ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিভাগীয় সংবাদ : মুকসুদপুরে একই যন্ত্রের সাহায্যে এক সাথে ধানের চারা রোপণ ও দানাদার ইউরিয়া সার প্রয়োগ * মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল সরিষার চাষ বেড়েছে * ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে   |   রাষ্ট্রপতি : বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ    |    জাতীয় সংবাদ : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : চিলিতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প * কাবুলে হোটেলে হামলায় নিহত ৫ : আফগান গোয়েন্দা সংস্থা *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *   |   খেলাধুলার সংবাদ : নেইমারকে নিয়ে জিদানের আশাবাদ * হ্যাজার্ডের দুই গোলে চেলসির জয় * আইপিএল নিলামে অংশ নিবেন ৫৭৮ জন খেলোয়াড়   |   

সশস্ত্রযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর দখল থেকে মুক্ত করে চুয়াডাঙ্গা : আগামীকাল চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস

চুয়াডাঙ্গা, ডিসেম্বর, ৬ (বাসস) : চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস আগামীকাল ৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাস দখলদার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র যুদ্ধে পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং চুয়াডাঙ্গা দখলমুক্ত হয়।
চুয়াডাঙ্গার উত্তরদিকে আলমডাঙ্গা, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্যের নদীয়া জেলা পূর্বদিকে ঝিনেদা জেলা ও পশ্চিমদিকে মেহেরপুর জেলা।
৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, দিনভর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দখলদার বাহিনীর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে দখলদার বাহিনী আপ্রাণ যুদ্ধ করেও পরাজিত হয়। সারাদিন যুদ্ধ করেও দখলদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। দখলদার বাহিনীর ওপর মূল আঘাত আসতে থাকে দামুড়হুদায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে।
এদিকে মেহেরপুর থেকেও দখলদার বাহিনী পিছু হটতে হটতে চুয়াডাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। দখলদার বাহিনী অবস্থা বেগতিক আঁচ করে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের মধ্যে সংযোগকারী চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীর উপরে নির্মিত ব্রিজের পূর্বদিকে ডিনামাইট দিয়ে ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু এতেও কোন ফল হয় না তাদের। দখলদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গাতে কোণঠাঁসা হয়ে পড়লে তারা বেশকিছু স্থাপনা যেমন-টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, পেট্রোলপাম্প ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। রাতের অন্ধকারে তৎকালীন মহকুমার আলমডাঙ্গা থানা সদরের মধ্যে ও আশপাশ দিয়ে কুষ্টিয়ার দিকে চলে যায়। ফলে ৭ ডিসেম্বর নির্বিঘে মুক্তিযোদ্ধারা চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করে ও চুয়াডাঙ্গার দখল নেন।
চুয়াডাঙ্গা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮নং সেক্টরের অধীন। সেক্টর কমা-ার ছিলেন-তৎকালীন ইপিআর এর চুয়াডাঙ্গা ব্যটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের প্রধান মেজর আবু ওসমান চৌধুরী। উপ-অধিনায়ক ছিলেন ক্যাপ্টেন আজম চৌধুরী। যুদ্ধকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গাতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছিল এ সেক্টরের জন্য।
প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন তখনকার স্থানীয় সাংসদ ডাঃ আসহাব-উল হক জোয়ার্দ্দার, আর উপদেষ্টা দুজন হলেন তৎকালীন সাংসদ ও আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার বাদল রশীদ ও এ্যাডভোকেট ইউনুছ আলি।
চুয়াডাঙ্গা ৭ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হলেও সেক্টর কমা-ার, উপ-সেক্টর কমা-ার বা উপদেষ্টারা কেউই ওই সময় চুয়াডাঙ্গায় ফিরতে পারেননি।