ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিভাগীয় সংবাদ : নড়াইলে লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভাষা শহীদদের স্মরণ   |   

পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস) : পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া হচ্ছে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভের। এ লক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পটি তৃতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার স্থান সংরক্ষণ করা হবে।
গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বাসসকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জন্য গৃহীত মহাপরিকল্পনার অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনার স্থানগুলো যথাযথ সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, তৃতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের খরচ ধরা হয়েছে ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর পুরোটাই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এখানকার সকল ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণীয় করে রাখাসহ নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিকামী জনগণের আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পটি ১৯৯৮ সালের ২৯ অক্টোবর একনেকে অনুমোদিত পায়।
কিন্তু প্রকল্পটি অসমাপ্ত অবস্থায় ২০০৫ সালের জুনে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে অসম্পূর্ণ থাকা ১৫০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট স্বাধীনতা স্তম্ভসহ আরো কিছু কাজ ২০১২ সালের জুনে সম্পন্ন করা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে উদ্যানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণ,১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানগুলো এখনও সংরক্ষণ করা হয়নি।
জুয়েনা আজিজ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দেওয়ার স্থানটি সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভকে ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, ৭ই মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৬ই ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্থানগুলোতে ভাস্কর্য নির্মাণ, স্বাধীনতা টাওয়ার প্লাজার রেনোভেশন, জনসভার মঞ্চ,ক্যাফেটেরিয়া, বসার বেঞ্চ, শিশু পর্কের দেয়ালে ম্যুারাল স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের ১৩টি রাইড স্থাপন এবং জলাধার নির্মাণ করা হবে।
মক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০১৯ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।