ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : উৎসব কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি : বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী * এক মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু : মোজাম্মেল হক * ২০২০ সালের মধ্যে দেশের বনাঞ্চল ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আর্মেনিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারী আটক   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা বিষয়ে সিরিয়া ও রাশিয়ার সাথে জাতিসংঘের আলোচনা * ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ২ জনের মৃত্যু, আহত ২১ *উ.কোরিয়ায় আটক জাপানী নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার অঙ্গীকার ট্রাম্পের   |   খেলাধুলার সংবাদ : আইপিএল : রানার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো কলকাতা    |    বিভাগীয় সংবাদ : বানিয়াচংয়ে বাস খাদে, আহত ১০ * জয়পুরহাটে শিশু খাদ্য আইন ও বিধিমালা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা *ভোলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা * নকলায় কৃষি ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে   |   

একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ (বাসস) : একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর নয় মাসব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা। একই বছরের ১৫ এপ্রিল পাকহানাদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গা দখল করে।
চুয়াডাঙ্গা মুক্ত হবার পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয় মূলতঃ ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকেই। ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকেই চুয়াডাঙ্গা মহকুমার সর্বত্র বিশেষতঃ ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মুক্তিযুক্ত জোরদার হতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে ৬ই ডিসেম্বর পরিস্থিতি হয়ে ওঠে চরম উত্তেজনাকর।
চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার এডভোকেট শওকত মাহমুদ সেই সময়ের স্মৃতিচারন করে বলেন,এদিন সকাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দখলদার বাহিনীর যুদ্ধ শুর হয় চুয়াডাঙ্গাকে ঘিরে। একদিকে মুক্তিযোদ্ধারা চুয়াডাঙ্গা মুক্ত করতে চান, অপরদিকে দখলদার বাহিনী চায় তা প্রতিহত করতে।
তিনি বলেন ৬ ডিসেম্বর দামুড়হুদা থানার উজিরপুর ও পীরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান যে, হানাদার বাহিনী তাদের দামুড়হুদা ও জীবননগর থানার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে সেনা সরিয়ে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদরে আসছে। তখনই উজিরপুর ও পীরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের গোয়েন্দাদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রচার করে যে, যেভাবেই হোক হানাদার বাহিনীকে দামুড়হুদা ও জীবননগর সহ এ দুটি থানার বিভিন্ন এলাকার হানাদার বাহিনীকে চুয়াডাঙ্গা আসা রুখতেই হবে।
মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দামুড়হুদা ও কার্পাসডাঙ্গা থেকে চুয়াডাঙ্গা আসার প্রধান সড়কের একটি কালভার্টের নিচে মাইন পুতে রাখেন। কিন্তু সামান্য ভুলের কারণে ভেস্তে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের সমগ্র পরিকল্পনা। হানাদার বাহিনী এখান দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় আসার আগেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কোন কারণে ঐ কালভার্টের নিচ দিয়ে গরুর গাড়ী চালিয়ে আসতে গিয়ে মাইন বিষ্ফোরণে সেখানেই মারা যান। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা নতুন পরিকল্পনা করেন।
শওকত মাহমুদ বলেন, একই দিন বেলা ১০টা-১১টা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী দামুড়হুদা থানা সদর ও এই থানার অধীন কার্পাসডাঙ্গা সীমান্তবর্তী ক্যাম্প থেকে তাদের সৈন্য সরিয়ে এনে চুয়াডাঙ্গা আসার পথে চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা প্রধান সড়কের উক্ত উজিরপুর গ্রাম সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীর ধারে অবস্থান নেয়।
এ সময় পীরপুর ও তার আশপাশের গ্রামগুলোতে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা পাকহানাদার বাহিনীর এ অবস্থানের খবর পেয়ে অল্পক্ষণের মধ্যেই তাদের উপর আক্রমণ চালায়। পাকহানাদার বাহিনীও মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের জবাব দেয়। এভাবে এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও হানাদার বাহিনীর সাথে অনুমান ৪/৫ ঘন্টা যুদ্ধ চলে। ফলে হানাদার বাহিনীরও চুয়াডাঙ্গা আসা বিলম্ব হয়। এর মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে একজন সংবাদ বাহককে পাঠানো হয় চুয়াডাঙ্গায় সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার জন্য। আর পাশাপাশি চলে মুক্তিযোদ্ধাদের হানাদার বাহিনীর সাথে গুলি বিনিময়।
এ দিকে বেশ কিছুক্ষণ পর সংবাদ বাহক চুয়াডাঙ্গা থেকে খবর নিয়ে পীরপুর গ্রামে ফেরেন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এবং তিনি জানান যে, পাক হানাদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গা থেকে পিছু হটে যাচ্ছে এবং তারা যাচ্ছে আলমডাঙ্গার দিকে। আলমডাঙ্গা তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা মহকুমার একটি থানা। এ অবস্থায় পীরপুর গ্রামের ও তৎসহ আশপাশের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর উপর আক্রমণ অল্প সময়ের জন্য বন্ধ রেখে চুপচাপ থাকে। এদের মধ্য থেকে একটি দল পীরপুর থেকে চলে আসে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার আলোকদিয়া গ্রামে।
চুয়াডাঙ্গা মহকুমা সদরসহ মহকুমার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত পাকহানাদার বাহিনী ৬ ডিসেম্বর রাত ৮/৯ টার মধ্যেই চুয়াডাঙ্গা ত্যাগ করে আলমডাঙ্গার পথ ধরে কুষ্টিয়া অভিমুখে যাত্রা করে যা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জানা ছিল না। পাকহানাদার বাহিনীর চুয়াডাঙ্গা ছাড়ার এ খবর চুয়াডাঙ্গা মহকুমার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা খবর পাবার পর তারা ৭ ডিসেম্বর ভোর থেকে চুয়াডাঙ্গা আসতে শুরু করে এবং এভাবেই চুয়াডাঙ্গা এদিন হয় পূর্ণ হানাদার বাহিনী দখলমুক্ত।