ঢাকা, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৬, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আবহাওয়া : আগামীকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : জাপানের জলসীমায় ভেসে আসা নৌকা থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার * লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে অবৈধ ৩৬০ শরণার্থী উদ্ধার   |   

চুনারুঘাট মুক্ত দিবস আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর

॥ শাহ ফখরুজ্জামান ॥
হবিগঞ্জ, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ (বাসস) : ৯ মাস যুদ্ধ আর বহু প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট শত্রু মুক্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতে চুনারুঘাটের সীমান্ত এরিয়া থেকে মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তোরাব আলী খন্দকার, মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হুদা, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফারের নেতৃত্বে শত শত মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা শহরের দিকে সাড়াশী আক্রমণ করে। ৬ ডিসেম্বর ভোরে পাকিস্তানী দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে আস্তানা গুটিয়ে চুনারুঘাটের দিকে চলে আসে এবং পাক সেনারা শ্রীমঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর সকালে তৎকালীন সিও অফিসের সামনে স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন মরহুম মুক্তিযোদ্ধা সানু মিয়া চৌধুরী, মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ পিসিও মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মন্নান সরকারসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা।
তৎকালীন সময়ে চুনারুঘাটের মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ মার্চ থেকে যুদ্ধ শুরু করেছিল। চুনারুঘাটের মুক্তিযোদ্ধারা চান্দপুর চা বাগান ও চন্ডিছড়া চা বাগানের মাঝমাঝি জামটিলা নামক স্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্যাড়িকেড দিয়ে পাক সেনাদের গতিরোধ করা শুরু করে।
তৎকালীন আওয়ামীলীগের চুনারুঘাট অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ছুরুক আলীর নেতৃত্বে গঠিত তীরন্দাজ বাহিনী গতিরোধের কারণে পাক বর্বর বাহিনীর সেনারা জগদিশপুর দিয়ে নোয়াপাড়া-শাহাজীবাজার হয়ে সায়েস্তাগঞ্জ আসে। অন্য আরেকটি পাকসেনা দল নোয়াপাড়া হতে শালটিলা হয়ে দেউন্দি চা বাগান ও চান্দপুর হয়ে চুনারুঘাট আসে। ৭১-এর মে মাসে প্রথম দিকে চুনারুঘাটের মুক্তিযোদ্ধারা চলে যান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। সেখানে খোয়াই থানায় নাম ডাইরী করে পর্যায়ক্রমে চেবরী নামক স্থানের গৌরাঙ্গ টিলায়, অম্পি নগর ট্রেনিং সেন্টার, ২নং ব্যাজ, ৩নং সেক্টর হেড কোয়াটার সিদাই কাতলামারা, কাচামাটি স্কুলে,ট্রেনিং সেন্টারসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং নেন। সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন জনের দায়িত্বে দেশে ফিরে এসে লুকিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। অবশেষে ৫ ডিসেম্বর রাতে পাক বাহিনীর দোসর ও সেনারা পালিয়ে গেলে চুনারুঘাট শত্রুমুক্ত হয়।
নবীগঞ্জ মুক্ত দিবস : ৬ ডিসেম্বর। ৭১-এর এই দিনে বাঙ্গালী জাতির সূর্যসৈনিক মুক্তিযোদ্ধারা নবীগঞ্জ থানা ক্যাম্পের ব্যাংকারে হামলা চালিয়ে পাক সেনা ও রাজাকারদের হটিয়ে নবীগঞ্জ থানাকে শত্রুমুক্ত করেছিল।
নবীগঞ্জ থানাকে হানাদারমুক্ত করতে আগষ্ট মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামা প্রসন্ন দাশ বিধু বাবু এবং রইছ উদ্দিন সুবেদারের নেতৃত্বে পৃথক দুটি অভিযান চালালে তা পাক সেনাদের প্রতিরোধের মুখে তা সফল হয়নি। বীরপ্রতীক মাহবুবুর রব সাদীর নির্দেশে ৩ ডিসেম্বর ভোরে টেকের হাট ৫ নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার মুর্শেদ ইউ জামান রশিদ তার ৩৬ জন সহযোদ্ধাদের নিয়ে রাজনগর সংলগ্ন নবীগঞ্জ বানিয়াচং সড়কের পাশ্বে অবস্থান নিয়ে থানা রাজাকার ক্যাম্প সংলগ্ন ব্যাংকারে আক্রমণ করলে প্রচন্ড যুদ্ধ বাধে।
সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য ধ্রুব সাহসিকতার সাথে জীবনকে বাজি রেখে ব্যাংকারটি ধ্বংস করার জন্যে গ্রেনেড হাতে ক্রলিং করতে করতে নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের ওপর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন এমন মুহূর্তে পাকসেনার ছুড়া বুলেটতে তার মাথা ঝাঝড়া হয়ে যায়। পাক বাহিনীর গুলিতে মুক্তিযোদ্ধা ফটিক মিয়া, আব্দুল আহাদ ও ছাবু মিয়া আহত হয়। আহত ছাবুকে পাক বাহিনী বন্দী করে।
খবরটি মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সাব সেক্টর কমান্ডার মাহবুবুর রব সাদীর কাছে পৌঁছলে গ্রুপ কমান্ডার দিলীপ দাশ ও জালাল উদ্দিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা রশিদ বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে সম্মিলিতভাবে ৫ ডিসেম্বর রাতে রাজাবাদ, চরগাঁও সংলগ্ন শাখা বরাক নদীর তীরে থানা ব্যাংকারে আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে রশদ ও গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেলে পাক সেনারা ৬ ডিসেম্বর ভোরে পালিয়ে যায়। সকালে মুক্তিযোদ্ধারা নিবিঘে থানা দখল মুক্ত করেন। ওইদিন দুপুরে জনতা জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে থানা প্রাঙ্গণে জড়িত হয়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার মাহবুবুর রব সাদী জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। পরে পতাকা উত্তোলন করে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন।