ঢাকা, শুক্রুবার, জানুয়ারী ১৯, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : এখন থেকে দেশেই উৎপাদন হবে কম্পিউটার   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৮ জঙ্গি নিহত * ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩ শিশুকে আটকে রাখা দম্পতিকে আদালতে তোলা হচ্ছে * মুক্ত হওয়ার এক মাস পর ইরাকে আইএসের হুমকি * অস্ট্রেলিয়ার উলুরুর কাছে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : আহত ৪   |    জাতীয় সংবাদ : বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নীতিমালাকে আইনে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর * মেধাসম্পদের অনলাইন নিবন্ধন সেবা চালু * জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দেশপ্রেমিক মানুষ গড়ার তাগিদ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী   |   জাতীয় সংসদ : ডিসেম্বর নাগাদ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে : সেতু মন্ত্রী * ছয় মাসে ১২২.৬৪ একর রেলভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে : রেলপথ মন্ত্রী * দেশে সাক্ষরতার হার শতকরা ৭১ ভাগ : পরিকল্পনামন্ত্রী   |   প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রীকে সেনাবাহিনীর এসডব্লিউও কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দুটি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিতকরণ   |    জাতীয় সংবাদ : মরতুজা আহমদ নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার * মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা দেয়ার নির্দেশ * রিট করেছে বিএনপি, দোষ পড়েছে আওয়ামী লীগের : ওবায়দুল কাদের * প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে : তোফায়েল আহমেদ   |   বিনোদন ও শিল্পকলা : ঝিনাইদহে ১৫ দিনব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু   |    বিভাগীয় সংবাদ : বরগুনায় দুদকর আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ *জয়পুরহাটে প্রবীণদের কম্বল, বয়স্ক ভাতা, উপকরণ প্রদান *হবিগঞ্জে ১১ জন আসামি গ্রেফতার * ভোলায় ৫টি বদ্ধভূমির সংস্কার ও উন্নয়ন করা হচ্ছে   |   খেলাধুলার সংবাদ : পিএসজির আট গোলের বিশাল জয়ে নেইমারের চার গোল *কোপা ডেল রে : মেসির পেনাল্টি মিসে বার্সেলোনার হার * হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা ভুলে গেছে বাংলাদেশ : মাশরাফি * শ্রীলংকার বিপক্ষেও জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ * বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন কোহলি   |   আবহাওয়া : দেশের কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ কেটে যেতে পারে   |    জাতীয় সংবাদ : বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল থেকে শুরু * নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করা উচিত * জ্ঞান ও প্রযুক্তি রপ্তানিতেও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী * শিশু আলপনা হত্যা মামলায় ২ আসামির ফাঁসির রায় বহাল   |   প্রধানমন্ত্রী : রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ * প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২০ প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রদান * ওপেক বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহী   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : কাজাখস্তানে বাস দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত * নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী * কান্দাহারে অনলাইনে শিক্ষা নিচ্ছে আফগান তরুণীরা * ট্রাম্পের এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্পর্কোন্নয়নে ব্যর্থ   |   

জয়পুরহাটের মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে

