ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : চিলিতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প * কাবুলে হোটেলে হামলায় নিহত ৫ : আফগান গোয়েন্দা সংস্থা *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *   |   খেলাধুলার সংবাদ : নেইমারকে নিয়ে জিদানের আশাবাদ * হ্যাজার্ডের দুই গোলে চেলসির জয় * আইপিএল নিলামে অংশ নিবেন ৫৭৮ জন খেলোয়াড়   |   

শহীদ সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমেদের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুন্সীগঞ্জ, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : শহীদ সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমেদের ৪৩তম মৃত্যুবার্র্ষিকী আজ শুক্রবার। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সাংবাদিকতার মাধ্যমে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন অকুতোভয় সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিবিসির সংবাদদাতা হিসেবে তার পাঠানো সংবাদ বেতারে শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকত এ দেশের সাধারণ মানুষ। তার নির্ভীক সংবাদ পরিবেশন মুক্তিযুদ্ধে প্রাণপণে অবতীর্ণ হওয়ার সাহস সঞ্চার করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল।
১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার ১২/সি, রোকনপুরের বাসা থেকে তাকে চোখ বেধে গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদাররা। এরপর তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই দিনটিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে ধরে নিয়ে তার পরিবার প্রতিবছর এই দিনে তার মৃত্যুার্ষিকী পালন করে আসছে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের পর তার স্বজনরা রায়েরবাজার ইটভাটা ও মিরপুর বধ্যভূমিতে বহু খোঁজাখুঁজির পরও তার লাশ পাননি। সরকার ১৯৯৫ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেছে।
শহীদ নিজামউদ্দিন আহমদ ১৯২৯ সালের সেপ্টেম্বরে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাজীর পাগলা এ টি ইনস্টিটিউশনে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নের পর ১৯৪৭ সালে ভাগ্যকূল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন।এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে উচ্চমাধ্যমিক ও ১৯৫২ সালে াতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবন থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। একজন দক্ষ জনসেবক হিসেবে তিনি ১৯৬৫ সালে শ্রীনগর-লৌহজং আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদে স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হন। প্রাণবন্ত উচ্ছল ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই মহান সাংবাদিক ১৯৫০ সালে করাচির সিভিল অ্যান্ড মিলিটারি গেজেট-এ সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ঢাকার দৈনিক মিল্লাত ও দৈনিক আজাদ পত্রিকার সাথেও জড়িত ছিলেন। তিনি এএফপি, রয়টার, ইউপিআইর সংবাদদাতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এপিপির পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পিপিআইর পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম ও একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে তিনি এর সম্পাদক এবং পরে মহাব্যবস্থাপক নিযুক্ত হন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি বিবিসির সংবাদদাতা ছিলেন। সে সময় ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের কারণে বিবিসি কর্তৃপক্ষ প্রায় আধাঘন্টা সময় নিয়ে তার জীবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে একটি মন্তব্য অনুষ্ঠান প্রচার করেছিল। পরদিনই তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদাররা। সরকার ১৯৯৫ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেছে। এ দেশের বীরসন্তান নিবেদিতপ্রাণ এই সাংবাদিকের আত্মত্যাগ জাতির হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবে।