ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : উৎসব কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি : বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী * এক মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু : মোজাম্মেল হক * ২০২০ সালের মধ্যে দেশের বনাঞ্চল ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আর্মেনিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারী আটক   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা বিষয়ে সিরিয়া ও রাশিয়ার সাথে জাতিসংঘের আলোচনা * ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ২ জনের মৃত্যু, আহত ২১ *উ.কোরিয়ায় আটক জাপানী নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার অঙ্গীকার ট্রাম্পের   |   খেলাধুলার সংবাদ : আইপিএল : রানার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো কলকাতা    |    বিভাগীয় সংবাদ : বানিয়াচংয়ে বাস খাদে, আহত ১০ * জয়পুরহাটে শিশু খাদ্য আইন ও বিধিমালা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা *ভোলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা * নকলায় কৃষি ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে   |   

সংরক্ষণের অভাবে মেহেরপুরের বধ্যভূমিগুলো নিশ্চিহ্ন হবার পথে

॥ দিলরুবা খাতুন ॥
মেহেরপুর, ১৫ ডিসেম্বও ২০১৪ (বাসস) : স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে মেহেরপুর জেলায় চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলো আজ অবধি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ না নেয়াতে হারিয়ে যেতে বসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোন বধ্যভূমিতেই বধ্যভূমির নামফলকটুকুও টানানো হয়নি। চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলো ইটের পর ইট গেঁথে বড় বড় ইমারত গড়ে তোলা হয়েছে। কোনখানে পুকুর করে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সরকারি জমির উপর বধ্যভূমিগুলোতেও কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই।
মেহেরপুর সরকারী কলেজ মাঠ বধ্যভূমি: স্থানীয় সরকারী কলেজের পেছনের ইমান আলীর জমি ও সেই সময়ের ইটখোলা ছিল এখানকার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি। এখানে পাকবাহিনীরা নিরীহ বাঙালি ধরে এনে হত্যা করত। সবচেয়ে বড় এই বধ্যভূমি থেকে শতাধিক মানুষের হাড়-গোড় মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত এই বধ্যভূমিতে নামফলকটুকুও টানানো হয়নি। সেখানে এক অংশে মাছচাষ হচ্ছে। বাকিঅংশ জমি হাতবদল হয়ে বড় বড় ইমারত গড়ে উঠেছে সেখানে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয় বধ্যভূমি : মেহেরপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বর ছিল পাক বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমি। এই বধ্যভূমি থেকে অনেক নারী পুরুষের হাড়-গোড় ও মাথার খুলি উদ্ধার হয়। এখানেও নেই কোন নামফলক। এ পর্যন্ত কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি সংরক্ষণের।
ওয়াপদা মোড় বধ্যভূমি : স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ওয়াপদার পশ্চিমে এই মোড় থেকে অজস্র নারী পুরুষ ও শিশুর লাশ ও হাড় গোড় উদ্ধার করা হয়। এখানে এখন বিভিন্ন জন ইটের পর ইট গেঁথে হারিয়ে দিয়েছে সেই বধ্যভূমির চিহ্ন।
বাস স্টেশন বধ্যভূমি : মেহেরপুরের বাসস্টেশন এলাকায় তৎকালীন মহকুমা পশুপালন অফিস চত্বর ছিল আরেকটি বধ্যভূমি। কিন্তু এই স্থানটির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। সেখানে এখন জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস। চারিদিকে অফিসের পাকা বাউন্ডারি দেয়া হলেও বধ্যভূমির কোন নামফলক দেয়া হয়নি।
মেহেরপুর ভোকেশনাল বধ্যভূমি : স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মেহেরপুর ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট কলেজটি পাকবাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে কিছু লাশ এখানে কবর দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর এখান থেকে শতাধিক মানুষের মাথা ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এই জায়গাটি সংরক্ষণ করা হয়নি।
তেরঘরিয়া বধ্যভূমি : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন ভারতে যাবার সময়ে তেরঘরিয়া বিলপাড়ে জড়ো করে পাক বাহিনী কিছু বাঙ্গালীকে প্রকাশ্যে গুলি করে। পরে গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখে। মুক্তিযুদ্ধের পরে সেখানে অসংখ্য মানুষের হাড়-গোড় ও মাথার খুলি পাওয়া যায়। স্থানটি সংরক্ষিত নেই বলে এখন খুঁজে পাওয়া যায় না।
মেহেরপুর কালাচাঁদপুর বধ্যভূমি : পাকবাহিনী কালাচাঁদপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ধওে চোখ বেঁধে একটি ঘরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে কালাচাঁদপুর সড়ক সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ পুঁতে ফেলা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর সেখান থেকে অসংখ্য মানুষের হাড়গোড়, মাথার খুলি উদ্ধার হয়। কিন্তু সংরক্ষিত না থাকায় এখন সেখানে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি।
জোড়পুকুরিয়া বধ্যভূমি : স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ডেটলাইন ১৯৭১ নামে একটি নামফলক ছিল। সেটি একসময় নষ্ট হয়ে গেছে। ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া বিভিন্ন বয়সের মানুষকে ওই সড়কে গুলি করে হত্যা শেষে রাস্তার পাশেই তাদের পুতে রাখা হতো। পরর্বীতে আর কোন নামফলক না থাকায় সেই বধ্যভূমির চিহ্ন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্দা ইউনিটের কমান্ডর বশির আহমেদ দীর্ঘদিনেও বধ্যভূমিগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষনের উদ্যোগ না নেয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের পক্ষে থেকে বধ্যভূমি হিসেবে নামফলক টানানো হবে।