ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

শহীদের রক্তে রঞ্জিত দীঘির নাম পাল্টে রাখা হল খুনিয়াদীঘি

মামুন ইসলাম
রংপুর, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ (বাসস) : ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার বনদরা গ্রামে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৩ হাজার নিরপরাধ বাঙ্গালী শহীদের রক্তে রঞ্জিত একটি দীঘির নাম গ্রামবাসীরা পাল্টে খুনিয়াদীঘি নতুন নামকরণ করলেন।
খুনিয়াদীঘি নামকরণের কারণ হলো ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিরপরাধ বাঙ্গালীদের মধ্যযুগীয় কায়দায় পাকিস্তানী সেনারা এদেশীয় দোসরদের সহযোগীতায় হত্যা করে, ফলে শহীদের রক্ত পানিতে মিশে রঞ্জিত হয়ে যায়। খুনিয়াদীঘির পানি এখনও মানবতার বিরুদ্ধে নৃশংসতা এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর জঘন্য অপরাধের নিরব সাক্ষী হিসেবে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, হানাদার বাহিনী যুদ্ধের নয় মাসে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিরপরাধ বাঙ্গালী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ৩ হাজার স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধা ও নিরপরাধ বাঙ্গালীদের নির্যাতন ও হত্যা করে খুনিয়াদীঘির পানিতে ফেলে দেয়া হয়। খুনিয়াদীঘি রাণীশংকৈল থানার পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর টর্চার ক্যাম্পটি থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্বাধীনতার পর গ্রামবাসী শহীদের রক্তে রঞ্জিত দীঘিটির নাম পাল্টে নামকরণ করে খুনিয়াদীঘি।
আরো একটি টর্চার ক্যাম্প ছিল রাণীশংকৈল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে হানাদার বাহিনী আম গাছের সঙ্গে নিরপরাধ বাঙ্গালীদের বেধে নির্যাতন করে হত্যার পর খুনিয়াদীঘির পানিতে এনে ফেলে দেয়।
হানাদার বাহিনী তাদের স্থানীয় দোষরদের সহযোগীতায় বিভিন্ন টর্চার সেলে স্থানীয় নারীদের ধরে এনে তাদের শ্লীলতাহানির পর হত্যা করে দীঘির পানিতে ফেলে দিত।
খুনিয়াদীঘিতে গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহিউদ্দিন আহমেদ, বনদরা গ্রামের ফয়জুল হক এবং তকবির আলী হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেই ঘটনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তারা অশ্রু ও আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাণীশংকৈল উপজেলার সাবেক কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি স্বাধীনতার পর তার সহযোগীদের নিয়ে দীঘি থেকে প্রায় ১৫শ মানব কঙ্কাল উত্তোলন করে। তখন ঢাকা থেকে একটি অনুসন্ধানী দল গিয়ে কিছু কঙ্কাল ও হাড় নমুনা হিসেবে নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, রাণীশংকৈল আর্ম ক্যাম্প ছিল একটি ভীতিকর টর্চার সেল। হানাদার বাহিনী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী এবং বিভিন্ন স্থান থেকে সেখানে নিরপরাধ বাঙালি নারী-পুরুষসহ মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে আসত এবং হত্যা করে খুনিয়াদীঘিতে ফেলে দিত।
স্থানীয় দোষরদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীর খুনিয়াদীঘির সংশ্লিষ্ট নৃশংসতা সম্পর্কে এ সময় বাসসের সঙ্গে আলাপচারিতায় বানদরা গ্রামের আবদুল মান্নান, হরিপুর উপজেলার মহসিন আলী, বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার এডভোকেট সৈয়দ আলম বিভিন্ন তথ্য জানান।
তারা অতি দ্রুততার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসসহ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শেষ করে একটি অসাম্পদায়িক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার দাবি জানান।
স্বাধীনতার পর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার রাণীশংকৈল উপজেলায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে খুনিয়াদীঘির পাড়ে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করে।