ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

শিক্ষা : ঢাবি সিনেটে ২৫জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ   |   জাতীয় সংসদ : কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বিল-২০১৮ সংসদে পাস * সরকার ১৭৮টি নদী খনন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে : শাজাহান খান * প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী   |    জাতীয় সংবাদ : ঢাকা ইউএইকে আরো বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগের আহ্বান জানাবে * বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এডিবি বৃহৎ অংশীদার : খন্দকার মোশাররফ * আগামীকাল সরস্বতী পূজা   |    অর্থনীতি : দাম বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ১১৩টির এবং অপরিবর্তিত ৫৪ কোম্পানির শেয়ার * রাশিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী   |   প্রধানমন্ত্রী : জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * এস এম আতিউর রহমানের ইন্তেকালে প্রধানমন্ত্রীর শোক * ভূমির মালিকানা পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীরই থাকবে : প্রধানমন্ত্রী    |    বিভাগীয় সংবাদ : সরস্বতী পূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে প্রতিমার হাট * মাগুরায় অস্বচ্ছল ও অসুস্থ ব্যক্তির মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ * রংপুরকে আধুনিক সিটি কর্পোরেশন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : নবনির্বাচিত মেয়র   |   রাষ্ট্রপতি : শিক্ষাবিদ নুরুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক * সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে সুদৃঢ় করতে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি * বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ    |    জাতীয় সংবাদ : নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কী রূপরেখা দেয় সেটার অপেক্ষায় আছি : ওবায়দুল কাদের * সহায়ক সরকারের প্রস্তাব বিএনপির চক্রান্তের রাজনীতির অংশ : তথ্যমন্ত্রী * আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আফগানিস্তানে অতর্কিত হামলায় সরকারপন্থী ১৮ মিলিশিয়া নিহত *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এক বছর ॥ হাজারো নারীর বিক্ষোভ   |   খেলাধুলার সংবাদ : জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারালো শ্রীলংকা * জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারালো শ্রীলংকা *আইপিএলে এলিট তালিকায় সাকিব *অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে রাফায়েল নাদাল   |   

বাংলাদেশের মানুষের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত : বেগম নাসিম আখতার মালিক

।। মাহফুজা জেসমিন ।।
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস) : পাকিস্তানের মানবাধিকার নেত্রী বেগম নাসিম আখতার মালিক বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারী-শিশুসহ এদেশের মানুষের ওপর যে হত্যা, নির্যাতন, লুন্ঠন চালানো হয়েছে তার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
আজ হোক কাল হোক বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে। কারণ পাকিস্তানের প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সেদেশের সাধারণ মানুষও এখন মনে করে, বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত, একাত্তরের ভয়াবহ ২৫ শে মার্চের সাক্ষী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেত্রী নাসিম আখতার মালিক বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে একথা বলেন।
তিনি বলেন, যে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চায়, সেই প্রকৃত মুসলমান। পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চায়, তাতে পাকিস্তানের ছোট হওয়ার কিছু নেই।
১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ন্যাপের সমাবেশে যোগ দিতে নাসিম আখতার ২২ মার্চ ঢাকায় আসেন। ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় থেকে তিনি এদেশের মানুষের প্রকৃত দাবি ও অবস্থা বুঝতে পারেন।
২৫ মার্চের মধ্যরাতে ন্যাপের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেশে ফেরার পথে সে রাতের যে হত্যাযজ্ঞ তিনি দেখেছিলেন, সে স্মৃতি মনে করে আজো কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু বেগম নাসিম আখতার।
একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২৫ মার্চের রাতে কার্ফ্যুর ভেতরে ট্রাকে করে যখন আমাদেরকে আর্মি পাহারায় এয়ারপোর্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন হত্যাযজ্ঞের যে নজির আমি দেখেছিলাম, সে স্মৃতি আমাকে এখনও তাড়া করে। ৭১এর যুদ্ধের নয়মাসে সে স্মৃতি মনে করে আমি অনেক কেঁদেছি।
পাকিস্তানে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত তৈরি করতে গিয়ে অনেক অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে যাইনি।
তিনি বলেন, সে সময় যুদ্ধে যারা মদদ দিয়েছেন, কিংবা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন, তাদের সাথে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কোন সংযোগ বা সমর্থন না থাকলেও তৎকালীন ভুট্টোর সরকার সাধারণ মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের যে অন্যায়, নিপীড়ন ছিল তা যৌক্তিক। সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাসও করেছিল।
কিন্তু যুদ্ধের পর চারযুগের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। ৭১এ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ধারনা পোষণ করতেন গণমাধ্যমের কল্যাণে এখন অনেকটাই বদলেছে। তাই তারা ও মনে করে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
বেগম নাসিম আখতার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পেছনে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতিই আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সেসময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দুই পাকিস্তানের ভেতরে দ্বন্দ ও সংঘাত সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছেন।
তিনি বলেন, ধর্মভিত্তিক দলগুলো কখনোই মানুষের কল্যাণ চায় না। তারা ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। এই ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি যতদিন থাকবে ততদিন দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না।
তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতির শিকার সাধারণ মানুষকে স্বকীয় সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারকে সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষ প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হলে এবং তাদের মৌলিক চাহিদা গুলো পূরণ হলে, ধর্মের নামে কেউ তাদের অন্যায় কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারবে না।
তিনি বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশ কারো জন্যই কল্যাণ বয়ে আনেনি। আমরা বিভক্ত হয়েছি। কিন্তু তাতে কারো কোন লাভ হয়নি। কিন্তু আমাদের জাতিগত শক্তি অনেকাংশেই কমে গেছে।
নাসিম বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাজনৈতিক অনেক উত্থান পতন দেখেছি। দেশ বিভাগ দেখেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি।
তিনি পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক উন্নয়নে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চ্চা করার আহ্বান জানান।