ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : চিলিতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প * কাবুলে হোটেলে হামলায় নিহত ৫ : আফগান গোয়েন্দা সংস্থা *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *   |   খেলাধুলার সংবাদ : নেইমারকে নিয়ে জিদানের আশাবাদ * হ্যাজার্ডের দুই গোলে চেলসির জয় * আইপিএল নিলামে অংশ নিবেন ৫৭৮ জন খেলোয়াড়   |   

১৪ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হতে শুরু করে

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : পাকিস্তানপন্থী প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় পদত্যাগ করে এবং ভারতীয় বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ফোর্স ক্লোজিং ইন গভর্মেন্ট, মালিক ও এইডস ফ্লি ইনটু রিফুজি উইথ রেড ক্রস শিরোনামের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সমগ্র আঞ্চলিক সরকার পদত্যাগ করে। পশ্চিম পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশনা আর কার্যকর হয়নি।
খবরে আরো বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ড. এএম মালিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগ পত্রের একটি খসড়া লিখে পাঠান। পত্রে তিনি লিখেন ভারতের মিগ-২১ তার সরকারি বাসভবন ধ্বংস করে দিয়েছে।
নয়াদিল্লীতে সরকারি সূত্রে বলা হয়, ভারতীয় সৈন্যরা উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ঢাকার ৬ মাইলের মধ্যে প্রবেশ করেছে। এ সময় ঢাকা গ্যারিসনের কাছে পাকিস্তানি একটি ব্রিগেড কমান্ডার তাদের আত্মসমর্পণ করার খবর দিয়েছে।
পূর্ব পাকিস্তানি প্রশাসনের মন্ত্রীদের পরিবেষ্টিত গভর্নর মালিক তার পদত্যাগের খসড়া জাতিসংঘ কর্মকর্তা জন কেলিকে দেখান। লন্ডন সানডে পত্রিকা এ খবর জানায়।
বিমান হামলার সময়ে তারা তার সঙ্গে তার বাংকারে আটকা পড়েছিলেন। ড. মালিকের স্ত্রী ও কন্যা পাশের একটি কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় ড. মালিক এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা পদত্যাগ করবেন কি করবেন না, এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছিলেন। ভারতীয় বিমান বাহিনীর অভিযান অবশেষে এ বিষয়ে সমাধান দেয়। রকেট ও বোমা হামলা শেষে ড. মালিক তার জুতা ও মোজা খুলে পেলেন। সাবধানে তার পা পরিষ্কার করেন। রুমাল দিয়ে তার মাথা পরিষ্কার করেন এবং বাংকারের একটি কর্নারে নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে ড. মালিক মি. কেলিকে জিজ্ঞেস করেন, তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে যাবেন। হোটেলটি নিরাপদ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটি রেড ক্রস চালাতো। এর আগে পুলিশের আইজি এম এ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৬ জন বেসামরিক কর্মকর্তা হোটেলে এসে আশ্রয় নেয়। ড. মালিক সেখানে ভারতীয় সৈন্যদেরকে দেখে হতবাক হন। এই পদত্যাগের দায়-দায়িত্ব পূর্ব-পাকিস্তানি সামরিক কমান্ডার লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজির উপর পরে।
বিকেলে ভারতীয় মিগ জঙ্গি বিমান কোন প্রকার প্রতিরোধ ছাড়াই ঢাকার আকাশে উড়ে। এর আগে ভারতীয় বিমান থেকে ফেলানো প্রচার পত্রে অবাঙালী সৈন্যদেরকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তারা আত্মসমর্পণ করলে তাদের যান ও মাল নিরাপদ থাকবে।