জয়পুরহাট, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ (বাসস) : আগামীকাল ৪৬তম বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর বাঙ্গালীর ত্যাগ আর বীরত্বের কাহিনী ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে স্বার্ণাক্ষরে। সারাদেশের মত জয়পুরহাটে পাকিস্তানি পাক হানাদাররা মানুষের ওপর চালায় অমানুষিক নির্যাতন, হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষকে। তবু থেমে থাকেনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী যাত্রা। স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনদান বৃথা যায়নি। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে জেলা বাসী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন তাদের বীরত্বের কথা, জীবনদানের কথা। ১৯৭১ সালের ১৮আগষ্ট জেলার ভাদসা ইউনিয়নের পাহাড়পুর সংলগ্ন এলাকায় সন্মুখযুদ্ধ চলাকালে গুলি ফুরিয়ে যাবার কারনে সাত মুক্তিযোদ্ধাকে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করে পাক সেনারা। মুক্তিযুদ্ধে যাবার অপরাধে তাদের মুখে কালি লাগিয়ে জয়পুরহাট শহর ট্রাকে করে ঘুরানো শেষে জয়পুরহাট কলেজ (বর্তমান সরকারি কলেজ) মাঠে ছাত্রদের সামনে হাজির করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাপরাধীর দায়ে আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত (বর্তমানে মৃত) আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হলে এভাবে সাজা পেতে হবে এবং এদেরকে হত্যা করা হবে মর্মে সভায় ঘোষনা দেয়া হয়। পাক-বাহিনীর কমান্ডার মেজর আফজালও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। কথাগুলো বলছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী সেই সময়ের ছাত্রনেতা তবিবর রহমান। পরবর্তিতে ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে থাকা এই সাত মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস হলেও জয়পুরহাট হানাদার মুক্ত হয় ১৪ ডিসেম্বর। পুরো নয় মাস ধরে এ জেলায় হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক-সেনারা। জয়পুরহাটে মুসলিম লীগ ও জামায়াতের প্রভাব বেশী থাকায় পাক-সেনারা তাদের সহযোগিতায় অগ্নি সংযোগ, ধর্ষন, খুন, লুটপাট চালায় । এ থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদের মুয়াজ্জিনের ষোড়শী কন্যা, তাঁতি, কামার, কুমার।
২৫ এপ্রিল১৯৭১ জয়পুরহাটের চিনিকলে প্রথম ক্যাম্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে পাক-সেনারা মানুষ নিধন শুরু করে। এরপর জয়পুরহাট কলেজ ও খনজনপুরে ক্যাম্প স্থাপন করে। ২৬ এপ্রিল পূর্ব বাজারের দর্জি নাজির হোসেন ও আব্দুস সালাম নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। এসময় বাজার গলির রাম কুমার খেতান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বের হলে তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
পরের দিন পাক-সেনারা গারিয়াকান্ত এলাকা থেকে ৩৬ জনকে ধরে সেখানেই তাদের দিয়ে গর্ত করে নিয়ে লাইন করে গুলি চালায়। মুক্তিযোদ্ধার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা ও মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করার অপরাধে পাঁচুরচক এলাকার লুৎফর রহমানকে ধরে এনে কয়লা ইঞ্জিনের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এসবের প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন (ইউনিট কমান্ডার) আরও বলেন, পাক-সেনাদের দিক নির্দেশনা দানকারী হিসেবে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আব্দুল আলীমের বাড়ি ঘেরাও করে মুক্তিযোদ্ধারা। খবর পেয়ে মুসলিম লীগ ও জামায়াতের নেতা-কর্মি সহ তাদের গঠিত রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়ে আব্দুল আলীমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
