ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বারবার বাংলায় প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়েছে

ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭ (বাসস) : বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বারবার বাংলায় প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়েছে। ৫২র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ নানা আন্দোলনে এ সংস্কৃতি আমাদের অধিকার আদায়ে যুগিয়েছে শক্তি ও সাহস। পৌষমেলাও তার ব্যতিক্রম নয়।
আজ সকাল সাড়ে ৮টায় তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক কামাল লোহানী এ কথা বলেন। বাংলা একাডেমি চত্বরে গ্রামীণ রীতি অনুযায়ী মাটির আইলায় আগুন জ্বালিয়ে তিনি ১৯তম এ পৌষ মেলার উদ্বোধন করেন।
ইট পাথরের এ নগরীতে গ্রাম-বাংলার লোকজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে পৌষমেলা উদযাপন পরিষদ একাডেমির সহায়তায় এ মেলার আয়োজন করেছে।
সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে বাঙালি সংস্কৃতির এ উৎসব নিয়ে আলোচনা করেন একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন। অনুষ্ঠানের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পৌষমেলা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়।
কামাল লোহানী বলেন, জঙ্গিবাদের উত্থান ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প রোধে পৌষ মেলাসহ বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যতে আঁকড়ে আমাদের সংঘবদ্ধ হতে হবে। বিদেশি অপসংস্কৃতি আর মানুষ হত্যাকারী পশুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের বঙ্গ সংস্কৃতির উৎসবগুলোর চর্চা বাড়াতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পৌষমেলায় গান, কবিতা আর নাচের সাথে নকশাদার বাহারি পিঠার স্বাদ নিতে সকাল থেকেই একাডেমি প্রাঙ্গণ নগরীর সব বয়সী মানুষসহ তরুণ প্রজন্মের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
নগরীর এ তরুণদের উদ্দেশে পরিষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, নগরে বেড়ে ওঠা তরুণরা যেন নিজ শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে, সে জন্য বাঙালি সংস্কৃতির এ উপাদানগুলোকে মেলার মাধ্যমে তাদের সামনে তুলে ধরতেই আমাদের এ আয়োজন।
সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে বাঁশিতে লোকজ গানের সুরের মূর্ছনায় নিবেদন শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন পৌষ এলো গো.. গানটি। এর পরই রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী বুলবুল ইসলাম গেয়ে শোনান এলো যে শীতের বেলা..। আবৃত্তি সংগঠন প্রকাশ এর দলীয় প্রযোজনার পরেই দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যজন।
একক গান পর্বে ফকির আলমগীর বন্ধু যেদিন আসবে আমার ঘরে.., আকরামুল ইসলাম পরিবেশন করেন হাসন রাজার দুটি গান আগুন লাগাইয়া দিলো বনে.., ও নিশা লাগিলো রে..। খগেন্দ্রনাথ সরকার মনে ভাবনা পাতার কষ লেগেছে.., বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়.. এবং সঞ্জয় কবিরাজ সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনাতে নজরুল গানটি গেয়ে শোনান।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। আইলা প্রজ্বলনের সময় সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রার্থী কবিতাটি আবৃত্তি করেন রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন ও ধৃতি নর্তনালয়। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, স্বভূমি লেখক শিল্পীকেন্দ্র, বহ্নিশিখা দলীয় সংগীত পরিবেশন করে। কণ্ঠশীলন শোনায় দলী আবৃত্তি।
আজ মেলার বিকালের পর্বে রয়েছে ঋষিজ, বেনুকা ললিতকলা একাডেমি, জাগো আর্ট সেন্টার, নান্দনিক, নৃত্যাক্ষ দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে।
শিল্পী শিশির রহমান, মহিউজ্জামান চৌধুরী, সুমা রাণী রায়, আরিফ রহমানসহ আরও অনেকের একক সংগীত পরিবেশন করেন। এাড়া রণজিৎ বাউল, মমতা দাসীর পালা গান এবং রেজিনা ওয়ালী লীনা, মাশকুর-এ-সাত্তার কল্লোলের একক আবৃত্তি, অভিনেতা আব্দুল আজিজের পুঁথি পাঠ এবং মুকুল নৃত্যনাট্য সংগঠনের নৃত্যনাট্য পোষমেলায় আগতদের মুগ্ধ করে।
আগামীকাল শনিবার ও পরশু রোববার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের পৌষ মেলার আসর বসবে সকাল ৮টা থেকে। প্রথম পর্বটি চলবে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। তারপর বিকালে ৪টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। শনিবার বিকালে গান, আবৃত্তি ও নাচের পাশাপাশি থাকবে মহাদেব সংযাত্রা ও তার দলের সংযাত্রা পরিবেশনা
রোববার উৎসবের সমাপনী দিনের আয়োজনে যাত্রাপালা পরিবেশন করবে ময়মনসিংহের দল রূপব।