ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : যশোরে জঙ্গি সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার * রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরো ৩ কোটি ইউরোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইইউ   |   রাষ্ট্রপতি : শিলা ইসলামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক   |   প্রধানমন্ত্রী : ত্রাণ তহবিলে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান গ্রহণ * শিলা ইসলামের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক * মন্ত্রিসভায় শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন অনুমোদন   |   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : নাটোরে ই-সেবা সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিং   |   শিক্ষা : জয়পুরহাটের হাবিবুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক নির্বাচিত   |   খেলাধুলার সংবাদ : পাকিস্তান সফরে যাবে না লংকান কোচ * পন্টিংকে পেছনে ফেললেন কোহলি * ১০ জনের এভারটনকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিল আর্সেনাল * আবারো চাইনিজ সুপার লীগের শিরোপা জিতলো গুয়াংজু এভারগ্রান্ডে * কেনের দুই গোলে টটেনহ্যামে বিধ্বস্ত লিভারপুল   |    বিভাগীয় সংবাদ : নারায়ণগঞ্জে দেয়াল চাপায় তিন বোন নিহত * জয়পুরহাটে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে ১ হাজার ১৭৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন *নিষেধাজ্ঞা শেষ : পদ্মা মেঘনায় ইলিশ ধরা শুরু *কচা নদীর ওপর নির্মিত হবে বেকুটিয়া সেতু   |   আবহাওয়া : সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : নাইজেরিয়ায় ত্রয়ী আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত *জাপানে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ২ জনের প্রাণহানি * উত্তর কোরিয়াকে মোকাবেলার দৃঢ় অঙ্গীকার অ্যাবের * আফগান-ন্যাটো যৌথ অভিযানে ৫ জঙ্গি নিহত ও আহত ১৩ * ইয়েমেনে সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ৮ জন নিহত   |    জাতীয় সংবাদ : দেশের প্রতি আস্থা হারাবেন না : জয় * জামায়াত নেতা আজিজসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রায় যে কোন দিন *সৈয়দ আশরাফের সহধর্মিনীর ইন্তেকাল * ৭৫-এর ১৫ আগস্ট ও ২০০৪-এর ২১ আগস্ট হত্যাকান্ড একই সূত্রে গাথা : সৈয়দ রেজাউর   |   

মাগুরায় মাতৃত্বকালিন ভাতা অনেকের জীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি

মাগুরা, ১২ আগস্ট ২০১৪ (বাসস) : দিনমজুরের সংসারে দু'বেলা দুমঠো খাবারের সংস্থান যেখানে কঠিন, সেখানে প্রসূতি মায়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিকর খাবার যোগানো ছিল আকাশ কুসুম কল্পনার মতোই। এ কারণে গর্ভধারণের পর থেকেই দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন মাগুরা সদর উপজেলা মঘি ইউনিয়নের বুধরপাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের গৃহবধু জেসমিন বেগম।
অপুষ্টির কারণে এমনিতে শারীরীক অবস্থা ভালো ছিল না। তার উপর গর্ভধারণের পর ঠিকমত খাবারের সংস্থান না হওয়ায় সেটি আরো চরম আকার ধারণ করে। ফলে জেসমিন একরকম ধরেই নিয়েছিলেন সন্তান জন্মের সময় মৃত্যু হওয়ার মত ভয়ংকর কিছুই হয়তো ঘটবে। কেননা প্রতিদিনই একটু একটু করে শরীর ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছিল।
কিন্তু সরকারের দেয়া মাতৃত্বকালীন ভাতায় জেসমিনের সে দুশ্চিন্তা একেবারেই অবান্তর হয়ে গেল। স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে সন্তান প্রসব পর্যন্ত সবকিছুই হলো একেবারে যথাযথ। জেসমিনের কোলে এখন ২ মাসের ফুটফুটে একটি কন্যা শিশু ।
জেসমিন জানায়, শারীরীক দুরবস্থার কারণে মৃত্যুচিন্তা যখন তাকে কেবলই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। ঠিক তখনই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তার হাতে তুলে দেয় মাতৃত্বকালীন ভাতার প্রথম কিস্তির দুই হাজার একশ টাকা। এই টাকা পেয়ে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন তিনি।
গোটা টাকাই তিনি খরচ করেন গর্ভকালীন পরিচর্যায়। আর খুবই নিরাপদে কন্যা সন্তনের জন্ম দেন তিনি। শুধু তাই নয়, টাকা পাবার কারণে পরিবারে তার অবস্থান আগের তুলনায় এখন অনেক ভালো। স্বামীর দিনমজুরীর টাকায় যেখানে তার জন্য চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান একবারেই অসম্ভব ছিল। সেখানে সরকারী এ ভাতায় সবকিছুই হয়েছে একেবারে ঠিকঠাক। আর এ কারণে স্বামী ইদ্রিস আলীও এখন বেজায় খুশি।
