ঢাকা, শুক্রুবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : ওবায়দুল কাদেরের সাথে বিএফইউজে নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ * বিদেশী শক্তি কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারেনা : ওবায়দুল কাদের * তরুণ প্রজন্মই গড়ে তুলবে সম্ভাবনার বাংলাদেশ : স্পিকার * চট্টগ্রাম-কুনমিং রুটে ফ্লাইট চলাচলে চীনের আগ্রহ   |    অর্থনীতি : ৫ লাখ ২৬ হাজার নতুন করদাতা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন   |   রাষ্ট্রপতি : এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে : রাষ্ট্রপতি * অনিবার্য কারণে রাষ্ট্রপতির টুঙ্গিপাড়া সফর স্থগিত   |   প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকক ত্যাগ * শেরে বাংলা সাধারণের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন : প্রধানমন্ত্রী   |   খেলাধুলার সংবাদ : দুমৌসুম পর বিসিএলের শিরোপা জিতলো প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোন   |    জাতীয় সংবাদ : সরকার শিগগিরই আরো ৪,৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করবে * গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি :সিইসি * মেধা সম্পদের সুরক্ষায় খুব শীঘ্রই জাতীয় মেধাসম্পদ নীতি চূড়ান্ত হচ্ছে : শিল্পমন্ত্রী   |    বিভাগীয় সংবাদ : হবিগঞ্জে কালবৈশাখী : বজ্রপাতে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : সামরিক ডিমার্কেশন লাইনে শুক্রবার মুন ও কিমের সাক্ষাত : সিউল *পম্পেওর নাম নিশ্চিত করতে যাচ্ছে মার্কিন সিনেট   |   

২২টি যুদ্ধ শেষে ১১ ডিসেম্বর পাকহানাদার মুক্ত হয় কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া, ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ (বাসস) : আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার মুক্তি সেনারা রক্ত সংগ্রাম করে শত্রুর কবল থেকে কুষ্টিয়াকে মুক্ত করেছিলেন।
১১ ডিসেম্বর উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় ব্যাপক কর্মসুচী পালনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলার বংশীতলা, আড়পাড়া, ধলনগর ও কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, পুলিশ লাইন, কুমারখালী ঘাসখালী যুদ্ধসহ ২২টি যুদ্ধ শেষে ১০ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহরতলী চৌড়হাস মুক্তি মিত্র স্মৃতি সৌধস্থলে মুক্তিবাহিনী, ভারতীয় বাহিনীর সাথে পাকিস্তানবাহিনীর বিকেল ৪টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ভয়াবহ যুদ্ধ শেষে কুষ্টিয়া শত্রু মুক্ত হয়। এ যুদ্ধে ১শ ৭০ জন ভারতীয় বাহিনী, ১শ ৩০ জন মুক্তিবাহিনীসহ সাধারণ জনতা নিহত হন। এ যদ্ধে প্রায় ৪শ পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয় বলে এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা জানিয়েছেন।
তারা জানান, এ জেলায় শত্রু বাহিনীর সাথে মুক্তিসেনাদের সম্মুখ সমরসহ প্রায় ২২টি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। পথে প্রান্তরে গড়ে তোলা হয়েছিল বেরিকেড। এ সময় যুদ্ধে অংশ নিতে লাঠি-সড়কি, ঢাল-তলোয়ার নিয়ে হরিপুর-বারখাদা, জুগিয়া, আলামপুর, দহকোলা, জিয়ারুখী, কয়া, সুলতানপুর, পোড়াদহ, বাড়াদিসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ ছুটে এসেছিল কুষ্টিয়া শহরে।
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসুচী অনুযায়ী ২৩ মার্চ কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের মাঠে স্বতঃস্ফুর্ত জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক,আঃ জলিল পতাকা উত্তোলন করেন। অপারেশন সার্চলাইট যুদ্ধ পরিকল্পনা হিসেবে পাক সেনাবাহিনীর ২৭ বেলুচ রেজিমেন্টের এক কোম্পানী সৈন্য ২৫ মার্চ রাতে যশোর সেনানিবাস থেকে কুষ্টিয়া এসে অবস্থান গ্রহণ করে।
ওই সময় মজমপুর, থানাপাড়া, আমলাপাড়া, বড় বাজার গেটের কাছে জনসাধারণ রাস্তার উপর ইট-পাটকেল, কাটা গাছের গুড়ি, এমনকি ঘরের চাল নিয়ে এসে সেনাবাহিনীর চলাচল বিঘ করার উদ্দেশ্যে বেরিকেড তৈরি করেছিল। সেনাবাহিনী সেগুলো সরিয়ে ফেলে যেন আরো মারমুখী হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় তুমুল যুদ্ধ। বর্তমান কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের সামনে একটি একতলা ভবন থেকে রনি রেহমান নামে এক তরুণ ছাত্র পাকসেনাদের গাড়ীর উপর হাতবোমা নিক্ষেপের সময় গুলীতে প্রাণ হারায়। এ দিনই পাকবাহিনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের উপর নির্বিচারে গুলীবর্ষণ শুরু করে। এতে তাৎক্ষণিকভাবেই ৭ জন মারা যায়। এমনি করে পরবর্তীতে ২২ দফা যুদ্ধ হয় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায়।
৯ ডিসেম্বর সকালে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে বি টি সি তামাক ক্রয়কেন্দ্রের কাছে ওয়াপদা ক্যানেলের কাছে ব্রীজের উত্তর পাশে মেইন রাস্তার পাক সৈন্যের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এখানে মিত্র বাহিনীর ৭০ জন শহীদ হন। ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার সমস্ত এলাকা স্বাধীন ও শত্রু মুক্ত হয়। ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা, ও আলমডাঙ্গা, ৮ ডিসেম্বর দৌলতপুর, খোকসা, কুমারখালী, এবং ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহর, পোড়াদহ, মিরপুর, ভেড়ামারা এলাকা স্বাধীন শত্রু মুক্ত হয়। সেদিনের ধবংসলীলা কুষ্টিয়া শহরে আজও স্মৃতি বহন করে। ২২ টি ছোটবড় যুদ্ধ শেষে ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শত্রু মুক্ত হয়।