ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিভাগীয় সংবাদ : নড়াইলে লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভাষা শহীদদের স্মরণ   |   

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হলো কোরীয় ছবি জার্নি ইনটু দ্যা ড্রিম

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : ঢাকা আর্ন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হলো ব্যাতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র জার্নি ইনটু দ্যা ড্রিম। কোরিয়ায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিবাসী শ্রমিকদের জীবনধারা এবং তাদের স্বপ্নময় চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে।
ছবিটি বাংলা ও কোরিয়ান ভাষায় নির্মিত। ইংরেজিতেও ছবিটির সাবটাইটেল করা হয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে ছবিটি উপভোগ করেছে। কোরিয়ায় কর্মরত শ্রমিকরা এতে অভিনয়সহ অন্যান্য পর্বগুলোতে অংশ নেন। ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে আধুনিকতার ছাপ অত্যন্ত পরিস্ফুট। সংলাপ, সংগীত, সাক্ষাৎকার, শ্রমিকদের কারখানার পরিবেশ, তাদের আবাসস্থল, রাত্রি দিনের জীবনের গল্পমালায় সমৃদ্ধ এই ছবিটি উৎসবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রদর্শিত হয়।
কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিনে আজ এই ছবিটি প্রদর্শিত হয়। ছবিটির পরিচালক কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশের নাট্য ও সংস্কৃতি ব্যাক্তিত্ব শেখ আল মামুন। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার ছবি প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি উৎসবে যোগ দিয়েছেন। ছবিটি প্রদর্শনীর পর তার সঙ্গে আলাপ হয় উৎসব প্রাঙ্গণে।
তিনি বাসসকে জানান, কোরিয়া বিশ্বের অন্যমত সংস্কৃতি ও শিল্পমাধ্যমের দেশ। সেখানে বিশ্বের নানা দেশের শ্রমিকরা কর্মরত। তাদের জীবন কাটে বিচিত্র কর্মযজ্ঞের মধ্যদিয়ে। অভিবাসীরা তাদের ব্যস্ততম জীবনের ফাঁকে ফাঁকে সংস্কৃতির অনুসঙ্গ চায়। কিন্তু সেই আকাংখা বাস্তবায়নে সুযোগ আসে না। আমি তাদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সেই সুযোগটি সৃষ্টি করেছি-তাদেরই জীবন নিয়ে এবং তাদের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে।
পরিচালক শেখ আল মামুন আরও জানান, বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হলো এটা আমার কাছে খুবই আনন্দের বিষয়। আমি কোরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছি, কিন্তু নিজের দেশের উৎসবে অংশগ্রহণ এবং আমার চলচিত্র প্রদর্শন দায়মুক্তির মতো মনে হচ্ছে। আমি ছবিটিতে অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন ও তাদের ভালমন্দকে তুলে ধরেছি। এতে অভিবাষী শ্রমিকদের অন্তরের কথাগুলো উঠে এসেছে।
আটষট্টি মিনিটের চলচ্চিত্র জার্নি ইনটু দ্যা ড্রিম কোরিয়ার এ এম সি ফ্যাক্টরী ও বাংলাদেশের জলজ মুভি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে। ছবিটির চিত্রগ্রহণ, ক্যামেরার কাজ ও সংলাপ নির্মাণে রয়েছে দক্ষতার ছাপ। ছবিটির চিত্রগ্রহণে রয়েছেন সাঈদ মুন্না, শেখ আল মামুন ও সাইফুল ইসলাম জার্নাল। সম্পাদনা করেছেন সাইফুল ইসলাম জার্নাল, কোরিয়ার এ এম সি ফ্যাক্টরীর কর্মীবৃন্দ।
অন্যতম চিত্রগ্রাহক সাইফুল ইসলাম জার্নাল ছবিটির নির্মাণ বিষয়ে বাসসকে বলেন, ছবিটি নির্মাণে বেশ কিছু ক্ষেত্রে গতানুগতিক চলচ্চিত্রের বাইরে ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করা হয়েছে। ক্যামারার কাজে রয়েছে নতুত্বের ছাপ। যা দর্শকদের সহজেই ভাললাগাকে স্পর্শ করতে পারে।