ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : ধানমন্ত্রী আজ ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন   |    বিভাগীয় সংবাদ : জয়পুরহাটে ৯ হাজার ৭০৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ * জয়পুরহাটে ৯ হাজার ৭০৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ * হবিগঞ্জে গ্রেফতার ৩১   |    জাতীয় সংবাদ : জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সার্ভিসের উদ্বোধন আজ   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ট্রাম্পের জেরুজালেম পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বিক্ষোভের পঞ্চম দিন * গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর ট্যাঙ্ক ও বিমান হামলা * আফগানিস্তানে গাড়ি দুর্ঘটনায় মার্কিন সৈন্য নিহত   |   

পিরোজপুর মুক্ত দিবস ৮ ডিসেম্বর

পিরোজপুর, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ (বাসস) : পিরোজপুর মুক্তদিবস ৮ ডিসেম্বর আগামীকাল। ১৯৭১ সালের এ দিনে পিরোজপুর পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। এ দিনে ঘরে ঘরে উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা। পিরোজপুরের ইতিহাসে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয় দিন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের আওতায়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার ১৮ ঘন্টার মধ্যে পিরোজপুরের আওয়ামীলীগের নেতৃতাধীন মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্রাগার ভেঙ্গে অস্ত্র গুলি নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নেয়।
১৯৭১ সালের ৩ মে পিরোজপুরে প্রথম পাক বাহিনী প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশদ্বার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে পাকবাহিনী প্রবেশের পথে প্রথমেই তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। তারপর ৮ মাস স্থানীয় শান্তিকমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। জেলায় ৬১ জন শহীদ ন। হত্যা করা হয় অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশুকে।
পিরোজপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সুন্দরবনের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ৭ ডিসেম্বর রাত ১০টায় পিরোজপুরের দক্ষিণপ্রান্ত পাড়েরহাট বন্দর দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর এ আগমনের খবর পেয়ে পাকহানাদাররা শহরের পূর্বদিকের কচানদী দিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। এর আগে স্বরূপকাঠী পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা দূর্গে পাকবাহিনী আক্রমণ করলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কয়েকজন পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ পাকবাহিনী পর্যুদস্ত হতে থাকে। অবশেষে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর ছেড়ে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এ উপলক্ষে মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। সকাল সাড়ে ৯ টায় টাউন ক্লাব স্বাধীনতা চত্বর থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে শহীদ ভাগিরথী চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্বাধীনতা মঞ্চে স্মৃতিচারণ। সন্ধ্যা ৬ টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জলন ও আলোর মিছিল। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সন্ধ্যা ৭ টায় টাউন ক্লাব স্বাধীনতা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।