ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : মেক্সিকোয় ভূমিকম্প অঞ্চলে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১৩   |    বিভাগীয় সংবাদ : লোহাগড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা ঘটনায় মামলা দায়ের : গ্রেফতার ২ * হবিগঞ্জে হাওরের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ   |   

প্রাণীজ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি আয় বছরে ৫ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : দেশে প্রাণীজ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে (২০১৬-১৭ অর্থবছর) দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ৪১ কোটি টাকা।
পাশাপাশি, বর্তমানে (২০১৬-১৭ অর্থবছর) মাংসের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৫৫ লাখ মেট্রিক টন, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিকটন এবং ডিম উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯৩ দশমিক ১৬ কোটি টি।
প্রাণীসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে এ সংক্রান্ত সমন্বয় সেল থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সারাদেশে ২০ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাণীসম্পদ সেবা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।
সমন্বয় সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. হাসান ইমাম জানান, ২০০৮-৯ অর্থবছরে মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদনের পরিমান ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ৮৪ লাখ মেট্রিক টন, ২২ দশমিক ৮৬ লাখ মেট্রিকটন এবং ৪৬ হাজার ৯২০ লক্ষটি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাংসের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৫৫ লাখ মেট্রিক টন, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিকটন এবং ডিম উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯৩ দশমিক ১৬ কোটি টি।
তিনি বলেন, ই-সার্ভিসের অংশ হিসাবে কৃষক ও খামারিরা অতিসহজে তাদের হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্য ১৬৩৫৮ নম্বরে যেকোন মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়ে বিনামূল্যে পরামর্শ সেবা পাচ্ছেন।
প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে (২০১৬-১৭ অর্থবছর) জনপ্রতি দিনে মাংস, দুধ ও ডিমের প্রাপ্যতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২১ দশমিক ৭৪ গ্রাম, ১৫৭ দশমিক ৯৭ মিলি এবং ৯২ দশমিক ৭৫টি।
এছাড়াও, ২০০৮-৯ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক মোট ৬৯ লাখ ৪৫ হাজার বেকার যুবক, যুবমহিলা, দুস্থ মহিলা, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষককে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব ঘোচানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
একই সময়ে দেশে গরুর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪১ দশমিক ৮৪ লক্ষ ডোজ হিমায়িত সিমেন উৎপাদন এবং ৩৬ দশমিক ৬৮ লক্ষ গাভীকে প্রজনন করানো হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষকদের গবাদিপশু, হাঁসমুরগি লালন-পালনের উপর প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৯ বছরে উপজেলা প্রানিসম্পদ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৩টি উপজেলা প্রাণীসম্পদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং আরও ২৩টির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি, ট্রান্সবাউন্ডারি প্রাণীরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দেশের জল, স্থল ও বিমানবন্দরসমূহে মোট ২৪টি কোয়ারেন্টাইন স্টেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং এই স্টেশনগুলো চালু আছে।
পশুখাদ্যের পুষ্টিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবাদিপশু-পাখির সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সেবা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২২টি মিনি পশুখাদ্য বিশ্লেষণ ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আরও ১৮টি ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্যে ১টি প্রকল্প অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়াও, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৭টি ডেইরি, ১টি মহিষ, ৬টি ছাগল উন্নয়ন ও তিনটি প্রদর্শনী ভেড়ার খামার রয়েছে। পাশাপাশি, হাঁসমুরগির খামার রয়েছে ৪৫টি। এরমধ্যে হাঁসের খামার ১৩টি এবং মুরগির খামার ১৬টি।
দেশকে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে ৪টি গরু কেনার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেশের ১২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ধকবিহীন ৫ শতাংশ সরল সুদে প্রদানের কার্যক্রম ২০১৫৬ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ হাজার ৯শ ১৯ জন সুফলভোগির মাঝে ৯৩ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার দুশ টাকা বিতরন করা হয়েছে। এই কার্যক্রমে ক্ষুদ্র খামারি ও নারী উদ্যোক্তাদের প্রধান্য দেয়া হয়।
প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত গরুর মাংস ৪ লাখ ২০ হাজার ১৭২ কেজি, খাসির মাংস ২২ হাজার ৩৪ কেজি, হাঁসের মাংস ২ হাজার কেজি, মুরগির মাংস ৩ হাজার কেজি, দধি ও রসমালাই ১৫ হাজার ৯৫৪ কেজি, হাড় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ২০১ কেজি, বুল স্টিক ২১ হাজার ৪৮৮ দশমিক ৭ কেজি, গরুর লেজের লোম ৪১ হাজার ৬৪ কেজি, বিফ কারি ৬ হাজার ৫৩২ কেজি এবং বিফ বার্গার ১ হাজার ৪৭৬ কেজি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।