ঢাকা, বুধবার, জানুয়ারী ১৭, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিনোদন ও শিল্পকলা : বাচ্চাদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে হবে : সংস্কৃতি মন্ত্রী   |    জাতীয় সংবাদ : আতিকুল ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটি কার্পোরেশন উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী * বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী শাম্মী আক্তার আর নেই   |    জাতীয় সংবাদ : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে : শিক্ষামন্ত্রী * সুন্দরবন অঞ্চল নিরাপদ রাখতে আরো ৪টি র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ   |   জাতীয় সংসদ : একই পরিবারের চারজন পরিচালক রাখার বিধান করে সংসদে ব্যাংক কোম্পানী সংশোধন বিল পাস * বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : আইনমন্ত্রী * সরকারি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : জন প্রশাসন মন্ত্রী   |   প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের উদ্বোধন করবেন আগামীকাল * একনেকে ১৪ প্রকল্প অনুমোদন : তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে * আবুল খায়েরের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক   |   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : ঢাকা শহরের ছাদ ব্যবহার করে ১ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব : নসরুল হামিদ   |    অর্থনীতি : নওগাঁয় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৬ মাসে ৯২ কোটি ৩০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ    |    জাতীয় সংবাদ : এই অঞ্চলের স্বাধীনতার নেতাদের হত্যার কারণ খুুঁজে বের করতে হবে : প্রণব মুখোপাধ্যায় * ২ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন সম্পন্নে রূপরেখা চূড়ান্ত * ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা : আরো দুই আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ    |   খেলাধুলার সংবাদ : পুলিশ বর্ষসেরা খেলোয়াড় দ্বীন ইসলাম, লতা পারভীন ও আকলিমা *মাঠে খারাপ আচরণের জন্য কোহলিকে জরিমানা   |   শিক্ষা : বাংলাদেশের জন্মের পেছনে ঢাবির অবদান রয়েছে : ঢাবি উপাচার্য   |    বিভাগীয় সংবাদ : জয়পুরহাটে বোরো ধানের চারা রক্ষা করতে পলিথিনে ঢেকে রাখার পরামর্শ * নীলফামারীতে কৃষক নেমেছে বোরো আবাদের মাঠে : লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ হাজার হেক্টর জমি   |   আবহাওয়া : আগামীকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ট্রানজিট বিষয়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর * আফগানিস্তানে আইএসের ২১ যোদ্ধা নিহত * জাপানের জলসীমায় ভেসে আসা নৌকা থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার * লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে অবৈধ ৩৬০ শরণার্থী উদ্ধার   |   

নাটোরে ২১ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে

নাটোর, ২০ ডিসেম্বর, ২০১২ (বাসস) : একাত্তরের ২১ ডিসেম্বর নাটোর মুক্ত দিবস। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনা বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী ঢাকায় আত্মসমার্পণ করলেও নাটোর ছিল অবরুদ্ধ। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় হেড কোয়ার্টার হওয়ার কারনে নাটোরে অবস্থান করছিল পাকিস্তান সেনা বাহিনীর প্রায় আট হাজার সেনা সদস্য। বিজয় দিবসের পাঁচদিন পরে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী নাটোরে মিত্র বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পন করে। আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পনের পর নাটোর হয় মুক্ত। শুরু হয় বিজয় উল্লাস।
২৬ মার্চের কাল রাতে ঢাকায় অপারেশন সার্চ লাইটে অসংখ্য বাঙালী হত্যার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ২৯ মার্চ ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে এক প্লাটুন সেনা সদস্য পথ হারিয়ে লালপুর উপজেলার ময়নায় ঢুকে পড়ে। পুলিশ, ইপিআর, আনসার সহযোগে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধে মেজর আসলাম রাজা সহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নয়জন এবং প্রায় অর্ধশত বাঙালী শহীদ হন। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ।
সম্ভবত ময়না যুদ্ধের প্রতিশোধ এবং যোগাযোগ সুবিধার কারনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নাটোরে তাদের দ্বিতীয় হেড কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা করে। সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের যুদ্ধ নাটোর থেকে পরিচালনা করা হতো। শহরের ফুলবাগানে সিও অফিসে স্থাপিত হয় প্রধান কার্যালয়। এছাড়া তৎকালীন গভর্নর হাউজ, রানী ভবানী রাজবাড়ী, আনসার ক্যাম্প, পিটিআই এবং এন.এস কলেজে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধা নবীউর রহমান পিপলু বলেন, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পাকিস্তানের সেনা বাহিনী অবস্থান নেয়ায় নাটোর শহর ১৩ এপ্রিলের পর থেকে হয়ে পড়ে কার্যতঃ অবরুদ্ধ। ইতোপূর্বে নাটোর টাউন পার্কে খন্দকার আবু আলীর নেতৃত্বে গঠিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ এবং নাটোর রিক্রিয়েশন ক্লাব থেকে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়ে। নাটোর শহরে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারনে মুক্তিযোদ্ধারা নাটোর ছাড়তে শুরু করেন বলেন জানান মুক্তিযুদ্ধের এ অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, নাটোরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর মুক্তিযোদ্ধারা নাটোরে ফিরে আসতে শুরু করেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে খন্ড খন্ড বিজয় মিছিল হতে থাকে। ১৩ এপ্রিল থেকে ১৫ ডিসেম্বর নাটোর শহর পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ১৬ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা নিজেদের গুটিয়ে নেয়। এসময় উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে সেনাবাহিনী নাটোরে আসতে থাকে। নাটোরে আসেন মিত্র বাহিনী।
এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২১ ডিসেম্বর তৎকালীন গভর্নর হাউজ তথা বর্তমান উত্তরা গণভবনে ১৪১ জন অফিসার, ১১৮ জন জেসিও, পাঁচ হাজার ৪৫০ জন সিপাহী ও এক হাজার ৮৫৬ জন প্যারামিলিশিয়া বাহিনী নিয়ে পাকিস্তান সেনা বাহিনীর অধিনায়ক মেজর জেনারেল নজর শাহ্ ও ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহম্মেদ আশরাফ আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণ দলিলে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মিত্র বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল লসমন সিং। ১০ হাজার ৭৭৩টি অস্ত্রসহ জমা হয় ট্যাংক, মর্টার সহ অসংখ্য সাজোঁয়া যান। সকালের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে কোন সিভিলিয়নের প্রবেশাধিকার ছিলনা বলে জানান এলাকার ঐ সময়ের যুবক বর্তমানে ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান। একই মত পোষন করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নাটোর জেলা শাখার কমান্ডার আব্দুর রউফ। আত্মসমর্পনের খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সারাদিন ধরে শহরে চলে বিজয় মিছিল আর মুক্ত আকাশে গান ফায়ার। জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয় সারা শহর।
২১ ডিসেম্বর উপলক্ষে নাটোরে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।