ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিনোদন ও শিল্পকলা : ঝিনাইদহে ১৫ দিনব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু   |    বিভাগীয় সংবাদ : বরগুনায় দুদকর আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ *জয়পুরহাটে প্রবীণদের কম্বল, বয়স্ক ভাতা, উপকরণ প্রদান *হবিগঞ্জে ১১ জন আসামি গ্রেফতার * ভোলায় ৫টি বদ্ধভূমির সংস্কার ও উন্নয়ন করা হচ্ছে   |   খেলাধুলার সংবাদ : পিএসজির আট গোলের বিশাল জয়ে নেইমারের চার গোল *কোপা ডেল রে : মেসির পেনাল্টি মিসে বার্সেলোনার হার   |   আবহাওয়া : দেশের কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ কেটে যেতে পারে   |    জাতীয় সংবাদ : বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল থেকে শুরু * নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করা উচিত   |   প্রধানমন্ত্রী : রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ * প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২০ প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রদান   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : কাজাখস্তানে বাস দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত * নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী * কান্দাহারে অনলাইনে শিক্ষা নিচ্ছে আফগান তরুণীরা   |   

রাজশাহীর বাবলা বন গণকবর সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দবি

॥ ড. আইনাল হক ॥
রাজশাহী, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে মহান শহীদদের স্মৃতি রক্ষা ও সম্মান জানানোর সুবিধার্থে রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত বাবলা বন গণকবরের যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে ।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ৭১ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে পাকিস্তানী হানাদাররা স্থানীয় দোসরদের সহযোগিতায় বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ ১৭ জন বাঙালিকে তুলে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন ৩০ ডিসেম্বর নগরীর বোয়ালিয়া ক্লাবের কাছে তাদের গণকবর আবিস্কার করে। ১৭ জন শহীদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির আবদুল কাইয়ুম, নওরোজ-উদ-দৌলা খান, তসলিম উদ্দিন, আবুল হোসেন, আলাউদ্দিন, তায়িব আলী, মির্জা সুলতান, আজিজুল হক চৌধুরী রয়েছেন।
শহীদ নওরোজ-উদ দৌলা খানের ছেলে আসাফ-উদ- দৌলা খান গুলজার বলেন, আমার এখনো মনে আছে ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকালে বাইসাইকেলে করে আমি কবরস্থানে গিয়ে বাবার হাতের আঙুলের আংটি দেখে মৃতদেহ সনাক্ত করি।
ব্যবসায়ী শহীদ আলতাফ হোসেনের ভাতিজা তৌফিকুর রহমান লাভলু বলেন, তিনি তার চাচার সোয়েটার দেখে মৃতদেহ সনাক্ত করেছিলেন। শহীদদের মৃতদেহের মধ্যে ১৩টির হাত-পা বাঁধা ছিল।
শহীদ পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর এ গণকবরে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও গণকবরের পাশে আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে।
শহীদ পরিবারের সদস্যসহ এলাকার অধিকাংশ মানুষই বাসসের সাথে আলাপকালে এ গণকবরের সংস্কার-সংরক্ষণসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করেন।
শহীদ অধ্যাপক মির আবদুল কাইয়ুমের মেয়ে অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন, এ গণকবর ১৯৭১ সালে স্থানীয় দোসরদের সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনা যুদ্ধাপরাধীদের মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, জাতি স্বাধীনতার ৪৩ বছর পার করেছে । কিন্তু এখনো সেদিনের দুঃসহ বর্বরতা আর নৃশংসতায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা শিহরিত হয়ে উঠে এবং গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে শহীদদের আত্মার শান্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, জাতির ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এ গণকবর সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কেয়া বলেন, নগরীর উপশহর ও তালাইমারিসহ বিভিন্ন স্থানে আরো অনেক গণকবর রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো এসব গণকবর অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া এ নগরীতে কতটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার আছে তার কোন তালিকাও নেই। এজন্য তারা কতৃপক্ষের কাছ থেকে এ পর্যন্ত কোন আর্থিক সহায়তা পায়নি।