ঢাকা, শুক্রুবার, এপ্রিল ২০, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : বাণিজ্য ব্যবস্থাকে অধিকতর টেকসই করতে কমনওয়েলথের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * নীল অর্থনীতির সুফল পেতে প্রযুক্তি ও গবেষণা বিনিময়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * প্রত্যাশা পূরণে চাই কমনওয়েলথ সংস্কার : প্রধানমন্ত্রী   |   প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন জাস্টিন ট্রুডো * ব্রিটেনের রাণী এলিজাবেথের ২৫তম সিএইচওজিএম উদ্বোধন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যোগদান * লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর ১৩ গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর   |    জাতীয় সংবাদ : দেশের প্রয়োজন সৎ ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা : তথ্যমন্ত্রী * প্রবাসীদের ভোটার করার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রধান সমস্যা : সিইসি * মৌলভীবাজারে আগর শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে : আমু   |   রাষ্ট্রপতি : পাঁচটি বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি   |    অর্থনীতি : অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে ১.৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি * সিএনজি-থ্রী হুইলার্স করের আওতায় আসছে   |    জাতীয় সংবাদ : উৎসব কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি : বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী * এক মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু : মোজাম্মেল হক * ২০২০ সালের মধ্যে দেশের বনাঞ্চল ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আর্মেনিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারী আটক   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা বিষয়ে সিরিয়া ও রাশিয়ার সাথে জাতিসংঘের আলোচনা * ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ২ জনের মৃত্যু, আহত ২১ *উ.কোরিয়ায় আটক জাপানী নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার অঙ্গীকার ট্রাম্পের   |   খেলাধুলার সংবাদ : শনিবার শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল *আইপিএল : রানার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো কলকাতা    |    বিভাগীয় সংবাদ : বানিয়াচংয়ে বাস খাদে, আহত ১০ * জয়পুরহাটে শিশু খাদ্য আইন ও বিধিমালা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা *ভোলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা * নকলায় কৃষি ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে   |   

ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাঘড়া গ্রাম এখন আগরবাতির কাঠি পল্লী হিসেবে পরিচিত

॥ সঞ্জীব চন্দ বিল্টু ॥
শেরপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ (বাসস) : সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঝিনাইগাতি উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নেরই একটি গ্রাম ঘাগড়া। আর ঘাগড়ার কোনা পাড়াটিই এখন আগরবাতির কাঠি পল্লী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ৫ বছর আগেও যে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করত নিত্য অভাবের সাথে, এখন তারা সে অভাব ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে।
অর্থনৈতিক ভাবে গ্রামটিও চিত্র পাল্টে গেছে । এর মূলে যে ব্যক্তি কাজ করেছেন তার নাম ইউসুফ আলী (৫০)। তিনি একজন সফল উদ্যোগী। পাঁচ বছর আগে তিনি এলাকা থেকে খাড়াজোরা গাছের ছাল সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।এখন তারও ভাগ্য পাল্টে গেছে।
ইউসুফ আলী একদিন ঢাকায় দেখতে পান শত শত শ্রমিক আগরবাতির কাঠি তোলার কাজ করছে। কাঠি তোলার মালিকের সাথে তিনি কথা বললেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন নিজ এলাকায় এ কাজটি শুরু করবেন। ঢাকা থেকে শ্রমিক এনে নিজ বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলেন বাঁশের শলা তোলার কাজ। প্রায় দেড়মাস ঢাকার শ্রমিকের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়, কাজ করতে আগ্রহী গ্রামের অনেক বেকার ও স্কুল পড়য়া ছেলেমেয়ে।
ঢাকার শ্রমিক চলে যাবার পর গ্রামের বেকার ও দরিদ্র মানষেরা আর্র্থিক সমস্যা থেকে পরিত্রান পায়। ধীরে ধীরে গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক নারী-শিশু এমনকি স্কুলপড়ুয়া দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেয় এ কাজে। মাত্র ৫ বছরেই পাল্টে যায় গ্রামের চিত্র। পাশাপাশি ঘাঘরা কোনা পাড়া গ্রামের নাম পরিচিতি হয়ে উঠে কাঠি পল্লী হিসেবে।
কাঠি শ্রমিক সোনিয়া খাতুন (৪৫) জানায়, স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। অভাবের এ সংসারে সন্তানও রয়েছে। তাই পেটের তাগিদে বেছে নেয় কাঠি তোলার কাজ। প্রতিদিন সে ১২-১৫ কেজি কাঠি তুলতে পারে। কেজি প্রতি ১০ টাকা করে পায়। এতে যা টাকা পায় সে তাতে তার ছাট সংসার যায়।
বাঁশকাটা শ্রমিক শফিকুল (২৮) জানায়, প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ মণ বাঁশ কাটতে পারি। টুকরো টুকরো করে সে বাঁশ কাটে। এতে প্রতিমণ ২০ টাকা পায় সে । দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগার করতে পারে। এ দিয়ে তার সংসার চলছে।
ইউসূফ আলী জানান, প্রথমে আমি একা এ ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে আমার দেখাদেখি এ গ্রামের আরও ৫ থেকে ৬ জন এ ব্যবসায় নেমেছেন। প্রতিমাসে ২ বার ঢাকার মীর হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ি ও রায়েরবাগ বাজারসমূহে এ শলা বিক্রি করে থাকি। বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে বাঁশ কাটা ও শলা তোলাসহ যাবতীয় ব্যয় বাবদ প্রতিকেজি শলায় আমার ব্যয় হয় প্রায় ২৫ টাকা। আর ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রি করি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে।এভাবে প্রতিমাসে ২০০ থেকে ২৫০ মণ পর্যন্ত আগর বাতির বাঁশের শলা বা কাঠি বিক্রি করে পারি। এ ব্যবসায় শুধু আমিই স্বাবলম্বী হইনি। এলাকার শতশত মানুষের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, ঘাঘরার শ্রমিকেরা আগরবাতির কাঠি তৈরি করে জীবিকা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। তারা যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চায় তাদের জন্য উপজেলা পরিষদ সহায়তা করবে।