ঢাকা, শুক্রুবার, জানুয়ারী ১৯, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : এমপিও ভূক্তির জন্য শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রয়োজন নেই : আইনমন্ত্রী   |    বিভাগীয় সংবাদ : যশোরের সাগরদাঁড়িতে আগামীকাল শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা * মাগুরায় ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে চার লেনের কাজ এগিয়ে চলছে   |   শিক্ষা : ঢাবি সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে ঢাকা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ আগামীকাল   |    জাতীয় সংবাদ : নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি জনপ্রিয়তা যাচাই করতে পারে : হানিফ * তারুণ প্রজন্মকেই আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : শিরীন শারমিন * বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বের শুরু, তুরাগ তীরে মুসুল্লিদের ঢল * আইভীকে দেখতে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদের   |   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারে উড়োজাহাজ তৈরি করেছে গোপালগঞ্জের কিশোর আরমানুল ইসলাম   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : দ.কোরিয়ায় অগ্রবর্তী বাদকদল পাঠাবে উ.কোরিয়া * আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৮ জঙ্গি নিহত * ইরানের পারমাণু চুক্তির শর্ত কঠিন করাই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের লক্ষ্য   |   আবহাওয়া : আবহাওয়া শুষ্ক এবং রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে   |   খেলাধুলার সংবাদ : বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩২০ রান * নিউজিল্যান্ডে হোয়াইটওয়াশ হলো পাকিস্তান * অ্যাসেনসিওর বিলম্বিত গোল চাপমুক্ত করেছে জিদানকে * শ্রীলংকার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং-এ বাংলাদেশ   |   

মুক্তিযুদ্ধে নরসিংদীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা

॥ মোহাম্মদ আবু তাহের ॥
নরসিংদী, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রাজধানী ঢাকা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নরসিংদীর ছিল গৌরবান্বিত বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে এ জেলার মুক্তি পাগল অনেক লোক মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছেন।
২৫ মার্চ কালো রাতের পর মোসলেউদ্দিন ভূঞার নেতৃত্বে নরসিংদীতে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মাতৃভূমি রক্ষার্থে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
এসময় পুলিশ, আনসার ও ইপিআরের তিন শতাধিক সৈন্য লঞ্চযোগে নরসিংদীতে এসে পৌঁছায়। একই সময়ে ট্রেনযোগে অস্ত্র ও গোলাবারুদও পৌঁছে যায়।
ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের নেতৃত্বে সেদিন অস্ত্রগুলো গ্রহণ করা হয়। ওই রাতেই প্রায় এক হাজার ছাত্র ও যুবক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়।
তখন ছাত্র ও যুবকরা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে সীমান্তের ওপারে যাওয়া শুরু করে এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ চালানোর প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আসে।
নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী ৪ ও ৫ এপ্রিল বিমান থেকে বোমা হামলা চালায়। তাদের এই নির্মম হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ২শ লোক নিহত হয়। এই হত্যাকা- নরসিংদীর মুক্তিপাগল জনতার চেতনাকে দমাতে পারেনি।
স্থলপথে এসে ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী নরসিংদী দখলের চেষ্টা চালালে মাধবদীর কাছে বাগবাড়ি ও পালবাড়ি এলাকায় প্রথম গেরিলা হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় বোমা হামলায় দুজন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।
এই প্রতিরোধে যে সব মুক্তিযোদ্ধা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তারা হলেন মীরাজুদ্দিন, মীর ইমদাদুল হক, ইমামুদ্দিন, আবদুল মান্নান, আবদুল হামিদ, আকতার হোসেন, আবুল হোসেন, শামসুল হুদা বাচ্চু, বজলুর রহমান, গোয়েস আলী মাস্টার, আলী আকবর ও মোতালেব পাঠান।
এর একদিন পর পাকিস্তানি বাহিনী আবার ফিরে এসে তীব্রভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর বোমা হামলা চালায়। তখন মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে এসে তাদের ক্যাম্প নরসিংদীর অন্যত্র সরিয়ে নেয়।
পাকিস্তানি বাহিনী তাদের সহযোগী রাজাকারদের সাহায্য নিয়ে অনেক লোককে হত্যা করে। তারা জেলার ছয়টি উপজেলার ১৫টি স্থানে জবাইখানা স্থাপন করে।
নয় মাসের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী নরসিংদী শহর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে ধরে এনে হত্যা করে মেঘনা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিতো।
বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজনকে অপহরণের পর নরসিংদী টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, শ্মশান ঘাট ও খাতাহারা সেতুতে এনে প্রতিনিয়ত হত্যা করতো। এই তিনটি স্থান ছিল তাদের হত্যাকা- চালানোর অন্যতম কেন্দ্র।
নরসিংদী পৌরসভা ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জে বসে প্রতিটি জবাইখানার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতো।
অনেক মুক্তিকামী জনগণকে পাকবাহিনী হত্যা করে শিলমান্দি, তারা পুকুর পাড় এবং জিনারদিতে গণকবর দিয়েছে।
পাকবাহিনী তাদের দোসর দালালদের সহযোগিতায় নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যাপক সরোজ কুমার অধিকারীকে অপহরণ করে হত্যার করে এবং পরে কবর দেয়।
নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বেলাবো উপজেলার নীলকুঠির আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচারে চালানো গুলিতে সাবদার আবুল বাশার, মমতাজ উদ্দিন, আবদুস সালাম, আবদুল হক, আবদুল বারিসহ ৩৫ জন মারা যান। তাদেরকে আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে সমাহিত করা হয়।
একই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী রায়পুরা বাজারেও তা-ব চালায়।
মূলত ১০ ডিসেম্বর রাতেই মুক্তিযোদ্ধারা কয়েকভাগে পাকিস্তানিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে তাদের মূল অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়ে।
এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের মূল্য ক্যাম্পের চারিদিকে ঘিরে ফেলে আক্রমণ করে। ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আর যুদ্ধ না করেই আত্মসমর্পণ করে। বিজয় দিবসের চারদিন আগে নরসিংদী মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে।