ঢাকা, শনিবার, মে ২৬, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হবে ৮ জুলাই * সুযোগ পেলে নারী নিজের কর্মক্ষেত্র তৈরীর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে : ড. শিরীন শারমিন * চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে দেখছেন   |    অর্থনীতি : অর্থনীতি সমিতির ১২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ   |    জাতীয় সংবাদ : মাদক নির্মূলে সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক : আমু * মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না : সেতুমন্ত্রী * মাদক বিরোধী অভিযানে তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী * স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে শেষ হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন   |   প্রধানমন্ত্রী : কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর ডি. লিট ডিগ্রি গ্রহণ   |   খেলাধুলার সংবাদ : আন্ডারডগ নাইজেরিয়ার চোখ নক আউট পর্বে * জাপানে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন ইনিয়েস্তা *ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান বাবর   |    বিভাগীয় সংবাদ : মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ * হবিগঞ্জে জনপ্রিয় হচ্ছে লাল জামরুল * নড়াইলে ৬ মাদক বিক্রেতাসহ ৩৪ জন আটক *জয়পুরহাটে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আউস ধান রোপণ সম্পন্ন   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠক এখনও হতে পারে : ট্রাম্প * ওমানের দক্ষিণাঞ্চলে ঘুর্ণিঝড় মেকুনুর আঘাতে হতাহত ৪   |   

এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নসহ অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) এসডিজির সংহত অর্থায়ন এবং বহুমূখী অংশীজনের অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ বিষয়ক এক কর্মঅধিবেশনে আলোচকরা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন কার্যক্রম দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমত প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ এবং দ্বিতীয়ত সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। এর জন্য তারা বাস্তায়নকারী সংস্থা (সরকার), উন্নয়ন সহযোগি, বেসরকারিখাতসহ সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার বিডিএফের সমাপনী দিনের এই কর্মঅধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে নির্ধারিত আলোচক (প্যানেলিস্ট) ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কমসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রধান সুদীপ্ত মূখার্জী, বিশ্বব্যাংকের ইক্যুইটএবল গ্রোথ ফাইন্যান্স এবং ইন্সটিটিউশনের প্রোগ্রাম লিডার ক্রিস্টিয়ান ইগান-জুসি ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মুসা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম।
গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদিনব্যাপী বিডিএফ সভার উদ্বোধন করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা দেশের সব মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে চাই। এর সঙ্গে এসিডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মিল রয়েছে। তিনি বলেন, এসডিজি কোন একক দেশের জন্য নয়, এটি সব উন্নয়নশীল দেশকে অর্জন করতে হবে। সহ্রাবদ্ধ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসডিজি অর্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে অন্যতম। অথচ আমরা এর জন্য কোনভাবে দায়ি নয়। এখন বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বা দূর্যোগ প্রবণতা মোকাবেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দূর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তাই এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের সামনে এখন অর্থায়নই হলো বড় চ্যালেঞ্চ। অতিরিক্ত এই তহবিল সংগ্রহের সহায়তায় বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এসডিজি সরকারের একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য বেসরকারিখাতকে সমানভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা দেশ ও সমাজের কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সবাইকে সাথে নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে চাই। তবে এর জন্য অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান জরুরী। এজন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রধান সুদীপ্ত মূখার্জী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।তবে এখনও বেসরকারিখাতের জন্য উপযুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে নাই। এসডিজি বাস্তবায়নে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি করা জরুরী, কেননা এর মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়বে-দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
তিনি এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
ড. শামসুল আলম তার মূল প্রবন্ধে বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে ৯২৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থ চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রায় ১৯ গুণ। ২০১৭ হতে ২০৩০ অর্থবছর কালে গড় বার্ষিক সমন্বিত অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ হবে ৬৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।