ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : ২১ বিশিষ্ট নাগরিককে প্রধানমন্ত্রীর একুশে পদক প্রদান   |   আবহাওয়া : রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে   |   বিনোদন ও শিল্পকলা : বিজয় সরকারের ১১৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসব শুরু   |    বিভাগীয় সংবাদ : জয়পুরহাটে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত *চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য সম্মাননা পদক পাচ্ছেন ইবি শিক্ষক ড. রবিউল * জয়পুরহাটে অমর একুশে উদযাপনে কর্মসূচি গ্রহণ *সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গ্রীন ভ্যালিসহ নতুন পরিকল্পনা   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ফিলিপাইনে ডায়রিয়ায় ১০ জনের মৃত্যু   |   

নতুন বইয়ের সমাহারে জমজমাট গ্রন্থমেলা

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : একুশের গ্রন্থমেলা শনিবার ছিল জমজমাট। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রকৃতরূপে সেজেছে। পাঠক-ক্রেতা, লেখকসহ বইপ্রেমীদের সমাগমে মেলাঙ্গন ছিল উৎসবমুখর।
নতুন বইয়ের সমাহারে মেলার প্যাভিলিয়ন ও প্রায় সব স্টল ছিল ভরপুর। নতুন বইয়ের নানা রংয়ের অঙ্গসজ্জার আকর্ষণীয় প্রচ্ছদের সম্মিলন মেলায় দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি করে। সব বয়সের মানুষ স্টলের সামনে দাঁড়িয়েই হাতে বই তুলে নিচ্ছেন।
শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। শত শত শিশুও অভিভাবকদের সঙ্গে মেলায় এসেছিল। বাংলা একাডেমির বটমূলের পাশে শিশু কর্নারের স্টলগুলোতে সারাদিনই শিশুদের ভীড় ছিল। এখানকার স্টলগুলো থেকে জানানো হয়, আজ শিশুদের প্রচুর বই বিক্রি হয়েছে।
মেলার তৃতীয় দিনে শনিবার ১২০টি নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে। এ নিয়ে গত দুইদিনে নতুন বই আসলো মেলায় ১৭৫টি। শুক্রবার এসেছিল ৫৫টি। প্রথমদিনে নতুন বইয়ের তালিকা করেনি বাংলা একাডেমি। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে কবিতার বই ছিল বেশি। তারপরই রয়েছে ছোট গল্প ও প্রবন্ধের বই। মেলা শুরু হয় সকালে ১১টায়। সকালেও মেলায় দর্শকের সংখ্যা ছিল দেখার মতো। শিশুরাই ছিল বেশি। স্টলে স্টলে নানা বয়সের মানুষের ভীড় ছিল। বিকেল চারটার পর থেকে সব স্টলেই ক্রেতা-দর্শকের ভীড় জমে যায়। বইও বিক্রি হয়েছে ভাল। প্যাভিলিয়নগুলোতে ক্রেতার ভিড় বেশি।
সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলোর স্টলে মেলার তিনদিনে বিপুল সংখ্যক নতুন বই এসেছে। স্টলগুলো থেকে বাসসকে জানানো হয়, বাংলা একাডেমি স্টলে সর্বোচ্চ ৫৬টি নতুন বই এসেছে। অন্য প্রকাশ স্টলে ২২টি, মওলা বাদার্স স্টলে ৯টি, পারিজাত ৮টি, য়ারোয়া বুক কর্নারে ২০টি, আগামী প্রকাশনী ১২টি,সময় ১৭টি, অনন্যা ১৪টি নতুন বই এনেছে।
বিকেলে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় নবাব আহসানউল্লাহ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মশিউল আলম। সভাপতিত্ব করেন কাজী রফিকুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন মনিরুল ইসলাম,সরদার আবদুল মান্নান।
বক্তারা বলেন, নবাব আহসানউল্লাহ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব। তার লেখা সকল বইতে তার এই প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বাংলা ভাষার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেন। তিনি হচ্ছেন মুসলিম জাগরনে রেঁনেসাস মানব। নবাব শিক্ষা,সংস্কৃতি, সংগীত, ধর্মসহ সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্নক্ষেত্রে বিপুল পরিশ্রম করেছেন। তার ১২ খন্ড রচনাবলীতে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, সুজিত মুস্তাফা ও শহীদ কবির পলাশ।
রোববারের অনুষ্ঠানমালা : মহান একুশের গ্রন্থমেলার চতুর্থদিনে আগামীকাল রোববার মেলা শুরু হবে বিকেল তিনটায়। বিকেল চারটায় বাংলা একাডেমির মূলমঞ্চে রয়েছে শহীদ রণদা প্রসাদ সাহা শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রতিভা মুৎসুদ্দি। সভাপতিত্ব করবেন রফিকুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেবেন আজিজুর রহমান আজিজ, হেনা সুলতানা প্রমুখ।
বাসস/এইচএ/১৮৫২/কেএমকে