ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিনোদন ও শিল্পকলা : ঝিনাইদহে ১৫ দিনব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু   |    বিভাগীয় সংবাদ : বরগুনায় দুদকর আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ *জয়পুরহাটে প্রবীণদের কম্বল, বয়স্ক ভাতা, উপকরণ প্রদান *হবিগঞ্জে ১১ জন আসামি গ্রেফতার * ভোলায় ৫টি বদ্ধভূমির সংস্কার ও উন্নয়ন করা হচ্ছে   |   খেলাধুলার সংবাদ : পিএসজির আট গোলের বিশাল জয়ে নেইমারের চার গোল *কোপা ডেল রে : মেসির পেনাল্টি মিসে বার্সেলোনার হার   |   আবহাওয়া : দেশের কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ কেটে যেতে পারে   |    জাতীয় সংবাদ : বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল থেকে শুরু * নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করা উচিত   |   প্রধানমন্ত্রী : রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ * প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২০ প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রদান   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : কাজাখস্তানে বাস দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত * নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী * কান্দাহারে অনলাইনে শিক্ষা নিচ্ছে আফগান তরুণীরা   |   

পাবনার চাটমোহর হানাদার মুক্ত দিবস কাল

পাবনা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ (বাসস) : আগামীকাল ২০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাবনার চাটমোহর উপজেলা হানাদারদের দখল মুক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ হানাদার মুক্ত হলেও চাটমোহরে তখনো হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলো মুক্তিযোদ্ধারা।
সে সময়ের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এস এম মোজাহারুল হক বলেন, ৭১ সালের এপ্রিল মাসে হানাদাররা দুদফায় পাবনায় প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে। মে মাসে তারা আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত হয়ে পাবনা দখল করে নেয়।
এরপর তারা চাটমোহর দখল করে নেয় ১৩ মে। শুরুতেই হানাদাররা প্রাচীন জনপদটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ব্যাংক লুট করে, ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ ও ক্যশিয়ার শামসুল ইসলামসহ দুজন গার্ডকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর হানাদাররা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রঘুনাথ কুন্ড, অশ্বিনী কুন্ডু, যতীন কুন্ডু ও ঝরুঠাকুরকে গুলি করে হত্যা করে।
এলাকায় শান্তি কমিটির সভাপতি ফয়েজ আহম্মেদ খাঁন ও নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে রাজাকারা চালাতে থাকে অত্যাচার-নির্যাতন। ফয়েজ খাঁন সংখ্যালঘুদের জোড় পূর্বক মুসলমান বানায়। এ ভাবেই সাড়ে সাত মাস চাটমোহর পাক হানাদার ও তাদের দোসরদের কবলে থাকে। ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধারা ছোট ছোট আক্রমণের মধ্যদিয়ে চাটমোহর শহরকে ঘিরে ফেলে। ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা থানা আক্রমণ করে। কমান্ডার মোজাম্মেল হক ময়েজ, মোজাহারুল হক, ইদ্রিস আলী চঞ্চল, আমজাদ হোসেন লালের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সাড়াশি আক্রমণের মুখে হানাদাররা থানায় আটকা পড়ে।
১৫ ডিসেম্বর রাতে এক আক্রমণের মুখে বেশ কজন হানাদার নিহত হয়। পরদিন সকালে হানাদাররা রাজাকার আজ্জের আলীর সহায়তায় সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা দুই সহোদর মোসলেম ও তালেবকে প্রকাশ্যে দিনের বেলা গুলি করে হত্যা করে।
১৬ ডিসেম্বর অবস্থা বেগতিক বুঝে হানাদাররা থানায় সাদা পতাকা উড়িয়ে মিটিং-এর আহ্বান জানায়। এ অবস্থায় দুইদিন আক্রমণ বন্ধ থাকে।
১৮ ডিসেম্বর হানাদারদের আহ্বানে সারা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা থানায় প্রবেশ করে আলোচনায় বসে। হানাদাররা মুক্তিবাহিনী নয়, মিত্রবাহিনীর কাছে আতসমর্পণের শর্ত দেয়।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা আক্রমণ বন্ধ রেখে ২০ ডিসেম্বর পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বকুলকে মিত্রবাহিনীর পোশাক পরিয়ে নকল মিত্রবাহিনী সাজিয়ে চাটমোহরে নিয়ে আসেন। এদিন বেলা ২টায় তার কাছেই হানাদার বাহিনী আতসমর্পণ করে। এভাবেই বিজয় দিবসের ৪ দিন পরে ২০ ডিসেম্বর চাটমোহর হানাদার মুক্ত হয়।