৩০ এপ্রিল বম্বু ইউনিয়নের কড়ই-কাদিপুর গ্রামের ৩শ ৭১ জন কামার-কুমার সম্প্রদায়ের লোকজনকে সারিবদ্ধ করে হত্যা হরা হয়। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে সেই সময়ের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ওই এলাকার শহীদ সন্তান ভগিরত চন্দ্র বর্মন ও যোগেন পাল। তারা ওই নির্মম হত্যাকান্ড থেকে বেঁচে যান। শহরের বুলুপাড়া (বামনকুন্ডা) এলাকায় জ্বালিয়ে দেয়া হয় হিন্দুদের ঘর বাড়ি। এখা‡ন মাঠের মধ্যে ১১ জনকে লাইন করে গুলি করে হত্যা করার দৃশ্য বর্ননা করতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এ ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আবু তাহের ও শহীদ জায়া জমিরন বিবি। ডান পায়ের উরুতে গুলি লাগার সেই চিহ্ন আজও বহন করছেন আবু তাহের। মে মাসের প্রথম দিকে আওয়ামলীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দেবীপুরের ডা: আবুল কাশেম সহ আলেফ উদ্দিন ও আলতাফ হোসেনকে ধরে হত্যা করা হয়। এ সময় বগুড়া থেকে আসা ৫ মুক্তিযোদ্ধাকে (ভারতে যাবার পথে) কোমরগ্রাম এলাকার জামায়াত নেতা আফজাল আকন্দের (বর্তমানে মৃত) নেতৃত্বে শান্তি কমিটির সদস্যরা ধরে পাক-বাহিনীর হাতে তুলে দিলে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পাক-সেনারা মাদারগঞ্জ মসজিদের মুয়াজ্জিনের ষোড়শী কন্যাকে অনৈতিক কাজের জন্য ধরে নিয়ে যায়। মেয়ের ইজ্জত রক্ষার্থে পিতা নিজেই জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খানের (বর্তমানে মৃত) নিকট আকুতি-মিনতি করেও কোন ফল পাননি বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা জাকারিয়া হোসেন মন্টু। প্রামানিক পাড়ার আবেদ আলীর কন্যা আমেনা বেগমকেও পাক-সেনারা ধর্ষন সহ পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল। সেই স্মৃতি বুকে লালন করলেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি তিনি।
জয়পুরহাট জেলা সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় শরনার্থীরা এই পথে ভারতে যাবার সময় পাক-সেনারা পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে চকবরকত ইউনিয়নের পাগলদেওয়ানে। হাজার হাজার মানুষকে এখানে হত্যা করা হয়। নিজের হাতে গর্ত করার পর লাইন করে গুলি চালিয়ে গর্তে ফেলে দেয় পাক-সেনারা। জ্ঞান ফিরে হামাগুড়ি দিয়ে পালিয়ে বাঁচেন চিরলাগ্রামের আবেদ আলী। গুলি করার সময় জ্ঞান হারিয়ে আগেই পড়ে যাওয়ার কারণে প্রাণে রক্ষা পান আবেদ আলী। সেই ভয়াল স্মৃতি আজও বুকে লালন করছেন তিনি। পাগলদেওয়ানে পাক-সেনাদের তৈরি সেই সুসজ্জিত বাংকারটি আজও রয়েছে কালের সাক্ষী হিসেবে। এর মধ্যেও প্রতিরোধ হিসেবে জয়পুরহাট ষ্টেশনের অদূরে উড়ি ব্রিজটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল যাতে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং পাকিস্তানী সেনারা আসতে না পারে। পাগলাদেওয়ানে কয়েক দফা সন্মুখ যুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এতে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন ইদ্রিস ও হাদিউজ্জামান হাদি। এ সময় পাকিস্তানী সৈন্যদের গোলার আঘাতে আহত হন মুক্তিযোদ্ধা হাদিউজ্জামান হাদি।
জয়পুরহাটের গণহত্যা চলে আব্দুল আলীম ও আব্বাস আলী খানের দিক নির্দেশনায়। বিশেষ করে আব্দুল আলীমের ( যুদ্ধাপরাধী হিসাবে আমৃত্যু সাজা প্রাপ্ত এবং মৃত) প্রত্যক্ষ মদদে জয়পুরহাটের তথা দেশের বৃহত্তর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে সীমান্ত সংলগ্ন পাগলাদেওয়ান এবং কড়ই-কাদিপুর দুটি গ্রামে। ১৯৭২ সালে এদের বিরুদ্ধে দালাল আইনে মামলা হলে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। এ মামলায় স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার খনজনপুরের শামসুল আলমের ১০ বছর ও শহীদুল্লাহর ৭ বছর জেল হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও ক্ষমতার পালাবদলে সাজা মওকুফ সহ সকলেই জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যান। দালাল আইনের মামলার বিষয়ে জয়পুরহাট থানায় একটি রেকর্ড রয়েছে। দালাল আইনে বিভিন্ন ধারায় মোট ২৩ টি মামলা রয়েছে।