ঢাকা, সোমবার, জানুয়ারী ২২, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

শিক্ষা : ঢাবি সিনেটে ২৫জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ   |   জাতীয় সংসদ : কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বিল-২০১৮ সংসদে পাস * সরকার ১৭৮টি নদী খনন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে : শাজাহান খান * প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী   |    জাতীয় সংবাদ : সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা * ঢাকা ইউএইকে আরো বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগের আহ্বান জানাবে * বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এডিবি বৃহৎ অংশীদার : খন্দকার মোশাররফ * আগামীকাল সরস্বতী পূজা   |    অর্থনীতি : দাম বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ১১৩টির এবং অপরিবর্তিত ৫৪ কোম্পানির শেয়ার * রাশিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী   |   প্রধানমন্ত্রী : জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * এস এম আতিউর রহমানের ইন্তেকালে প্রধানমন্ত্রীর শোক * ভূমির মালিকানা পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীরই থাকবে : প্রধানমন্ত্রী    |    বিভাগীয় সংবাদ : সরস্বতী পূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে প্রতিমার হাট * মাগুরায় অস্বচ্ছল ও অসুস্থ ব্যক্তির মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ * রংপুরকে আধুনিক সিটি কর্পোরেশন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : নবনির্বাচিত মেয়র   |   রাষ্ট্রপতি : শিক্ষাবিদ নুরুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক * সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে সুদৃঢ় করতে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি * বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ    |    জাতীয় সংবাদ : নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কী রূপরেখা দেয় সেটার অপেক্ষায় আছি : ওবায়দুল কাদের * সহায়ক সরকারের প্রস্তাব বিএনপির চক্রান্তের রাজনীতির অংশ : তথ্যমন্ত্রী * আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আফগানিস্তানে অতর্কিত হামলায় সরকারপন্থী ১৮ মিলিশিয়া নিহত *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এক বছর ॥ হাজারো নারীর বিক্ষোভ   |   খেলাধুলার সংবাদ : জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারালো শ্রীলংকা * জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারালো শ্রীলংকা *আইপিএলে এলিট তালিকায় সাকিব *অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে রাফায়েল নাদাল   |   

সংরক্ষণের অভাবে মেহেরপুরের বধ্যভূমিগুলো নিশ্চিহ্ন হবার পথে

॥ দিলরুবা খাতুন ॥
মেহেরপুর, ১৫ ডিসেম্বও ২০১৪ (বাসস) : স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে মেহেরপুর জেলায় চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলো আজ অবধি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ না নেয়াতে হারিয়ে যেতে বসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোন বধ্যভূমিতেই বধ্যভূমির নামফলকটুকুও টানানো হয়নি। চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলো ইটের পর ইট গেঁথে বড় বড় ইমারত গড়ে তোলা হয়েছে। কোনখানে পুকুর করে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সরকারি জমির উপর বধ্যভূমিগুলোতেও কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই।
মেহেরপুর সরকারী কলেজ মাঠ বধ্যভূমি: স্থানীয় সরকারী কলেজের পেছনের ইমান আলীর জমি ও সেই সময়ের ইটখোলা ছিল এখানকার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি। এখানে পাকবাহিনীরা নিরীহ বাঙালি ধরে এনে হত্যা করত। সবচেয়ে বড় এই বধ্যভূমি থেকে শতাধিক মানুষের হাড়-গোড় মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত এই বধ্যভূমিতে নামফলকটুকুও টানানো হয়নি। সেখানে এক অংশে মাছচাষ হচ্ছে। বাকিঅংশ জমি হাতবদল হয়ে বড় বড় ইমারত গড়ে উঠেছে সেখানে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয় বধ্যভূমি : মেহেরপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বর ছিল পাক বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমি। এই বধ্যভূমি থেকে অনেক নারী পুরুষের হাড়-গোড় ও মাথার খুলি উদ্ধার হয়। এখানেও নেই কোন নামফলক। এ পর্যন্ত কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি সংরক্ষণের।
ওয়াপদা মোড় বধ্যভূমি : স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ওয়াপদার পশ্চিমে এই মোড় থেকে অজস্র নারী পুরুষ ও শিশুর লাশ ও হাড় গোড় উদ্ধার করা হয়। এখানে এখন বিভিন্ন জন ইটের পর ইট গেঁথে হারিয়ে দিয়েছে সেই বধ্যভূমির চিহ্ন।
বাস স্টেশন বধ্যভূমি : মেহেরপুরের বাসস্টেশন এলাকায় তৎকালীন মহকুমা পশুপালন অফিস চত্বর ছিল আরেকটি বধ্যভূমি। কিন্তু এই স্থানটির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। সেখানে এখন জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস। চারিদিকে অফিসের পাকা বাউন্ডারি দেয়া হলেও বধ্যভূমির কোন নামফলক দেয়া হয়নি।
মেহেরপুর ভোকেশনাল বধ্যভূমি : স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মেহেরপুর ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট কলেজটি পাকবাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে কিছু লাশ এখানে কবর দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর এখান থেকে শতাধিক মানুষের মাথা ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এই জায়গাটি সংরক্ষণ করা হয়নি।
তেরঘরিয়া বধ্যভূমি : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন ভারতে যাবার সময়ে তেরঘরিয়া বিলপাড়ে জড়ো করে পাক বাহিনী কিছু বাঙ্গালীকে প্রকাশ্যে গুলি করে। পরে গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখে। মুক্তিযুদ্ধের পরে সেখানে অসংখ্য মানুষের হাড়-গোড় ও মাথার খুলি পাওয়া যায়। স্থানটি সংরক্ষিত নেই বলে এখন খুঁজে পাওয়া যায় না।
মেহেরপুর কালাচাঁদপুর বধ্যভূমি : পাকবাহিনী কালাচাঁদপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ধওে চোখ বেঁধে একটি ঘরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে কালাচাঁদপুর সড়ক সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ পুঁতে ফেলা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর সেখান থেকে অসংখ্য মানুষের হাড়গোড়, মাথার খুলি উদ্ধার হয়। কিন্তু সংরক্ষিত না থাকায় এখন সেখানে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি।
জোড়পুকুরিয়া বধ্যভূমি : স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ডেটলাইন ১৯৭১ নামে একটি নামফলক ছিল। সেটি একসময় নষ্ট হয়ে গেছে। ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া বিভিন্ন বয়সের মানুষকে ওই সড়কে গুলি করে হত্যা শেষে রাস্তার পাশেই তাদের পুতে রাখা হতো। পরর্বীতে আর কোন নামফলক না থাকায় সেই বধ্যভূমির চিহ্ন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্দা ইউনিটের কমান্ডর বশির আহমেদ দীর্ঘদিনেও বধ্যভূমিগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষনের উদ্যোগ না নেয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের পক্ষে থেকে বধ্যভূমি হিসেবে নামফলক টানানো হবে।