ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ৬ মে থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু * ২০১৮ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধনের চূড়ান্ত ক্রম প্রকাশ * যুদ্ধাপরাধ মামলায় এনএসআইয়ের সাবেক ডিজি গ্রেফতার   |   প্রধানমন্ত্রী : চট্টগ্রামবন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে : প্রধানমন্ত্রী * বেলাল চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক * গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ এওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী   |   রাষ্ট্রপতি : দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ * ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি : রাষ্ট্রপতি * কবি বেলাল চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক   |    জাতীয় সংবাদ : আগামী জাতীয় নির্বাচনে বহিঃবিশ্বের হস্তক্ষেপ আশা করে না আওয়ামী লীগ : ওবায়দুল কাদের * রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ২৬১.৮৮ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে * ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এএসইউ প্ল্যান্টের উদ্বাধন    |   খেলাধুলার সংবাদ : চেলসিকে হারিয়ে ইউয়েফা ইয়ুথ লীগের শিরোপা জিতলো বার্সেলোনা * তিন বছরের জন্য রোমার জার্সির পৃষ্ঠপোষক হলো কাতার এয়ারওয়েজ * আরেকটি ট্রেবল জয়ের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হেইঙ্কেস   |    জাতীয় সংবাদ : বাংলাদেশের সাবলিল উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর * বিশিষ্ট কবি বেলাল চৌধুরী আর নেই * বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আহ্বান   |   আবহাওয়া : সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুস্ক থাকতে পারে    |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : মেক্সিকোতে নিখোঁজ ৩ ছাত্র বেঁচে নেই * চীনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু *কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের * টরেন্টোতে পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেয়ার ঘটনায় নিহত ১০   |   

মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর গোয়েন্দা সাফল্যের মূলে ছিল বাংলার জনগণের সাহসী তথ্য সরবরাহ

॥ ফজলে নোমানী ॥
ঢাকা, ৮ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস): মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর দ্রুত জয়লাভের নেপথ্যে ছিল গোয়েন্দাদের সফল গোয়েন্দা তৎপরতা। আর মিত্রবাহিনীর গোয়েন্দা সাফল্যের মূলে ছিল বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতার সাহসিকতার সঙ্গে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করা।
ভারত-বাংলাদেশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সেনা বিশেষজ্ঞ এবং লেখকদের লেখনিতে বিষয়টি উঠে এসেছে।
ভারতের সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং ভারতের এক্সটার্নাল এফেয়ার্স বিষয়ক রিসার্চ এন্ড এ্যানালাইসিস উইং র এর সাবেক প্রধান আনন্দ কে বার্মা ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিভিউ পত্রিকার ২০১২ সালের মার্চ সংখ্যায় ১৯৭১ : ফাইনেষ্ট আওয়ার ফর ইন্ডিয়ান ইন্টালিজেন্স এজেন্সিজ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন, ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিমান হামলা সম্পর্কে ভারতের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকাতেই হামলা অকার্যকর হয়। যাতে পাকিস্তানেরই বেশি ক্ষতি হয়।
তিনি বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাফল্যের একটি বিশেষ কারণ ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বেতার তরঙ্গ ইন্টারসেপ্ট করে দ্রুত কোড ব্রেক করে তা ডিকোড করা। তাছাড়া, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাত্র আড়াই বছরের মাথায় পাকিস্তানের আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টালিজেন্স)কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে র এর ছাপিয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল, বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের ঐকান্তিক সহযোগিতা। তাদের দু:সাহসিকভাবে রিয়াল টাইম তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ। সম্ভবত, ভারতীয় গোয়েন্দাবাহিনীর এতটা সফলতা আর কখনও আসেনি।
তিনি পাকিস্তান সশ্র বাহিনীর সদস্য, সেনা কমান্ডার এমনকি ইয়াহিয়া খানের টেলিফোনে যুদ্ধকালীন নানা অপারেশনের নির্দেশনা প্রদানের ঘটনাকে কান্ডজ্ঞানহীন আচরন বলেও মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে এলেও গোয়েন্দা সাফল্যের বিষয়টি যেন অন্তরালেই থেকে গেছে,ভারতের বহুল প্রচারিত দৈনিক দি হিন্দুর স্ট্র্যাটেজিক এফেয়ার্স এডিটর (পরবর্তিতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ন্যাশনাল এডিটর) প্রবীন স্বামী এ কথা বলেন।
২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দি হিন্দু পত্রিকায় ইন্ডিয়াস সিক্রেট ওয়ার ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধে মিত্রবাহিনীর গোয়েন্দা সাফল্যের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার গভর্ণর হাউজে জরুরী বৈঠকের শেষ নাগাদ ভারতীয় বিমান বাহিনীর সফল বিমান হামলার বর্ননা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন- ১৪ ডিসেম্বর ,ঢাকার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১১ টা। ভারতের হাশিমপাড়া এবং গৌহাটি বিমানঘাঁটির বৈমানিকদের হাতে হাইকমান্ডের জরুরী নির্দেশনা, ১৫ মিনিটের মধ্যেই ঢাকায় হামলা চালাতে হবে। ঢাকার বেসামরিক এলাকায় যে ভবনটি বিমান হামলার লক্ষ্যস্থল, তারসঙ্গে কোন মিলিটারি কর্মকান্ডের যোগসূত্র নেই। আর স্থাপনা চিন্থিত করার জন্য ভারতীয় বৈমানিকদের হাতে ঢাকার শুধু একটি ট্যুরিষ্ট ম্যাপ রয়েছে।
চারটি মিগ-২১ জঙ্গী বিমান দিয়ে হামলা চালানো হলো, প্রথম হামলাতেই ভবনটির অংশ বিশেষ ধ্বসে পড়লো। এখানে ৩০ মিনিট আগেও ঢাকার তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনরের নেতৃত্বে বেসামরিক প্রশাসনের জরুরী বৈঠক চলছিল। বৈঠকের বিষয়বস্তুু ছিল, পাকিবাহিনীর যুদ্ধবিরতীর বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা (তখনও সারেন্ডার শব্দটি ব্যবহারে পাক প্রশাসনের অনাগ্রহ ছিল) ।
১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার দিনটিতে ঢাকায় কার্যত পাকিস্তানের কোন বেসামরিক প্রশাসন ছিল না। এ সম্পর্কে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বিখ্যাত চরমপত্রের লেখক ও কথক এম আর আখতার মুকুল তাঁর আমি বিজয় দেখেছি গ্রন্থে লিখেছেন- গর্ভনর এ এম মালিক এবং তার মন্ত্রী পরিষদ সদস্যরা ১৪ ডিসেম্বর সকালে গভর্ণর হাউজে বৈঠকে গিয়ে আকস্মিক ভারতীয় বিমান হামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেন এবং পাকিস্তানের স্বপক্ষ ত্যাগ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রেডক্রসের কাছে আশ্রয় নেন। সেটিই ঢাকাতে পাকিস্তানের বেসারিক প্রশাসনের শেষ বৈঠক ছিল। হামলা শুরু হলে মালিক এবং তার মন্ত্রীসভার সদস্যরা পাশেই একটি কংক্রীটের ট্রেঞ্চে আশ্রয় নেন।
৭৪ বছর বয়সের গভর্ণর মালিক একজন বিদেশি সাংবাদিকের থেকে কাগজ কলম চেয়ে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেঞ্চে বষেই পদত্যাগ পত্র লিখেন। সে সময় তার সমস্ত শরীর কাঁপছিলো।