ঢাকা, শনিবার, জুন ২৪, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই : শিল্পমন্ত্রী * পবিত্র ঈদুল ফিতরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে : আইজিপি   |   খেলাধুলার সংবাদ : টেস্ট মর্যাদা পেল আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড *সানচেজের রেকর্ডময় ম্যাচে জার্মানির সাথে ড্র করলো চিলি *আট ম্যাচ নিষিদ্ধ অস্কার *   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ব্রেক্সিটের পরও ব্রিটেনে অভিবাসী ইইউ নাগরিকরা সমান অধিকার পাবেন : টেরেসা মে * একসঙ্গে ৩১ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারত * আফগানিস্তানের হেলমান্দে জঙ্গি হামলায় নিহত ৩৪ * কোয়েটায় পুলিশ প্রধানের দফতরের কাছে গাড়ি বোমা হামলা : নিহত ১১   |    জাতীয় সংবাদ : দেশব্যাপী জুমাতুল বিদা পালিত * আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা * ১ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে বেজা * রাজধানীসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত   |   আবহাওয়া : দেশের ৮টি বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে   |    বিভাগীয় সংবাদ : যশোরে ১৩ হাজার ২শ ৯৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ * নড়াইলে বিনামূল্যে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ বিতরণ    |   প্রধানমন্ত্রী : আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতির পিতার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন * আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার সময় ও সুযোগ দিন : দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী   |   

ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাঘড়া গ্রাম এখন আগরবাতির কাঠি পল্লী হিসেবে পরিচিত

॥ সঞ্জীব চন্দ বিল্টু ॥
শেরপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ (বাসস) : সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঝিনাইগাতি উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নেরই একটি গ্রাম ঘাগড়া। আর ঘাগড়ার কোনা পাড়াটিই এখন আগরবাতির কাঠি পল্লী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ৫ বছর আগেও যে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করত নিত্য অভাবের সাথে, এখন তারা সে অভাব ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে।
অর্থনৈতিক ভাবে গ্রামটিও চিত্র পাল্টে গেছে । এর মূলে যে ব্যক্তি কাজ করেছেন তার নাম ইউসুফ আলী (৫০)। তিনি একজন সফল উদ্যোগী। পাঁচ বছর আগে তিনি এলাকা থেকে খাড়াজোরা গাছের ছাল সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।এখন তারও ভাগ্য পাল্টে গেছে।
ইউসুফ আলী একদিন ঢাকায় দেখতে পান শত শত শ্রমিক আগরবাতির কাঠি তোলার কাজ করছে। কাঠি তোলার মালিকের সাথে তিনি কথা বললেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন নিজ এলাকায় এ কাজটি শুরু করবেন। ঢাকা থেকে শ্রমিক এনে নিজ বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলেন বাঁশের শলা তোলার কাজ। প্রায় দেড়মাস ঢাকার শ্রমিকের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়, কাজ করতে আগ্রহী গ্রামের অনেক বেকার ও স্কুল পড়য়া ছেলেমেয়ে।
ঢাকার শ্রমিক চলে যাবার পর গ্রামের বেকার ও দরিদ্র মানষেরা আর্র্থিক সমস্যা থেকে পরিত্রান পায়। ধীরে ধীরে গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক নারী-শিশু এমনকি স্কুলপড়ুয়া দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেয় এ কাজে। মাত্র ৫ বছরেই পাল্টে যায় গ্রামের চিত্র। পাশাপাশি ঘাঘরা কোনা পাড়া গ্রামের নাম পরিচিতি হয়ে উঠে কাঠি পল্লী হিসেবে।
কাঠি শ্রমিক সোনিয়া খাতুন (৪৫) জানায়, স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। অভাবের এ সংসারে সন্তানও রয়েছে। তাই পেটের তাগিদে বেছে নেয় কাঠি তোলার কাজ। প্রতিদিন সে ১২-১৫ কেজি কাঠি তুলতে পারে। কেজি প্রতি ১০ টাকা করে পায়। এতে যা টাকা পায় সে তাতে তার ছাট সংসার যায়।
বাঁশকাটা শ্রমিক শফিকুল (২৮) জানায়, প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ মণ বাঁশ কাটতে পারি। টুকরো টুকরো করে সে বাঁশ কাটে। এতে প্রতিমণ ২০ টাকা পায় সে । দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগার করতে পারে। এ দিয়ে তার সংসার চলছে।
ইউসূফ আলী জানান, প্রথমে আমি একা এ ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে আমার দেখাদেখি এ গ্রামের আরও ৫ থেকে ৬ জন এ ব্যবসায় নেমেছেন। প্রতিমাসে ২ বার ঢাকার মীর হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ি ও রায়েরবাগ বাজারসমূহে এ শলা বিক্রি করে থাকি। বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে বাঁশ কাটা ও শলা তোলাসহ যাবতীয় ব্যয় বাবদ প্রতিকেজি শলায় আমার ব্যয় হয় প্রায় ২৫ টাকা। আর ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রি করি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে।এভাবে প্রতিমাসে ২০০ থেকে ২৫০ মণ পর্যন্ত আগর বাতির বাঁশের শলা বা কাঠি বিক্রি করে পারি। এ ব্যবসায় শুধু আমিই স্বাবলম্বী হইনি। এলাকার শতশত মানুষের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, ঘাঘরার শ্রমিকেরা আগরবাতির কাঠি তৈরি করে জীবিকা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। তারা যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চায় তাদের জন্য উপজেলা পরিষদ সহায়তা করবে।