ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : ধানমন্ত্রী আজ ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন   |    বিভাগীয় সংবাদ : জয়পুরহাটে ৯ হাজার ৭০৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ * হবিগঞ্জে গ্রেফতার ৩১   |    জাতীয় সংবাদ : জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সার্ভিসের উদ্বোধন আজ   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর ট্যাঙ্ক ও বিমান হামলা   |   

কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খাল বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে

কেরানীগঞ্জ, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ (বাসস) : কেরাণীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শুভাঢ্যা খাল দুই তীরের বাসিন্দাদের বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে । এ খাল দিয়ে এক সময় চলাচল করত লঞ্চ-বড় বড় গয়না ও বর্জা। সরাসরি যোগাযোগের পথ ছিল মুন্সীগঞ্জের সাথে। সেসব এখন অতীত। বর্তমানে খালটি মৃত:প্রায়। দুই তীরের অধিবাসীদের দখল আর দূষণ যেন কোন ভাবেই থামছে না। খালটিকে পূ র্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে খালের ১.৩ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুন:খনন ও তীর সংরক্ষণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। যার সার্বিক তদারকি করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো )। খালটি দখলমুক্ত করে পুন:খননের জন্য স্থানীয় সাংসদ বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু তারপরও থেমে নেই বর্জ্য ফেলা দুই তীরের বাসিন্দারাঅ বাড়িঘরের বর্জ্যে খালে ফেলছে। কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা তাদের টুকরা কাপড়ের অংশ গুলো প্রতিদিন খালে ফেলছেন।
খালের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিসহ ঢাকা জেলা প্রশাসক সরেজমিনে এসেছেন একাধিকবার। বেশ কয়েক দফায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু খালের দূষণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি এখনও। তবে এ অবস্থায়ও হাল ছাড়েননি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গত ১৭ নভেম্বর চুনকুটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যেও তিনি এ খাল নিয়েই কথা বলেছেন। এসময় আবারও খাল রক্ষায় এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
জানাযায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনী শুভাঢ্যা খালে বুড়িগঙ্গা নদীর মুখ থেকে চর কালীগঞ্জ এলাকা থেকে গোলাম বাজার এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের উভয় পাশে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। খালটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকারীরা খালের উভয় পাশে ১৮৬টি ছোট বড় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এবং খালটি পুনরায় খনন করে সেখানে পানির নাব্যতা সৃষ্টি করে। এরপর খালটিতে পুনরায় দখল ও দূষণের কারণে ২০১২ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে কেরাণীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে শুভাঢ্যা খালটি খনন ও উদ্ধারের কাজ শুরু করে। তখন প্রায় মাস খানেক সময়ব্যাপী খালের খনন কাজ সম্পন্ন করে। তার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার দখল ও দূষণের ফলে খালটি পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। পরবর্তিতে খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে খালের ১.৩ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুন:খনন ও তীর সংরক্ষণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। কিন্তু কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেন না খালের দুই তীরের বাসিন্দারা। সরেজমিন শুভাঢ্যা খাল ঘুরে দেখাগেছে খালের পূর্ব আগানগর প্রান্তে দিনরাত বর্জ্য ফেলছেন দুই তীরের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা। জেলা পরিষদ ও নুর সুপার মাকেটের পেছনের অংশের খালে বর্জ্যরে স্তুপ এতটাই যে তার ওপর দিয়ে মানুষও দিব্যি হেটে যেতে পারবে। বর্জ্য ফেলছে কালিগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীরাও। এর সাথে আরো যোগ হচ্ছে দুই তীরের বাসিন্দাদের গৃহ বর্জ্যও। এসকল বর্জ্য খাল ভরাটের পাশাপাশি মারাত্মক দূষণও ছড়াচ্ছে। কাজেই এ বিষয়ে কঠোর আইন করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন পরিবেশ বিশ্লেষকরা।