ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কমনওয়েলথের দৃঢ় অবস্থান   |    জাতীয় সংবাদ : প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরই মহার্ঘ্য ভাতা সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন : ইনু * বিসিএসআইআর মডেল রাস্তা নির্মাণে জাপানের টুইস্টার টেকনোলজি ব্যবহার করবে * জাতিসংঘের ৫৪টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৮ জন শান্তিরক্ষীর অংশ গ্রহণ   |   খেলাধুলার সংবাদ : ইংল্যান্ডের নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক ব্যাটসম্যান স্মিথ *ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলবে না ভারত * ওয়েঙ্গারের উত্তরসূরী হিসেবে পাঁচজনকে বিবেচনা করা হচ্ছে * ওয়াটসনের সেঞ্চুরিতে জয়ের ধারায় ফিরলো চেন্নাই   |   আবহাওয়া : দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে   |    বিভাগীয় সংবাদ : মেহেরপুরের মোমিনুলের আর্সেনিকমুক্ত প্লান্ট আবিস্কার *পিরোজপুর আধুনিক কারাগারের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে    |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : উ. কোরিয়ার প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয় জাপান *সিনেট প্যানেলে প্রত্যাখ্যাত হতে পারেন পম্পেও * অশালীন ভিডিও : সৌদি আরবে বন্ধ করে দেয়া হলো নারী শরীরচর্চা কেন্দ্র *পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে ইতিবাচক পদক্ষেপ উ.কোরিয়ার   |   

৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস

হবিগঞ্জ, ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ (বাসস) : ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে হবিগঞ্জবাসী স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলেন। এ দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের অবরুদ্ধ পরিবেশের অবসান হয়েছিল। শীতের সকালের সূর্যের রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়েছিল পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত আলো বাতাসে।
১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর সূর্যাস্তের পর শহরে নেমে আসে ভূতুরে নিস্তব্ধতা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর শোনার জন্য শহরবাসী রেডিওতে কান পেতেছিলেন। এর কদিন আগেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শায়েস্তানগর ও উমেদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রচ- গুলিবর্ষণের মাধ্যমে তাদের আগমন বার্তা ঘোষণা করেছিল। খোয়াই নদীর ওপার থেকে মুক্তিযোদ্ধারা গুলি ছুড়তে থাকেন। শায়েস্তানগর এলাকায় বর্তমানের টেলিফোন এক্সচেঞ্জের স্থানে পাকিস্তানী মিলিশিয়াদের একটি ক্যাম্প ছিল। তবে তারা আগের দিনেই শহর ছেড়ে চলে যায়। পাকিস্তানীদের দালাল এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুলার শায়েস্তানগরস্থ বাসভবনে একা হামলা চালাতে গিয়ে রাজাকারের গুলিতে নিহত হন মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা সদস্য নূরুল ইসলাম মাসুদ। তিনি শহীদ হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা শহরে আর কোন প্রতিরোধের সম্মুখীন হননি।
রাজাকার, আলবদর আর শামস্ বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র হামলার মুখে রাতেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বরে শীতের সকালে রক্তিম সূর্য তার আলো দিয়ে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের আরো সতেজ করে তোলে। শহরবাসী বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের অভিবাদন জানায়। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মুক্ত হবিগঞ্জ শহরের রাস্তায় নেমে এসে বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করে। এ ছিল এক বিস্ময়কর অনুভূতি।
মুক্ত হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের যে দলটি প্রথমে প্রবেশ করে তার নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুস শহীদ। তার সাথে আরো যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারা হলেন সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের লতিফ, মশাজানের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আব্দুল কাইয়ুম, সুলতান মামদপুরের মুহাম্মদ আজিম, সুলতানশীর আব্দুল মালেক, হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সাবু মিয়া, রইছ আলী, উমেদনগরের শুকুর মিয়া, বাহুবলের হাবিব মিয়া, রাজিউড়ার আলফু মিয়াসহ ৩৫ জন। তারা সকাল ১০-১১ টার দিকে পইলের রাস্তা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। এর আগে তাদের অবস্থান ছিল সাবাসপুর, বক্তারপুর ও সুয়াইয়া গ্রামে। দলটি শহর প্রদক্ষিণ করে থানায় গিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। পরে জে কে এন্ড এই কে হাই স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হাজার হাজার মানুষ।
যার নেতৃত্বে হবিগঞ্জ মুক্ত হয় সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুস শহীদ বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হবিগঞ্জ সদর ইউনিটের কমান্ডার। তিনি জানান, তার নেতৃত্বে ৩ নং সেক্টরের একটি প্লাটুন ২ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ শহরের পাশে এসে আস্তানা গড়ে এবং দুজন দালালকে আটক করে হত্যা করা হয়। পরে ৫ ডিসেম্বর ঘেরাও করা হয় হবিগঞ্জ শহর। তখন পাক সেনার পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর সকালে আমরা শহরে প্রবেশ করি এবং থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি। জনগণ আমাদেরকে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়।
প্লাটুনের সদস্য সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ জানান, তুমুল যুদ্ধের পর যখন আমরা শহরে প্রবেশ করি তখন জনগণ আমাদের স্বাগত জানায়। তারা অনেক আনন্দিত হয়। আমাদের কাছে সেই স্মৃতি এখনও জাগরুক। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর যখন দেখেছি দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তা দেখে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই এই সরকারের আমলেই যেন সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়।
হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে ৬ ডিসেম্বর রোববার সকাল ৯টায় হবিগঞ্জ শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে র‌্যালি বের করবে হবিগঞ্জ সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সৌধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।