ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

ডিসেম্বরের শুরুতেই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করে মিত্র বাহিনী

॥ কানাই চক্রবর্তী ॥
ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ (বাসস ) : ডিসেম্বরের শুরুতেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতীয় যৌথ বাহিনীর আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় পাকিস্তানিদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য একটি ভিন্ন কৌশল নেয়া হয়।
পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সেনা, নৌ ও বিমান আক্রমণের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল এস এইচ এফ মানেকশ যুদ্ধে শত্রুর মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য মনসতাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি ৮ ডিসেম্বর থেকেই বেতারে পাকিস্তান বাহিনীকে আত্মসর্মপণের জন্য নির্দেশ দিতে থাকেন।
বেতার ভাষণে তিনি পাকবাহিনীর নাজুক অবস্থা তুলে ধরে বলেন যে, তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। অতএব, আত্মসর্মপণ ছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর নেই।
মানেকশর এই কৌশল পরবর্তী সময়ে পাকবাহিনীর মনোবল ভাঙ্গতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল বলে অনেকে বলেছেন। একাত্তরের ৯ ডিসেম্বর চাঁদপুর মিত্রবাহিনীর দখলে চলে যাওয়ার পরই নিয়াজীর মনোবল ভেঙ্গে যায় এবং যুদ্ধে তিনি পরাজিত হবেন বলে প্রায় নিশ্চিত হন।
এ ব্যাপরে নিয়াজী তার দ্য বিট্রেয়ার অব ইস্ট পাকিস্তান বইতে লিখেছেন- বিরুদ্ধ প্রপাগান্ডা এবং ইয়াহিয়া সরকারের ত্রুটিপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির কারণে পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সম্ভবত এরপর থেকেই পাকবাহিনী মিত্রবাহিনীর কাছে আতসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি এবং সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) এ কে এম শফিউল্লা বীর উত্তম বলেন, জেনারেল এস এইচ এফ মানেকশর এই মনসতাত্ত্বিক যুদ্ধ ঘোষণায় যুদ্ধে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। এতে পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে যেতে থাকে। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধারা উজ্জীবিত হন।
আত্মসমর্পণের জন্য তিনদিন সময় বেঁধে দেয়ার পর ঘোষণায় বার বার বলা হয় এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে মৃত্যু অনিবার্য। হয় সারেন্ডার- না হয় মৃত্যু- এ রকমই ছিল ঘোষনা।
শফিউল্লা বলেন, অবশেষে পাকিস্তানী বাহিনী ১৪ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয় এবং একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর এই সুসজ্জিত আধুনিক সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এর আগে হেডকোয়ার্টার থেকে ১৪, ১৫ এবং ১৬ তারিখ পাকবাহিনীর প্রতি গুলি না করার নির্দেশ আসে। এ সময় মুক্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে আক্রমণ বন্ধ রাখা হয়।
বিশিষ্ট গবেষক মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান তার মুজিবনগর সরকার ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, জেনারেল এস এইচ এফ মানেকশর এই কৌশল পাকবাহিনীর মনোবল ভাঙ্গতে সহায়ক হয়। পাকবাহিনী বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও তা তেমন সফল হয়নি। ভারতীয় জেনারেল জ্যাকবও বিভিন্ন মাধ্যমে এ সময় নিয়াজীকে আত্মসমর্পণে রাজি করাতে চেষ্টা করেন। ঢাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ প্রতিনিধি মার্ক হেনরী ও জন কেলিও এ ব্যাপারে তৎপরতা চালান।
জ্যাকব সরাসরি পাকবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। এসব কর্মকর্তা তখন সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনী এবং সংখ্যালঘু জাতি সত্ত্বাগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দাবি করে।
জবাবে মিত্রবাহিনীর পক্ষ থেকে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী সকল বন্দীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়। এরপরেই আত্মসমর্পণের খসড়া দলিল লেখার কাজ শুরু হয়। লেখা শেষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে এটি প্রেরিত হয়।