ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

স্বাধীনতা যুদ্ধে নরসিংদীর মুক্তিযোদ্ধারা বীরোচিত ভূমিকা পালন করে

নরসিংদী, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা যুদ্ধে নরসিংদীর মুক্তিযোদ্ধারা বীরোচিত ভূমিকা পালন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে জেলার জনগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দেয়।
২৫ মার্চের কালো রাতের পর মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে স্থানীয়রা একটি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। ছাত্রসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার প্রস্তুতি নেয় এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেয়।
২৫ মার্চ তিন সহস্রাধিক ইপিআর সৈন্য, পুলিশ, আনসার লঞ্চে করে নরসিংদী পৌঁছে। ট্রেনে করে আসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এসব অস্ত্র গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান।
প্রায় এক হাজার যুবক ও ছাত্র অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যাওয়া শুরু করে।
পাকিস্তানী বাহিনী ৪ ও ৫ এপ্রিল জেলার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায়। এই নির্বিচার হামলায় প্রায় ২০০ নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড নরসিংদীর স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের মনোবল দলাতে পারেনি।
এখানে প্রথম গেরিলা প্রতিরোধ হয় ১৪ এপ্রিল মাধবদীর কাছে বাগবাড়ি ও পালবাড়ি নামক স্থানে। এদিন পাক বাহিনী স্থলপথে নরসিংদী দখলের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে।
এই প্রতিরোধ যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মিরাজউদ্দিন, মীর ইমদাদুল হক ইমামউদ্দিন, আব্দুল মান্নান, আব্দুল হামিদ, আকতার হোসেন, আবুল হোসেন, শামসুল হুদা বাচ্চু, বজলুর রহমান, গাউস আালী মাস্টার, আলী আকবর ও মোতালেব পাঠান।
এর একদিন পর পাক বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আবার হামলা চালায়। তাদের ব্যাপক গোলাবর্ষণের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্থান থেকে পশ্চাৎপসারণ করতে বাধ্য হয়। এরপর পাক বাহিনী জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
জেলার ৬ উপজেলার ১৫টি স্থানে পাক বাহিনী তাদের দোসর রাজাকারদের সহায়তায় বহু লোককে হত্যা করে। ৯ মাসে শহর ও শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহু লোককে পাক বাহিনী হত্যা করে এবং লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। তাদের হত্যাকাণ্ডের প্রধান জায়গাগুলো ছিল নরসিংদী টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, শ্মশানঘাট ও খাতাহারা সেতু, শিলমান্ধি, তারা পুকুরপাড় ও জিনেরদি।
দোসরদের সহায়তায় পাক বাহিনী নরসিংদী সরকারী কলেজের অধ্যাপক সরোজ কুমার অধিকারীকে অপহরণ করে এবং নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে।
নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধা ও পাক বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় বেলাবো উপজেলায় আাঁড়িয়াল খাঁ নদের পাশে নীলকুথি এলাকায়। এ যুদ্ধে ৩৫ জন শহীদ হন। এদের মধ্যে ছিলেন সুবেদার আবুল বাশার, মমতাজ উদ্দিন, আবদুস সালাম, আব্দুল হক ও আব্দুল বারি। আাঁড়িয়াল খাঁ নদের তীরে তাদের লাশ কবর দেয়া হয়।
১২ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর সঙ্গে শেষ যুদ্ধে নরসিংদী মুক্ত হয়। এই যুদ্ধে জানা-অজানা বহু মুুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
১০ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা চারদিক থেকে শত্রু ক্যাম্প ঘিরে ফেলে। এই ব্যাপক হামলা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে পাক বাহিনী কোন যুদ্ধ ছাড়াই ১২ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে।