ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিভাগীয় সংবাদ : মুকসুদপুরে একই যন্ত্রের সাহায্যে এক সাথে ধানের চারা রোপণ ও দানাদার ইউরিয়া সার প্রয়োগ * মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল সরিষার চাষ বেড়েছে * ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে   |   রাষ্ট্রপতি : বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ    |    জাতীয় সংবাদ : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত * এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : চিলিতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প * কাবুলে হোটেলে হামলায় নিহত ৫ : আফগান গোয়েন্দা সংস্থা *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *   |   খেলাধুলার সংবাদ : নেইমারকে নিয়ে জিদানের আশাবাদ * হ্যাজার্ডের দুই গোলে চেলসির জয় * আইপিএল নিলামে অংশ নিবেন ৫৭৮ জন খেলোয়াড়   |   

৩২ জন মুসল্লীকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখোশ উন্মোচিত হয়

রংপুর, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : ১৯৭১ সালে ৭ মে পাকিস্তান সেনাবাহিনী রংপুর-বদরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার লাহিরির হাটে জুম্মার নামাজ শেষে বেরিয়ে আসার সময় ৩২ জন মুসল্লীকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করে। এ হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইসলামপ্রীতির প্রকৃত মুখোশ উন্মোচিত হয়।
এই জঘণ্য হত্যাকা-ের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
লাহিরির হাট গণহত্যার পর ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝে যায় যে, পাকিস্তান সরকার শত্রুদের হাত থেকে ইসলাম রক্ষার যে প্রচারণা চালাচ্ছে তা পুরোপুরি মিথ্যা এবং ভুয়া। মুক্তিযুদ্ধে রংপুরের ইতিহাস গ্রন্থে এই গণহত্যার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। রংপুর জেলা প্রশাসন বইটি প্রকাশ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান (৭০), রফিকুল ইসলাম (৬২), রাজকুমার (৮০), আফতাব হোসেন (৭০) এবং নুরুল ইসলামও (৮৫) এই গণহত্যার বর্ণনা দিয়েছেন।
ঘটনার দিন ছিল শুক্রবার। দখলদার বাহিনী রাজাকারদের নিয়ে চারটি ট্রাকে করে লাহিরির হাট মসজিদের সামনে উপস্থিত হয়। তারা এসেই জুম্মার নামাজ থেকে বেরিয়ে আসা মুসল্লীদের গ্রেফতার শুরু করে। এসময় মুসল্লীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পালাতে শুরু করে। এদের মধ্য থেকে হানাদার বাহিনী ৩২ জনকে আটক করে। এর মধ্যে এক পিতা এবং তার পুত্রও ছিল। আটকের পর তাদের উপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতিতরা বার বার দাবি করে আসছিলেন তারা মুসলমান এবং মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছেন। কিন্তু হানাদাররা তাদের কোনো ফরিয়াদ শুনেনি।
পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা মুসল্লীদেরকে একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে যায়। আটজন করে তাদেরকে চার সারিতে দাঁড় করানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমান বলেন, বর্বর পাকিস্তানী সৈন্যরা পুকুর পাড়ে একটি ঘাসের নিচে ব্রাসফায়ার করে ৩২ মুসল্লীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিছুক্ষণ আগে নামাজ পড়ে আসা সব মুসল্লী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদের কারো মাথায়, কারো বুকে, নাকে এবং অন্যান্য স্থানে গুলি লাগে। যারা আহত হয়ে কাতরাচ্ছিল, তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য দখলদার বাহিনী ও রাজাকাররা মধ্যযুগীয় কায়দায় তাদেরকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে। পরে দখলদার বাহিনী এবং রাজকার আল-বদররা শহীদ মুসল্লীদের লাশগুলো একটি গণকবরে চাপা দিয়ে চলে যায়।
তারা চলে যাওয়ার পর নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা গণকবর থেকে লাশগুলো তুলে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে দাফন করে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধে রংপুর গ্রন্থে ৩২ মুসল্লীর মধ্যে ২৭ জনের নাম ছাপা হয়েছে। তারা হলেন মনোয়ার হোসেন বেনু, নওয়াব আলী, আবদুল করিম, আজগর আলী, শাহ সেকান্দার আলী ও তার পুত্র মিন্টু মিয়া, শাহ মোহাম্মদ নুরুল আনাম, আজহার আলী, আবদুস সাত্তার, মোফাজ্জল হোসেন, নবীন মিয়া, আবদুল আজীজ, এরশাদউল্লাহ, নুরুল ইসলাম, আবদুস সোবহান, ইয়াসিন আলী, সোলায়মান মিয়া, আবদুর রাজ্জাক, মনসুর আলী-১, লুৎফর রহমান, আবদুর রহিম, আজগর আলী, মাহবুবুল হক, নাসির উদ্দিন, আকবর আলী, মনসুর আলী-২ এবং আবদুল জব্বার মিয়া।