ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

গাজীপুরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু ১৯ মার্চ, শেষ হয় ১৫ ডিসেম্বর

গাজীপুর, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ (বাসস) : গাজীপরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ১৯ মার্চ এবং সর্বশেষ সম্মুখ য়ুদ্ধ হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধে গাজীপুরবাসীর বীরত্ব. অবিস্মরণীয়।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী মহান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সকল আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ৫ মার্চ টঙ্গীর মেঘনা সুতা মিলের সামনে পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ইসরাফিল, মোতালিব, হারিছ ও গুলিতে আহত হন। রাজামিয়া, শাহজাহান, সদাবেপারিসহ ২৫।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে গাজীপুরের সর্বত্র শ্লোগান উঠে তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা মেঘনা যমুনা বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর ইয়াহিয়ার ঘোষণা মানি না মানবো না ইত্যাদি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গাজীপুরে সর্ব দলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় সেখানে সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা ও হাই কমান্ড মোঃ শামসুল হক (উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগ) মোঃ হাবিবুল্লাহ হাইকমান্ড সদস্য (আওয়ামী লীগ) ডা. মনিন্দ্রনাথ গোস্বামী সদস্য (মোজাফফর ন্যাপ) এম.এ মুত্তালিব সদস্য (ম্যাসিনটুলস ফ্যাক্টরী বামপন্থী শ্রমিক নেতা)। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এড আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এমপি। সদস্যদের মধ্যে সর্ব জনাব মোঃ শহিদুল্লাহ বাচ্চু, আয়েশ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম খান, আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার মিয়া, শহিদুল ইসলাম পাঠান জিন্নাহ, মোঃ হারুন আর রশিদ ভূঁইয়া, মোঃ নুরুল ইসলাম, শেখ মোঃ আবুল হোসেন, হযরত আলী, ছায়েদ বক্স, আলীম উদ্দিন, এম.এ বারি, হাতেম আলী, আব্দুর রউফ নয়ন, টঙ্গীর আব্দুল হাকিম মাস্টার এম.এন.এ কাজী মোজাম্মেল হক, আলহজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার, আলহাজ্ব শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, আলহাজ গাজী আব্দুল লতিফ, সাহাজ উদ্দিন সরকার, কাজী সাজাহান, ডা. এম.এ রশিদ, এড আজমত উল্লা খান, এড আব্দুল মান্নান পাঠান, আব্দুল মান্নান, সাহাব উদ্দিন সরকার, জয়নাল আবেদীন বিএ, মতিউর রহমান বিকম, এ শহীদ ময়েজ উদ্দিন আহমেদ, এড আলাউদ্দিন হোসেন, আক্তার উজ্জামান, আব্দুস সামাদ, এমদাদুল হক প্রমুখ। কাপাসিয়ায় বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদ (কেন্দ্রীয় ভাবে নেতৃত্বে প্রথম প্রধানমন্ত্রী), সাহাব উদ্দিন ফকির, মাহাবুব আলম খান বেনু, আতা উদ্দিন, খালেদ খুররুম, সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ শহিদ উল্লাহ, বজলুর রহমান, আব্দুল গনি প্রমুখ, কালিয়াকৈরে দেওয়ান আব্দুল কাইয়ুম, এড দেওয়ান মোঃ ইব্রাহীম, খন্দকার আব্দুস সালাম, নাসের আহমেদ, ছামান উদ্দিন প্রমুখ। শ্রীপুরে এডভোকেট রহমত আলী এমপি, সাহাব উদ্দিন মন্ডল, সিরাজ উদ্দিন, হাজী আফতাব উদ্দিন, লুৎফর রহমান, মোতালিব মোড়ল, মোঃ নুরুল ইসলাম, এড. হারিছ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। ১৯ মার্চ জয়দেবপুরের মাটিতে প্রথম শুরু হয়েছিল বর্বর পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ। গর্জে উঠেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী দের হাতের অস্ত্রের প্রথম গুলি।
