ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : রাখাইন প্রদেশে সহিংসতা বন্ধ করতে কমনওয়েলথের আহ্বান   |   রাষ্ট্রপতি : কিশোরগঞ্জের ব্যবসায়ী আবদুল করিমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : কিউবায় কাস্ত্রো পরিবারের বাইরে নেতৃত্ব : দিয়াজ-কানেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর   |   বিনোদন ও শিল্পকলা : সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ এ্যাডভেঞ্চার ট্রি   |    জাতীয় সংবাদ : উন্নয়নে নারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখতে হবে : ইনু * আইডব্লিউএম ও সিসিকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর * নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে : শিল্পমন্ত্রী * কুড়িগ্রামের সোনারহাট স্থলবন্দর চালু হবে : নৌ পরিবহন মন্ত্রী   |   খেলাধুলার সংবাদ : আমি এখনো বুড়ো হয়ে যাইনি : গেইল * গেইলের সেঞ্চুরিতে সাকিবের হায়দারাবাদকে প্রথম হারের স্বাদ দিলো পাঞ্জাব * টাইম-এর একশ প্রভাবশালীর তালিকায় কোহলি   |    বিভাগীয় সংবাদ : গাজীপুরে মিরের বাজারে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত এক : আহত ৩ * বরগুনায় ধারাবাহিক ভাবে সূর্যমুখীর চাষ চলছে * জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ পোল্ট্রি ফার্ম ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ   |   প্রধানমন্ত্রী : কমনওয়েলথ উচ্চ পর্যায়ের গ্রুপে আরো প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর * টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা * রাণী এলিজাবেথের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় ৮৩ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড কার্যকর * বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ায় কাঠমান্ডু বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা * দেশে অস্থিরতার কারণে ব্রিটেন সফর সংক্ষিপ্ত করলেন দ.আফ্রিকার নেতা   |   

কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল

ঢাকা, ১ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল ২ জানুয়ারি। সাহিত্যের বিভিন্ন ঘরানায় প্রায় ছয় দশক অত্যন্ত শাবলিলভাবে লেখালেখি করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি অবিভক্ত বাংলার পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। তার পিতার নাম শেখ মোহাম্মদ এহিয়া। ছাত্রজীবন থেকেই কথাশিল্পী শওকত ওসমান বৃটিশ শাসন বিরোধী ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালি শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন ঘরানায় সহিত্য চর্চা ও লেখালেখি করেন। অধ্যয়ন করেন মক্তব, মাদ্রাসা ও কলেজে। তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪১ সালে বাংলাসাহিত্যে াতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন কোলকাতা পৌরসভা চাকুরীর মধ্যদিয়ে। পরে পশ্চিবঙ্গ সরকারের তথ্য বিভাগেও কিছুদিন চাকুরী করেন। এমএ পাস করার পর কোলকাতা সরকারী কমার্স কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে প্রভাষক এবং পরবর্তীতে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করেন এবং ১৯৭২ সালে এই কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এরপর লেখালেখিই ছিল তার পেশা। ছাত্রাবস্থায় তিনি কোলকতায় কৃষক নামের একটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। শুরু থেকেই তার গল্প ও উপন্যাসে সকল ধরনের অন্যায়, অবিচার, শোষনের বিরুদ্ধে গণমানুষের কথামালা এবং তাদের আশা-আকাংখা ওঠে আসে। ক্রমে পশ্চিমা শোষনের সমালোচনামূলক কথাসাহিত্যে তিনি বিপুল সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী জান্তার অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেন জননী এবং জাহান্নাম থেকে বিদায় দুটি উপন্যাস। তিনি জীবিত থাকাকালেই জননী উপন্যাস বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রকাশনা সংস্থা প্যাংগুইন ইংরেজী ভাষায় প্রকাশ করে। বাংলাদেশের একজন চিন্তক এই কথাসাহিত্যিক বহুমুখী লেখক ছিলেন। তার প্রকাশিত উপন্যাস ১৬টি, গল্পগ্রন্থ ৩টি, প্রবন্ধগন্থ ৩টি, নাটক ৪টি, রম্য ১টি, স্মৃতিকথা ১৫টি, অনুবাদ ১১টি, বিভিন্ন বিষয়ে সমগ্র ৭টি এবং অন্যান্য বিষয়ে ৯টি গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ হচ্ছে, ইশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী, মনিব ও তার কুৃকুর, জন্ম যদি তব বঙ্গে, সাবেক কাহিনী, জুনু আপা ও অন্যান গল্প, উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে-জননী, ক্রীতদাসের হাসি, বনী আদম, রাজ উপাখ্যান, জাহান্নাম হতে বিদায়, পুরাতন খঞ্জর, জলাঙ্গী, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য।
সাহিত্যে অবাদনের জন্য শওকত ওসমান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কারসহ বেশকিছু পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।
দিবসটি উপলক্ষে শওকত ওসমান স্মৃতি সংসদ ও কথাসাহিত্যিকের পরিবারের পক্ষ থেকে আগামীকাল ২ জানুয়ারি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।