ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : সংযুক্ত আরব আমিরাত শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে আরো জনশক্তি নেবে   |   শিক্ষা : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী   |   রাষ্ট্রপতি : স্বাস্থ্য ও মেধা বিকাশে মধুসহ পুষ্টি যোগানের উদ্যোগ বাস্তবায়ন চাই : রাষ্ট্রপতি   |   প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন * সরকার সুষম খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী   |    অর্থনীতি : কর ফাঁকিবাজ বিদেশী কর্মীরা এনবিআরের নজরদারিতে : ৬ মাসের মধ্যে বিদেশী কর্মীদের ডাটাবেজ   |    জাতীয় সংবাদ : নির্বাচনে খালেদার অংশগ্রহণের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার : ওবায়দুল কাদের * বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয় না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * খালেদা জিয়ার মামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন সম্পর্ক নেই : হানিফ   |    জাতীয় সংবাদ : খালেদা জিয়াকে কারাগারের রোজনামচা বই পড়ার আহবান জানিয়েছেন মেনন * সাহিত্যিক কাজী হেয়াত মামুদ ছিলেন একজন আলোকিত সত্য মানুষ : শিরীন শারমিন * নারী নির্যাতনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে : চুমকি   |    বিভাগীয় সংবাদ : গোপালগঞ্জে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু আগামীকাল *পায়রা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত *জয়পুরহাটে মঙ্গলবার থেকে বইমেলা শুরু   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৭০ জঙ্গি নিহত * মেক্সিকোতে শক্তিশালী ভূমিকম্প *নাইজেরিয়ায় বাজারে বোমা হামলায় নিহত ২২   |   খেলাধুলার সংবাদ : অনন্য এক রেকর্ড গড়ে আবারো নাম্বার ওয়ান ফেদেরার * কোহলির সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে ভারত   |   

ভোলায় বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন, চলতি বছরের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ

ভোলা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : বর্তমান সরকারের টানা ৯ বছরে জেলায় বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে যেখানে মাত্র ১৩ ভাগ বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী ছিলো, সেখানে এখন প্রায় ৬০ ভাগেরও বেশি মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। গ্রাহক সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে তিনগুণেরও অধিক। এছাড়া বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, উপকেন্দ্র স্থাপন ও উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুন। ইতোমধ্যে দৌলতখান উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে শতভাগ বিদ্যূৎ পাবে সদর উপজেলা। এছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ জেলার প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।
ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৯ বছরে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ খাতে অনেক উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদও আজ আলোকিত। ১৯৯৯ সাল থেকে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গ্রাহক সংযোগ ছিলো ৪০ হাজার ৯৪৬ জন। আর বর্তমান সরকারের গত ৯ বছরে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৬৮ জনকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনেছে। পূর্বে বিদ্যুৎ লাইন ছিলো মাত্র ২ হাজার ১৬৪ কিলোমিটার। বর্তমানে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০৪ কি:মি:।
সূত্র আরো জানায়, জেলায় পূর্বে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ছিলো ৩টি। এখন তা মোট ৬টি হয়েছে। ১০ এমভি ক্ষমতাসম্পন্ন আরো ২টি উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায় রয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি হচ্ছে সদরের চরসামাইয়া ইউনিয়নে ও অন্যটি লালমোহনের কর্তারহাটে। আগামী এপ্রিল মাসে এদুটি কেন্দ্র চালু করা হবে। এছাড়া আরো ২টি উপকেন্দ্র স্থাপনের জন্য চরফ্যাসনের দুলার হাট ও দক্ষিণ আইচায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চুড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে।একইসাথে সরকারের কঠোর নজরদারির কল্যাণে এ খাতে অনিময়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে বহুলাংশে।
ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো: কেফায়েত উল্লাহ আজ বাসসকে বলেন, শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যূৎ এ স্লোগান নিয়ে জেলায় পল্লী বিদ্যূৎ সমিতি ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যে সমগ্র জেলাকে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে মহা-পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম আলোকিত হচ্ছে বিদ্যূতের আলোয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কারণে আগের মত সন্ধ্যার পর পর মানুষ ঘুমিয়ে পড়ছেননা। রাত ৯টা ১০টা পর্যন্ত জাগ্রত থেকে টেলিভিশন, মোবাইল, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে বর্হিবিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন। এতে করে সাধারন মানুষের মধ্যে কর্ম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে মহাজোট সরকারের আমলে দ্বীপ জেলায় ব্যাপক বিদ্যুৎ সংযোগ বৃদ্ধি পাওয়াতে আনন্দিত গ্রাম-গঞ্জসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা। বিচ্ছিন্ন এ জনপদের বিভিন্ন চরাঞ্চলও আজ পল্লী বিদ্যুতের আওতায় আলোকিত। অন্ধকারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে অবহেলিত এ অঞ্চলের বাসিন্দারা এগিয়ে চলছে।
জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দাসের পুল এলাকার কৃষক জয়নাল আলী ও রহমত মিয়া বলেন, আগে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেচ কাজ ব্যহত হতো। এখন বিদ্যুৎ থাকায় কৃষি কাজে গতি এসেছে। বাড়ছে সব ধরনের কৃষি উৎপাদন। দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা গ্রামের লুৎফুর রহমান নিমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সেলিম জানান, সরকারের ব্যাপক বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধিসহ শিক্ষাখাতে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। বিদ্যুতের আলোতে শিক্ষার্থীরা এখন রাত জেগে পড়া-শুনা করতে পারছে।
জিএম কেফায়েত উল্লাহ আরো বলেন, আগে যেখানে দেশে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিলো। সেখানে বর্তমানে ১৬ হাজার ৪০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন হয়েছে। জেলায় ঝড়, বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া এখন আর লোডশেডিং হচ্ছেনা। বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নজরদারির অভাবে প্রত্যাশিত সংযোগ বিতরণ সম্ভব হয়নি। আর বর্তমান সরকারের আমলে ঘরে ঘরে টেকসই বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের কমিটমেন্টের কারণেই ব্যাপক বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ প্রধান কর্মকর্তা।
সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের গাজীর চর বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ও মহিবুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তারা প্রায় ২০ বছর ধরে এ বাজারে ব্যবসা করেন। বিদ্যূৎ লাইন আসার আগে সন্ধ্যার পর পরই বাজার বন্ধ হয়ে যেত। আর এখন বিদ্যূৎ এর আলোতে অনেক রাত পর্যন্ত বাজার জমজমাট থাকে। এতে তাদের ব্যবসাও আগের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে। সব দিক থেকে অনেক সুবিধা হচ্ছে বলে জানান তারা।
ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ভোলায় খুব দ্রুতভাবে কাজ এগিয়ে চলছে। আমাদের প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যনদের বলে দেওয়া হয়েছে গ্রামের বিদ্যুৎবিহীন ঘরের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেওয়ার জন্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন নির্ধারিত সময়ের আগেই জেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।