ঢাকা, সোমবার, অগাস্ট ২১, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি অব্যাহত এবং দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে উন্নতি শুরু   |   আবহাওয়া : দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে   |    জাতীয় সংবাদ : গ্যাটকো মামলা : হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ * নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলা: হাইকোর্টের রায় আগামীকাল ২২ আগস্ট * মুক্তামনির অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে আরো একটি অস্ত্রোপচার   |   খেলাধুলার সংবাদ : প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া * আলোনসোর দুই গোলে টটেনহ্যামকে পরাজিত করলো চেলসি * লা লিগায় রামোসের লাল কার্ডের রেকর্ড * ৩-০ গোলের বড় জয় দিয়ে লা লিগা শুরু করলো মাদ্রিদ   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : দ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু * ম্যাসেডোনিয়ায় বাস দুর্ঘটনা ॥ হতাহত ২৯ * সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের গাড়িবহর রুশ হামলায় ধ্বংস * ফিলিপাইনে হামলায় ৯ জন নিহত   |    বিভাগীয় সংবাদ : কুষ্টিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে অপহরণকারী নিহত * পিরোজপুরে জেলা কারাগার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে   |    অর্থনীতি : জয়পুরহাটে ১১ লাখ ৩৫ হাজার মে. টন সবজি উৎপাদন   |   

ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাঘড়া গ্রাম এখন আগরবাতির কাঠি পল্লী হিসেবে পরিচিত

॥ সঞ্জীব চন্দ বিল্টু ॥
শেরপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ (বাসস) : সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঝিনাইগাতি উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নেরই একটি গ্রাম ঘাগড়া। আর ঘাগড়ার কোনা পাড়াটিই এখন আগরবাতির কাঠি পল্লী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ৫ বছর আগেও যে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করত নিত্য অভাবের সাথে, এখন তারা সে অভাব ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে।
অর্থনৈতিক ভাবে গ্রামটিও চিত্র পাল্টে গেছে । এর মূলে যে ব্যক্তি কাজ করেছেন তার নাম ইউসুফ আলী (৫০)। তিনি একজন সফল উদ্যোগী। পাঁচ বছর আগে তিনি এলাকা থেকে খাড়াজোরা গাছের ছাল সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।এখন তারও ভাগ্য পাল্টে গেছে।
ইউসুফ আলী একদিন ঢাকায় দেখতে পান শত শত শ্রমিক আগরবাতির কাঠি তোলার কাজ করছে। কাঠি তোলার মালিকের সাথে তিনি কথা বললেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন নিজ এলাকায় এ কাজটি শুরু করবেন। ঢাকা থেকে শ্রমিক এনে নিজ বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলেন বাঁশের শলা তোলার কাজ। প্রায় দেড়মাস ঢাকার শ্রমিকের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়, কাজ করতে আগ্রহী গ্রামের অনেক বেকার ও স্কুল পড়য়া ছেলেমেয়ে।
ঢাকার শ্রমিক চলে যাবার পর গ্রামের বেকার ও দরিদ্র মানষেরা আর্র্থিক সমস্যা থেকে পরিত্রান পায়। ধীরে ধীরে গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক নারী-শিশু এমনকি স্কুলপড়ুয়া দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেয় এ কাজে। মাত্র ৫ বছরেই পাল্টে যায় গ্রামের চিত্র। পাশাপাশি ঘাঘরা কোনা পাড়া গ্রামের নাম পরিচিতি হয়ে উঠে কাঠি পল্লী হিসেবে।
কাঠি শ্রমিক সোনিয়া খাতুন (৪৫) জানায়, স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। অভাবের এ সংসারে সন্তানও রয়েছে। তাই পেটের তাগিদে বেছে নেয় কাঠি তোলার কাজ। প্রতিদিন সে ১২-১৫ কেজি কাঠি তুলতে পারে। কেজি প্রতি ১০ টাকা করে পায়। এতে যা টাকা পায় সে তাতে তার ছাট সংসার যায়।
বাঁশকাটা শ্রমিক শফিকুল (২৮) জানায়, প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ মণ বাঁশ কাটতে পারি। টুকরো টুকরো করে সে বাঁশ কাটে। এতে প্রতিমণ ২০ টাকা পায় সে । দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগার করতে পারে। এ দিয়ে তার সংসার চলছে।
ইউসূফ আলী জানান, প্রথমে আমি একা এ ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে আমার দেখাদেখি এ গ্রামের আরও ৫ থেকে ৬ জন এ ব্যবসায় নেমেছেন। প্রতিমাসে ২ বার ঢাকার মীর হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ি ও রায়েরবাগ বাজারসমূহে এ শলা বিক্রি করে থাকি। বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে বাঁশ কাটা ও শলা তোলাসহ যাবতীয় ব্যয় বাবদ প্রতিকেজি শলায় আমার ব্যয় হয় প্রায় ২৫ টাকা। আর ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রি করি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে।এভাবে প্রতিমাসে ২০০ থেকে ২৫০ মণ পর্যন্ত আগর বাতির বাঁশের শলা বা কাঠি বিক্রি করে পারি। এ ব্যবসায় শুধু আমিই স্বাবলম্বী হইনি। এলাকার শতশত মানুষের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, ঘাঘরার শ্রমিকেরা আগরবাতির কাঠি তৈরি করে জীবিকা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। তারা যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চায় তাদের জন্য উপজেলা পরিষদ সহায়তা করবে।