ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা যুদ্ধবিরতি চেয়েছিলো

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। এ দিনে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলে ভারত নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণের দাবি জানায়। সে সমযে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সামরিক কমান্ডার লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান কনসুলেটকে জানান, তারা শর্তসাপেক্ষে একটি যুদ্ধবিরতি করতে প্রস্তুত আছেন। শর্ত ছিলো তাদের সৈন্যদের নিরাপদে সরে যেতে সুযোগ দিতে হবে।
আমেরিকান কনস্যুল এই বার্তাটি তাদের সদর দফতর ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠিয়ে দেন।
পাকিস্তানের এই প্রস্তাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ জেনারেল মানেকশা তাৎক্ষণিক জবাবে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে দখলদার বাহিনীর শর্তহীন আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তারা অন্য কিছু মেনে নেবেন না।
উপরন্তু তিনি পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের সকল সৈন্য যুদ্ধবন্দী হিসেবে জেনেভা কনভেনশনের সকল সুযোগ-সুবিধ পাবেন। বার্তায় তাদের আরো আশ্বস্ত করা হয় যে, যুদ্ধবন্দী হিসেবে আটক সকল সৈন্য সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা পাবে।
পাকিস্তানি সামরিক কমান্ডার জবাবে বিকেল ৫টা থেকে পরের দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত সকল প্রকার বিমান অভিযান চালানো বন্ধ রাখতে তাদের বাহিনীকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি সৈন্যদের তাদের সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একটি বিশেষ বেতার সংযোগ চালু করে দেয়া হয়। যোগাযোগের জন্য এই চ্যানেলটি ব্যবহার করতে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রতি আহবান জানানো হয়। এদিকে মিত্র বাহিনী ঢাকা মহানগরীকে ঘিরে ফেলে। টাঙ্গাইলে প্যারা-ট্রুপার সৈন্যদের অবতরণ করানো হয়। তারাও ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে সৈন্যরা ঢাকা অভিমুখে আসতে থাকে। দাউদকান্দিতে ৩০১ ব্রিগেডের সৈন্যরা মেঘনা নদী অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হয়। তারা শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জ দখল করে নেয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিক থেকে দুটি ব্রিগেডের সৈন্যরা মেঘনা নদী অতিক্রম করে রূপগঞ্জ ও মুরাপাড়া অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে। তারা শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীর দিয়ে ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হয়।
ইয়াহিয়া খানের সদ্য নিয়োগকৃত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হাই ড্রামা সৃষ্টি করেন। তিনি সেখানে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের পতন ঘটলে আমরা আর একটি নতুন পাকিস্তান বানাবো। এটি হবে আরো ভালো পাকিস্তান। আমরা হাজার বছর ধরে লড়াই করবো। এরপরই তিনি নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বেরিয়ে যান। মস্কো থেকে সোভিয়েত নেতা ব্রেজনেভ সে সময়ের আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার দেশ পূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছে- পশ্চিম পাকিস্তানরে বিরুদ্ধে কোনো হামলা করা হবে না।