পাঞ্জাবীদের গুলি বর্ষণে জয়দেবপুর বাজারে শহীদ হন মনু খলিফা, নেয়ামত, আহত হন সন্তোষ মল্লিক, ইউসুফসহ আরো কজন চান্দনা চৌরাস্তায় হুরমত আলী, কানু মিয়া। পাক বাহিনী টঙ্গীর দিকে অগ্রসর হলে সেখানে প্রবল প্রতিরোধের সমুখীন হয়।
২৯ মার্চ সকাল ১১টার দিকে জয়দেবপুর রাজবাড়ীর আশ পাশে বিমান হামলা চালিয়ে বিকাল ৩টায় বিগ্রেডিয়ার জাহান জেব আরবার এর নেতৃত্বে জয়দেবপুর দখল করেন। এদিকে গাজীপুর টঙ্গী শ্রীপুর কালিয়াকৈর কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জের প্রায় সব নেতা কর্মী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবার জন্যে এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন ভাবে ভারত চলে যান।
সেখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বিিচ্ছন্নভাবে আক্রমণে সেতু বৈদ্যুতিক খুটি বিধ্বস্ত করে। পাক সেনা, রাজাকার, আলবদর, আলসামস্ এবং শান্তি কমিটির লোকজনকে হতাহত করা গেলেও তেমন সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ করা সম্ভব হয়নি।
পাকবাহিনীর দখলদারির ৯ মাসের ভয়ংকর দিনগুলোতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লুটতরাজ বাড়ী ঘর দোকান পাটে অগ্নিসংযোগ বাঙ্গালী নিধন হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে নারী নির্যাতন করেছিল পাক বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা মিত্র বাহিনীর সাথে একত্রে মিলে ডিসেম্বর ৩-১২ তারিখে পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ করতে থাকলে খান সেনারা কোন ঠাসা ও চার দিক থেকে অবরুদ্ধ হতে থাকে। ১৩-১৪ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনীর তীব্র আক্রমণে তারা অবস্থান গুটিয়ে ঢাকার পথে চলে যেতে থাকলে ঢাকা সদর উত্তর ১১নং সাব সেক্টর অধিনায়ক মেজর আফছার উদ্দিন বাহিনী এবং ভালুকা, সিডস্টোর এবং টাংগাইল এ কাদেরিয়া বাহিনীর আক্রমণে বহু পাকসেনা নিহত ও আহত হয়। অন্যরা দ্রুত পালিয়ে গাজীপুর চান্দনায় চৌরাস্তায় জড়ো হয়ে কনভয় নিয়ে ছয়দানা নামক স্থানে পৌছা মাত্র ঢাকা সদর উত্তর মহকুমার মুজিব বাহিনীর প্রধান সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমান জেলা সংসদ কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ হাসান উদ্দিন সরকার, সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, আলহাজ্ব ফজলুল হকের নেতৃতে পাক বাহিনীর কনভয়ে হামলা চালালে ৬ শতাধিক পাকসেনা নিহত হয় এবং বেশ কিছু হানাদার বাহিনী আহত হয়। এ যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর একজন অফিসার সহ কিছু সংখক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
এই যুদ্ধ প্রসঙ্গে গাজীপুর জেলা কমান্ডার আলহাজ্ব কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা ইন্ডিয়ান আর্মি (মিত্র বাহিনীর) নিকট খবর পাই পাক বাহিনী ঢাকার দিকে যাচ্ছে, মালেকের বাড়ি এলাকায় তাদের কনভয় ঢোকা মাত্র মিত্র বাহিনী আক্রমণ করবে। আমাদের মেইন ট্রুপস সরাসরি তাদের সাথে যোগ দিয়ে ছয়দানা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।
সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, তিনি নিজে ছয়দানা এলাতায় যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন, সামনা-সামনি পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন নঈমকে গুলি করে তিনি হত্যা করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম জানান, আহসান উল্লাহ মাস্টার, ফজলুল হক, জয়নাল আবদীন বিএ সহ আমরা পাক বাহিনী বেশ কিছু হাবিলদা সুবেদার নায়েক ও সৈন্যকে গুলি করে হত্যা করি। মূলত এটি মুক্তি বাহিনীর শেষ যুদ্ধ এবং ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর শত্রু মুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসর্মপণের মধ্যদিয়ে আমরা অর্জন করি একটি দেশ, একটি রক্ত খচিত লাল সবুজ পতাকার বাংলাদেশ।