ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : পরমাণু পরীক্ষা বন্ধে উত্তর কোরীয় নেতার প্রতিশ্রতির প্রশংসা দক্ষিণ কোরীয় নেতার * গাজায় ইসরাইলি সৈন্যের গুলিতে আহত ফিলিস্তিনীর মৃত্যু * লিবিয়ার বেনগাজিতে সংঘর্ষে ২ জন নিহত * ভারতের মধ্যাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫   |    জাতীয় সংবাদ : কপিরাইট আইন সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি : সংস্কৃতি মন্ত্রী   |   খেলাধুলার সংবাদ : পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনীত হলেন সালাহ * সাউদাম্পটনকে হারিয়ে এফএ কাপের ফাইনালে চেলসি *নেইমারের পিএসজি ত্যাগ করা উচিত : রিভালদো   |    জাতীয় সংবাদ : রাজধানীর পল্টনে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১ *১৯ ক্যাটাগরির কর্মী প্রেরণ করা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে * বিএসসি বহরে নতুন জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা আসছে জুলাইতে * পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সকলকে অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে : মায়া চৌধুরী   |   আবহাওয়া : দেশের কোথাও কোথাও বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে   |   প্রধানমন্ত্রী : দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী   |    বিভাগীয় সংবাদ : রাঙ্গামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন * বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালন   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : লিবিয়ায় ১১ শরণার্থীর লাশ উদ্ধার * প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীলদের জয় *সীমান্ত সংক্রান্ত বার্তা প্রচার বন্ধ দ.কোরিয়ার * প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট হাসপাতালে * উত্তর কোরিয়ায় বাস দুর্ঘটনা : কমপক্ষে ৩২ চীনা নাগরিক নিহত   |   

উত্তাল মার্চ : খুলনা মহানগরী ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে

খুলনা, ৩ মার্চ, ২০১৫ (বাসস) : ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে খুলনা মহানগরী উত্তাল হয়ে ওঠে।
রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ৩২নং সড়কের বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মূলত দেশ পরিচালনা করতে থাকেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের শাসন অকার্যকর হয়ে পড়ে। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিরা অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেয়। সব কিছু চলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী।
১৯৭১ সালে খুলনায় মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলোর বর্ণনা দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধকালে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার শেখ কামরুজ্জামান টুকু বাসসকে বলেন, সে সময়ে তারা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাঠানো নির্দেশ অনুযায়ী খুলনা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং পাকিস্তান শাসনের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু শ্লোগান দিতে থাকে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানায়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে।
টুকু বলেন, শহীদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছাত্রলীগ নেতা এসএম বাবর আলীর নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় হুমায়ন কবির বালু। কমিটির মনোনীত অপর সদস্যরা হলেন, শেখ আবদুল কাইয়ুম, হায়দার গাজী সালাউদ্দিন রুনু, হেকমত আলী ভুইয়া, আবুল কাশেম, সিরাজুল হক ফকির এবং মাহবুব আলম হিরণ।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা খুলনা অঞ্চলে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সরকারি ও বেসরকারি অফিস এমনকি সকল ব্যবসায়ী কর্মকা- থেমে যায়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলন আরো বেগবান করতে খুলনা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে এই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সর্বস্তরের হাজার হাজার লোক অংশ নেয়।
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে এবং হরতাল অবরোধ, সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে।
টুকু বলেন, অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে খালিশপুরে শিল্প এলাকা এবং দৌলতপুর এলাকায় শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬-দফা আন্দোলনের পর থেকে এই অঞ্চলে সকল আন্দোলন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছে।
তিনি বলেন, সে সময়ে ১২টি ইউনিয়ন ও জোনে বিভক্ত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১২ জন আহ্বায়ক এসকল ইউয়িন ও জোনে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
মুক্তিযোদ্ধা এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম বাবর আলী বলেন, সে সময়ে খুলনা বেতার কেন্দ্র এবং লুৎফর রহমান জাহাঙ্গীর প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা দেশের ডাক জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবর আলী বাসসকে বলেন, স্বাধীনতাকামী জনতা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সকল কর্মসূচিতে যোগ দেন। তারা পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দেয় এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তনকে বিদায় জানাতে মানসিক প্রস্তুতি দেখায়।
১৯৭১ সালের মার্চের গণআন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে আবেগ আপ্লুত হয়ে বাবর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে খুলনায় প্রথম শহীদ হন এক লন্ড্রী দোকান কর্মচারী হাদিস।
পাকিস্তানি পুলিশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মিছিলে গুলি চালালে হাদিস নিহত এবং অপর ৫০ জন আহত হন। পরে এক সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নগরীর পার্কটি শহীদ হাদিস পার্ক নামকরণ করা হয়। হাদিস নিহত হওয়ার পর প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে অসহযোগ আন্দোলনের সর্বশেষ খবর এখানে প্রচার করা হতো।