ঢাকা, বুধবার, জানুয়ারী ১৭, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : উন্নত দেশগুলোকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহবান প্রধানমন্ত্রীর   |   আবহাওয়া : দেশের কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ কমবে   |   খেলাধুলার সংবাদ : জুনে ব্যাঙ্গালুরুতে ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান * মিরপুর স্টেডিয়ামের শততম ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং-এ শ্রীলংকা   |    জাতীয় সংবাদ : ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচন স্থগিত * নবম ওয়েজ বোর্ডে সাংবাদিকদের স্বার্থ গুরুত্ব পাবে: তারানা হালিম * আপিল শুনানির কার্যতালিকায় যুদ্ধাপরাধী আজহার-কায়সার-সুবহানের মামলা   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘ সংস্থা থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের * মিয়ানমারে রাখাইন বৌদ্ধদের ওপর পুলিশের হামলা ॥ নিহত ৭ * পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্টের হাসপাতাল ত্যাগ * মেক্সিকোয় গণকবর থেকে ৩২টি লাশ উদ্ধার    |   

বিজয়ের ৪ দিন পরে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া শত্রুমুক্ত হয়

গোপালগঞ্জ, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস) : আগামীকাল ১৯ ডিসেম্বর কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া মুক্ত দিবস। ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হলেও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা হানাদার মুক্ত হয় ১৯ ডিসেম্বর।
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ফরিদপুর থেকে এক প্লাটুন সশস্ত্র পাকসেনা রেলযোগে কাশিয়ানী অদূরবর্তী ভাটিয়াপাড়া ওয়ারলেস সেন্টার দখল করে অবস্থান নেয়। স্থানীয় মুসলিম লীগ ও পিডিপি নেতাদের সহযোগিতায় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস এবং শান্তি কমিটি গঠন করে এলাকায় লুটতরাজ, খুন, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার নিপীড়ন চালাতে থাকে।
নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ কাশিয়ানীর অধিকাংশ এলাকা শত্রুমুক্ত হলেও শতাধিক পাকসেনা ও রাজাকার কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া ওয়ালেস সেন্টারে সুরক্ষিত বাঙ্কার করে অবস্থান নেয়। কাশিয়ানীর প্রায় ১ হাজার ২০০ মুক্তিযোদ্ধা চতুর্দিক থেকে আক্রমণ চালাতে থাকে। কিন্তু মাটির নিচে শক্ত বাঙ্কার করে অবস্থান নেয়ার ফলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে পাকবাহিনীকে পরাস্থ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ যশোর থেকে ক্যাপ্টেন কে এন হুদা এবং ফরিদপুর থেকে কমল ছিদ্দিকী তাদের বাহিনী নিয়ে কাশিয়ানীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দিয়ে সম্মিলিতভাবে আক্রমণ শুরু করে এবং ইংরেজি, পাঞ্জাবী ও বালুচ ভাষায় পাকসেনাদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুর রহমান খেপু মুন্সি ১৯ ডিসেম্বর ছাব্বির নামের এক পাকসেনাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে স্বাধীতার সংবাদ জানালে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কঠিন প্রতিরোধের মুখে বিকাল তিনটায় ৬৫ জন পাকসেনাসহ শতাধিক রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
এ সময় একজন পাকসেনা নিজের রাইফেল দিয়ে নিজের বুকে গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। রাজপথে জয়বাংলা ধ্বনিতে আনন্দ মিছিল করে জনতা আর সেই সাথে ১৯ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় কাশিয়ানী।
মার্চ থেকে ডিসেম্বর ১৮ তারিখ পর্যন্ত রাজাকার আল-বদরদের সহযোগিতায় ভাটিয়াপাড়া এলাকায় তাদের চলতে থাকে রাম রাজত্ব।
১৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতা এম এম আমজাদ হোসেন, বাগঝাপা গ্রামের মোক্তার শেখ, মাজড়ার হাবিবুর রহমান বাবু মিয়ার বাড়িসহ শতাধিক নেতা-কর্মীর ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পাকসেনারা। মাজড়া গ্রামের জহিরউদ্দিন মৌলভীর ছেলে বেলায়েত, যদু মিয়ার স্ত্রী ও বাগঝাপার আক্কাস শেখকে গুলি করে হত্যা করে। পরদিন ১৪ এপ্রিল পোনা গ্রামে ৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং রাজাকার খোকা মৌলভীসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যাসহ উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ধ্বংস ও লুটতরাজ করে।