শুধু জেসমিন নয়, একই ইউনিয়নের ছয়চার গ্রামের নূর ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন, নূরুল ইসলামের স্ত্রী লাবনী খাতুন, রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা বেগম, সত্যপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রেশমা খাতুন, তিতার খাঁ পাড়ার টিটো মোল্লার স্ত্রী রেকসোনা খাতুন একই ভাবে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেয়ে খুবই নিরাপদে সন্তান প্রসব করতে পেরেছেন।
সেই সাথে নিতে পেরেছেন প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্য সেবা। সরকারী ভাতায় কেবল ব্যক্তিগতভাবে তারা লাভবান হননি। পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা বেড়েছে সমানভাবে। প্রথম কিস্তির টাকায় তারা গর্ভকালীন ও প্রসব পরবতী সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশিত করেছেন। পরবর্তী তিন কিস্তির টাকায় সন্তানের সু-স্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে ওঠার কাজে খরচ করবেন এমনটিই প্রত্যাশা করছেন।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জহুরা জানান, মাগুরায় চার উপজেলায় এ বছর ৯৮৪ জন গৃহবধুকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়া হচ্ছে। যার মাধ্যে সদরে ৪৫৫ জন, শ্রীপুর ১৮৪ জন, মহম্মদপুরে ১৮৪ জন, শালিখায় ১৬০ জন এ ভাতা পাচ্ছেন।
এটি সাধরণত দু:স্থ প্রসূতি মায়েরাই পেয়ে থাকেন। যেটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের পুষ্টি গ্রহণের আর্থিক ক্ষমতা ও প্রসূতিকালীনসহ তৎপরবর্তী সময়ের জন্য মা ও শিশু স্বাস্থ্যের সুরক্ষা করা। ফাতেমা জহুরা জানান, মাসিক ৩৫০ টাকা হারে প্রতি ৬ মাস অন্তর মোট ৪টি কিস্তিতে ২ হাজার ১০০ টাকা হারে এই অর্থ দেয়া হয়। এটি প্রসূতি মায়ের সন্তান ধারণ থেকে শুরু করে সন্তানের বেড়ে ওঠার প্রথম ১ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
জানা য়ায়, বর্তমানে সরকারি ভাবে চলা এই কার্যক্রম প্রথম অবস্থায় শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ৮ মে বিশ্ব মা দিবসে একটি বে-সরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে। এইদিন বে-সরকারি সেচ্ছাসেবী সংস্থা ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর সংক্ষেপে ডরপ ১০০ জন দরিদ্র মাকে ২০০ টাকা হারে ভাতা দেয়। পরবর্তীতে তারা এটি পাইলট প্রকল্প আকারে কিছু চলমান রাখে। প্রকল্প ইতিবাচক ফলাফলে সংস্থার পক্ষ থেকে সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে এটি গ্রহণের জন্য অ্যাডভোকেসি করা হয়। এ সময় এই ভাতা প্রদানের জন্য সংস্থাটি বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। এই দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ২০০৭-০৮ অর্থ বছর সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মার্তৃত্ব ভাতার সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয় যা এখনো চলমান আছে। সাধারণত দুঃস্থ গৃহবধুরাই প্রথম ও দ্বিতীয় গর্ভধারণের সময়কালে এই ভাতার যোগ্য হবেন। যেটি পরিচালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।
ডরপ এর মাধ্যমে গোড়া পত্তন হওয়া মাতৃত্বকালীন ভাতার সরকারী এই কার্যক্রমটি এখন বিশেষ করে গ্রামের অতি দরিদ্র গৃহবধূদের কান্ডারি হিসেবে কাজ করেছে। ডরপ তাদের স্বপ্ন প্রকল্পের আওতায় ভাতাপ্রাপ্ত মহিলাদের স্বাস্থ্য পুষ্টি, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা বিনোদন, নিরাপদ আশ্রয়, স্যানিটেশন, জীবীকা ও প্রয়োজনে ক্ষুদ্র ঋণের সহায়তা দিচ্ছে। সেই সাথে মাতৃত্ব ভাতার বিষয়টি দেশব্যাপী মনিটরিং করছে। মঘি এলাকায় বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সময় কথা সংস্থার ডেপুটি ফোকাল পারসন রাম প্রসাদের সাথে। তিনি জানান, মাতৃত্ব ভাতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করা, উভয়ের জন্য সুষম পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, যৌতুক ও বিবাহ বিচ্ছেদ কমানো, বাল্য বিবাহ হ্রাস, গৃহবধূদের সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা বৃদ্ধি, জন্ম ও বিবাহ নিবন্ধন নিশ্চিত করাসহ সার্বিক জীবন ব্যবস্থার উন্নয়ন। যেটি এখন ব্যাপকভাবে সফলতার মুখ দেখেছে।
মাগুরার সিভিল সার্জন সুনীল চন্দ্র রায় বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গ্রামের দরিদ্র নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। গর্ভকালীন সময়ে নারীদের খাবার ও ওষুধ সেবনের খরচ বেড়ে যায়। মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের ফলে গ্রামের দরিদ্র নারীদের পক্ষে এর খরচ বহন করা অনেক সহজ হয়েছে। এর ফলে মাতৃ ও শিশু হার কমার পাশপাশি মায়েরা সুষম পুষ্টিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে তাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সক্ষম হচ্ছেন