ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

পুলিৎজার বিজয়ী সাংবাদিক সিডনির চোখে যশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ (বাসস) : পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান সাংবাদিক সিডনি এইচ সানবার্গ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর শত্রুমুক্ত হবার পর বাঙালির বিজয় উল্লাস প্রত্যক্ষ করেছেন। একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর যশোর শত্রুমুক্ত হয়। এটি ছিল সে সময় বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা।
আমেরিকান এই সাংবাদিক বাঙালিজ ড্যান্স এন্ড শাউট এট লিবারেশন অব যশোর শীর্ষক একটি প্রতিবেদন লিখেন। প্রতিবেদনটি ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসে ছাপা হয়। প্রতিবেদনে তিনি লিখেন বাড়ির ছাদে বাঙালিরা নৃত্য করছে। তারা রাস্তায় রাস্তায় স্বাধীনতার স্লোগান দিচ্ছে। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে। ভারতের সৈন্যদের সঙ্গে করমর্দন করছে।
১৯৩৪ সালের ১৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী এই সাংবাদিক ১৯৭১ সালে সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সৈন্যদের গণহত্যা সম্পর্কে লিখেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর থেকে মাত্র চার মাইল দূরে অবস্থানকারী ভারতের সৈন্যরা খুলনা অভিমুখে যাত্রা করার নির্দেশের অপেক্ষা করছিল। এ সময় তারা তাদের সাজোয়াযানের উপর দাঁড়িয়ে পতাকা দুলিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং সাজোয়াযানের উপর থেকে ছবি তোলার জন্য পোজ দেয়। জীপে করে একদল বিদেশী সাংবাদিক ঝিকরগাছা থেকে যশোর যাচ্ছিলেন। সড়কের দুপাশে দাঁড়ানো গ্রামবাসীরা তাদেরকে দেখে জয় বাংলা স্লোগান দেয় এবং এগিয়ে এসে বিদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে করমর্দন করার চেষ্টা করে।
প্রতিবেদনে সে সময় যশোরের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করে বলা হয়, বাসের ভেতরে ও ছাদে জনতার উপচেপড়া ভীড়। বাসের যাত্রীরা স্বাধীন বাংলার স্লোগান দেয় এবং সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের নেতা ও পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
সাংবাদিক সানবার্গ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করা ছাড়াও কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের যুদ্ধের সংবাদও সংগ্রহ করেন। কম্বোডিয়ার যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের জন্য তিনি বেশি পরিচিত। ১৯৭৬ সালে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন।
প্রতিবেদনে তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, যশোরের অদূরে রাস্তার পাশে একজনের মৃতদেহ পরে আছে। তার বাম হাত কাটা ছিল এবং তার বুক ছিল ক্ষতবিক্ষত। স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তার অপরাধ পাকিস্তানি সৈন্যদের অবস্থান সম্পর্কে ভারতীয় সৈন্যদেরকে অবহিত করা। এই অভিযোগে তাকে পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্মমভাবে হত্যা করে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ভারত সীমান্ত থেকে যশোর অভিমুখী সড়কের প্রায় সবকটি সেতু পাকিস্তানি সৈন্যরা উড়িয়ে দেয়। সে সময় যশোর নগরীর মোট জনসংখ্যা ছিল ৩০ হাজার। এদের খুব কমসংখ্যক লোককে রাস্তায় দেখা যেত। এদের অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছিল। অনেকে মারা যায়। বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান, চারুবালা, সুনির কুমার রায়, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সুধির কুমার ঘোষ, মশিউর রহমানসহ শত শত নারী-পুরুষ আর কখনোই নিজ ভিটাবাড়িতে ফিরে আসেননি। মাতৃভূমির জন্য তারা আত্মোৎসর্গ করেন।