারিজ৷

সম্পর্কিত সংবাদ