ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

শিক্ষা : ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্পের আওতায় আনা হবে : উপাচার্য   |    জাতীয় সংবাদ : বিএনপি অপরাধীদের দলে ভিড়িয়ে সমাজে হালাল করার রাজনীতি করে : ইনু * শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় : তোফায়েল * তথ্য প্রযুক্তি খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারের বিশেষ প্রকল্প   |   আবহাওয়া : রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুএক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে    |   খেলাধুলার সংবাদ : দশ বছর পরে জিম্বাবুয়ে দলে ডাক পেলেন জুওয়াও *দুবাইয়ে খেলছেন না ফেদেরার   |    বিভাগীয় সংবাদ : কেরানীগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : মোগাদিশুতে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ *উ.কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠিন অবরোধ আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের *মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানীতে ৩টি বোমা বিস্ফোরণ   |   

জয়পুরহাটে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সেবায় খুশি প্রসূতি মায়েরা

জয়পুরহাট , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ (বাসস) : জেলায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ২৪ ঘন্টার বিনামূল্যে সেবা পেয়ে খুশি মায়েরা। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গাইনী চিকিৎসক নিয়োগের কয়েক মাসের মধ্যেই কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত হওয়ায় প্রাণ ফিরে এসেছে এ সেবা কেন্দ্রের। প্রসবকালিন ও প্রসবোত্তর সেবা নিতে জেলার দূর দূরান্ত থেকে নারীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন ২০ শয্যার এ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেটিতে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাট শহরের ধানমন্ডি এলাকার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেবা নিতে আসা অসংখ্য নারী ও শিশুদের ভিড়। সেখানে কথা হয় সেবা নিতে আসা ধানমন্ডি এলাকার গৃহবধু শামিমার সাথে। তিনি জানান, ৪০ দিন আগে এ কেন্দ্রে তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। ডাক্তার এবং সেবিকাদের সেবায় তিনি স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করেছেন। সে সময় নামের সঙ্গে মোবাইল নম্বরও নেওয়া হয়। প্রসবের পর বাড়ি গেলেও ফোন করে ডাক্তার তাদের খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন ফলে ঘরে বসেও আমরা সেবা পাচ্ছি। বিনামূল্যে প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা পেয়ে শামিমা খুবই খুশি বলে জানান। সেবার ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা গ্রাম থেকে আসা গৃহবধু রওশন আরা বলেন,গ্রামের খালাতো বোনের প্রসবকালীন সেবা নিতে তিনি কিছুদিন আগে এসেছিলেন এ কেন্দ্রে। সন্তান প্রসবের পর তার বোন এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তিনি বৃহস্পতিবার নিজের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে এখানে এসেছেন। এখন সার্বক্ষণিক ডাক্তার থাকে বিষয়টি জেনেই তিনি এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। শুধু শামিমা বা রওশন নয় প্রতিদিন অসংখ্য গর্ভবতী নারীরা চিকিৎসা নিতে এখন ভিড় করছেন এ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে।
জানা গেছে, ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দুজন ডাক্তারের স্থলে কর্মরত আছেন একজন। অন্যান্য হাসপাতাল থেকে সাময়িক ভিত্তিতে আনা ডাক্তারের সহযোগিতায় সপ্তাহের রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার জটিল প্রসূতিদের অপারেশন করা হয়। ডাক্তার, ভিজিটর ও সেবিকাদের দক্ষতার কারণে এ সেবা কেন্দ্রে অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার খুবই কম। অধিকাংশ গর্ভবতীদের সন্তান প্রসব করানো হয় স্বাভাবিকভাবে। সার্বক্ষণিক নজরদারি করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ কে এম জোবায়ের গালীব। সুইপারের পদ ফাঁকা থাকলেও ডাক্তার, ভিজিটর সহ অন্য স্টাফরা টাকা দিয়ে অস্থায়ীভাবে একজন সুইপার রেখেছেন পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে। একজন সুইপার দিয়ে চলছে পুরো কেন্দ্রের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। কর্মরত ভিজিটর সংখ্যা চারজন হলেও কাজের চাপে প্রতিদিনই ডাক্তারসহ ওভার ডিউটি করতে হয় তাদের। এ ছাড়া পাঁচ জন সেবিকা, দুই জন ফার্মাসিস্ট, একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট, একজন পিয়ন ও দুই জন নৈশপ্রহরী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন এ কেন্দ্রে। চিকিৎসা বা প্রসূতী মায়েদের সেবা ওষুধের জন্য এখানে কোন টাকা খরচ করতে হয়না । শুধু চিকিৎসা ও ওষুধ নয় অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও দেওয়া হয় বিনামূল্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডাক্তার ও ভিজিটরদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১২০ জন গর্ভবতী মা সন্তান প্রসবে সেবা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ১০ জনের সন্তান হয়েছে অপারেশনের মাধ্যমে। এ ছাড়া প্রসব পূর্ব সেবা নিয়েছেন এক হাজার নারী, চিকিৎসা নিয়েছে ৯৬০ জন শিশু, টিকা ও বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন নারী এবং ভায়া (জরায়ুর মূখে ক্যান্সার) পরীক্ষা করা হয়েছে ১১৫ জন নারীর। কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ থাকলেও ডাক্তার নিয়োগের পর প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কেন্দ্রের ভিজিটর ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ডাক্তার আসার পর প্রসব সেবা শুরু করায় রোগীর চাপ বাড়ছে। কেন্দ্রে গাইনী চিকিৎসক সওদাগর শাহানা পারভীন বলেন,এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে যোগদান করার পর খুব খারাপ অবস্থা ছিল এ কেন্দ্রটির। সবাইকে সাথে নিয়ে নিয়মিত সেবা দেওয়ার কারণে এখন সেবা নিতে আসা নারীদের আস্থা ফিরেছে। তিনি বলেন,রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে তাদের সব সময় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে বেশির ভাগ সন্তান প্রসব স্বাভাবিকভাবে করানো হয়। জটিল ছাড়া সিজার করানো হয়না। বেশি জটিল হলে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স করে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ জোবায়ের গালীব বলেন,ডাক্তার না থাকার কারণে জয়পুরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দীর্ঘ দুই বছর চিকিৎসা সেবা প্রায় বন্ধ ছিল। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় একজন স্থায়ী ও কয়েকজন অস্থায়ী ডাক্তারের ব্যবস্থা করার পর দরিদ্র ও সাধারন রোগী বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।